মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩

উত্তর সম্পাদকীয় - ৩য় বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা

উত্তর সম্পাদকীয়
অরিন্দম চন্দ্র



শুভ বিজয়া দশমীর নমস্কার।এই ওয়েবজিনের স্ক্রীনটাকে আপনাদের পা ভেবে পেন্নাম ঠুকলাম,আশির্বাদটাও সেভাবেই পাঠান।আসলে চ্যানেলে চ্যানেলে সারাদিন সারারাত ধরে মা দুগগার প্রচার,বিলিব্যবস্থাটা তেমনই কেমন যেন যুৎসই বলে মনে হল।

আজ্ঞে হ্যাঁ, বাংলার টিভি চ্যানেলগুলোর আদিখ্যেতা দেখেই বলছি।চারদিন কাগজ বন্ধ,না থাকলেও উলটপুরান হত,মনে হয় না।মরুক গে,বাংলার তাবড় তাবড় চ্যানেলগুলো যখন গোপালপুরের দিকে যাচ্ছে তখন সমুদ্রঝড় “ফাইলিন” প্রায় ফুরিয়ে যায় যায় আর কি।অথচ এরা না কি বড় বড় কর্পোরেট মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত।মানে দুনিয়া জোড়া খবরের সাম্রাজ্যে এদের অবাধ বিচরণ।প্রায় সব কটা চ্যানেলেই দেশ দুনিয়ার খবরের অনুষ্ঠান থাকে,নিয়মিত।আর যে চ্যানেলের কেষ্টবিষ্টুরা লন্ডন,সুইৎজারল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের দুগগাপুজো কভার করতে ব্যস্ত তাঁদের তথাকথিত নেটওয়ার্ক ওড়িশা বা অন্ধ্রে ঠিক সময়ে না পৌঁছলে গালাগালটা কি সাধে আসে।

পাশাপাশি,ন্যাশনাল চ্যানেলগুলোর কথা বাদ দিন,স্থানীয় ওড়িয়া বা তেলুগু চ্যানেল,নিদেনপক্ষে লোকাল কেবলওয়ালাদেরকে দেখলাম----“হ্যাটস অফ” খুব কম দামী বিশেষণ হতে বাধ্য।স্থানীয় কেবলের নাম না জানা ছেলে মেয়েরা যে বিপদ মাথায় নিয়ে পড়ে রইল মাটি কামড়ে,সাথে সাথে জাতীয় চ্যানেলের অঞ্চল ভোরা,অরুনিমা,কানওয়াল বা সম্বিত,মিডিয়ার সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাটা আবার সামনে এল।বিপনন-বিজ্ঞাপন সর্বস্বতার পাশেও কমিটমেন্ট আর পেশাদারীত্বের মুনশিয়ানা—প্রত্যক্ষ করেছেন সকলেই।

এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই যে বাংলার চ্যানেলের উপরোক্ত গূণগুলো নেই।পঞ্চায়েত এ দেখেছি,লোকসভায়,বিধানসভায়,রোজকার আলোচনার নামে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি---সব কি অনায়াস দক্ষতার সাথে সামলে নেয় এই ভূমিপুত্র সাংবাদিককূল বা তাদের নিয়োগকর্তা চ্যানেলগণ,এ সবই প্রত্যক্ষ।এহ বাহ্য,ইস্কুলের ভোটে পুলিশকে গুলি করে খুনের লাইভ টেলিকাস্ট কে ভুলবে?

তবে গোলটা বাধছে কোথায়??সাবালকত্বের অভাব,তা তো নয়।আজকের কর্পোরেট শাসিত মিডিয়াকুল ভীষণ ভীষণ ডিসিপ্লিন্ড।এখানে প্রতি পদক্ষেপে দায় বা দায়িত্ব এক চুলও এ-দিক ও-দিক হয় না।ওপর থেকে নীচে বা নীচে থেকে উপরে—সর্বত্র নিক্তি মেপে চলা।

আসলে এখানেই সেই গ্র্যান্ড ডিজাইনটা সামনে চলে আসে।দুগগাপুজো আমাদের সামাজিক উৎসব আর গোটা রাজ্য জুড়ে এই সময়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার হাতবদল হয়।সত্যি বলতে কি আজ এই পূজার বাজার দুনিয়া জুড়ে।তাই কাউকে নিজের কাজ ফেলে ২৭৩ টা পূজার উদবোধন সারতে হয়,তার পেছনে ছোটে বুম হাতে চ্যানেলের দল,লাখ লাখ টাকার পুরস্কার,স্পনসরস---বিপনন,বিপনন,বিপনন।সব দায় আর দায়িত্ব ভাগ করা আছে।আমার ছেলেপুলেরা কেউ পুরী,কেউ গোপালপুর কেউবা কলিংগপতনম ছুটবে,তুমি ভিসার ব্যবস্থা কর জুরিখের। আমি নয় লাখ লোকের গৃহহীন অবস্থাটা দেখাব,তুমি ঢাক পিটিয়ে ধুনুচি নাচো।গোটা পূর্ব উপকূলের একটা বিশাল এলাকা যখন ধ্বংসস্তুপ তখন সব কটা বাঙ্গালীর এন্টারটেনমেন্টের দায়িত্ব তোমার।আহা বেচারাদের সোমবচ্ছর কত কিছু নিয়ে ভাবতে হয়-দাদা থেকে দিদি,পাহাড় থেকে সাগর---চেটেপুটে খাক এই চারটে দিন,মেতে থাক উৎসবে।কেউ যদি শুধু ল্যাদই খেতে চায় তার জন্যও আয়োজনের কমতি না থাকে,সেটার খেয়ালও রেখ।

কেউ একজন বলেছিলেন আমরা সেই কথাই ভাবি যা আমাদের খবরের কাগজ ভাবতে বাধ্য করে।কাল ভেদে এখন কুশীলব বদলেছে,ভাবনাটা অবিকৃতই আছে।



কবিতা - রাজর্ষি মজুমদার

আলেয়ান্ধকার
রাজর্ষি মজুমদার



কিছু রাস্তা আলাদা করে রাখা থাকে আমার – আয়েস করে হাঁটার জন্যে। যখন ব্যাস্ততা থাকে ঐ রাস্তা মাড়াইনা পরাতপক্ষে , হয়ত অস্তিত্বের সংকট হতে পারে।

কেউই প্রস্তাব রাখেনি , প্রকৃত বা চূড়ান্ত কোনও ধরনেরই নয় – যে আমার অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা উচিত।

অন্ধকারের এক নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে। উত্তরে আট গজ বিস্তৃত ও পশ্চিমে তিন ছটাক পরিমাণ ব্যাপ্ত হলেও এর স্বাধীনতাকে কোনভাবে অস্বীকার করা যায়না। আমার চূড়ান্ত স্বাধীনতাপ্রেমী শরীর তাই অন্ধকারেই ফিরতে পছন্দ করে – পেটে ঠাণ্ডা অন্ধকার লাগাতে লাগাতে। অন্য রাস্তার আলোর নুন্যতম কম্পন ও কল্পনা বাতিল করে দিই ; প্রকৃত প্রস্তাব থাকা সত্বেও।

কবিতা - রৌপ্য রায়

যদি পরিচয় পাওয়া যেত
রৌপ্য রায়



যদি পরিচয় পাওয়া যেত
জনসমুদ্রে তোমায় নাম ধরে ডাকতাম
দশ বিশ টা মাথা হয়তো উঁকি দিত না পিছনে ।
চিনতে হত না হাজার ভিড়ে ।

যদি পরিচয় পাওয়া যেত
তোমায় ঠিকানা ধরতাম
অচেনা গলিতে খুঁজতে হত না আর ।
লোকের মুখে বলতাম না তোমার নাম

যদি পরিচয় পাওয়া যেত
না ভেবেই নীল সমুদ্রে ডুব দিতাম
ঝিনুক গর্ভে মুক্তা খুঁজতে
তোমায় দেব বলে ।



কবিতা - শুভজিৎ ঘোষাল

গঙ্গা
শুভজিৎ ঘোষাল



জীবন্ত চিন্তা দেখেছ, লাশের ঢেউ
দূষনের আত্মগোপনের টের পাইনি কেউ
ভালবাসাও আত্মগোপন করেছে
যৌনতার খামখেয়ালিপনায়, বেহিসাবী মৃত্যুর পথে
সে নদীর পাশে... গানের ধারে আমার প্রিয়তমা গঙ্গা।

কবিতা - কবিরুল ইসলাম কঙ্ক

প্রেম
কবিরুল ইসলাম কঙ্ক



যদি দিই সমস্ত পরশ
যদি দিই প্রেম,
যদি হই পাগলা নটন
যদি হই হেম ।

তুমি তো বোশেখ বাতাস
আসা এবং যাওয়া,
আমি যে জীবনের স্রোত
হয় না ছুটি চাওয়া ।

তুমি সেই ঝরনা উছল
পড়েই হলে সারা,
আমি মাতাল সাগর ঢেউ
গতির মধ্যে হারা ।

এরই মাঝে রেখেছি তুলে
আমার যত কাঁদা-হাসা
যদি দিই হৃদয় তোমায়
যদি হই ভালোবাসা ।

কবিতা - ইন্দ্রনীল তেওয়ারী

প্রলাপের রঙ
ইন্দ্রনীল তেওয়ারী




কি আর পড়বেন বলুন!
সব লেখা থাকে না চোখের সামনে।
কিছু চিঠি ফেলে আসা ডাকঘরে,
কিছু এস এম এস আঙ্গুল ছুঁয়ে
জলের ভেতর ঢুকে যায়।
#
অথচ দেখুন কি মুশকিল,
জলের রঙ হয় না,
জলের রঙ হয় না!

কবিতা - বিদিশা সরকার

ভাত কাপড়
বিদিশা সরকার



অরণ্যের কাছে ছায়া ভিক্ষা করিনি কখনও
ঢেউ'এর কাছে সমকামিতাও নয়
শুধু অন্ধকারের কাছে আরো অন্ধকার
আমি দেওয়ালকে বলেছি যেখানে আছো
সেখানেই থাকো, এগিয়ে এসোনা
সমস্ত রঙের মধ্যেই যখন একটু একটু করে রক্ত মিশিয়ে দিচ্ছিল
রক্তশূন্যতার কথা আমার মা'কেও জানতে দিইনি
মোজার দুর্গন্ধ নাকে চেপে ধরতে
ফুলপিসিমার বেডসোরের গন্ধ পাচ্ছিলাম
যে মাঝরাতে ডুকরে ডুকরে কেঁদে বিরবির করতো
একটু ভাত দেবে? ভাত?
আমি শুনতে পাই
প্রত্যেকটা সিঁড়ি যেন আমাকে বলছে "সাবধান"
আর সাবধানতা রক্ষা করতে গিয়ে
ভেঙ্গে ফেলছি একেকটা বিবাহবার্ষিকী
ইন্সিওরেন্সের পলিসি, সেভিংস --
একটু ভাতের জন্য

কবিতা - সুমনা গড়াই

শারদীয়া
সুমনা গড়াই




ট্রামলাইন ধরে একাকিত্বের উৎসবে হাটি
আবহে : অন্তর্বাহিনী নদীর আর্তনাদ।
এ শহর বুড়ো হয়েগেলেও প্রসূ্তিসদনে তালা পরেনা কখনও,
মানচিত্র ছাপিয়ে ঢাকের ডাক পৌঁছোয় ভিনগ্রহে।
এত কোলাহলে আমি শুনতে পাইনা কিচ্ছু
একটিও শব্দ পাইনা তেরোটা শারদ সংখ্যা ঘেটে,
যে দুপুরে বিপদজ্জনক বাড়ী ভয় দেখান ভুলে ঘুমিয়ে পরে
পালিয়ে যাই পাখির পালকে উড়ে...
এক পুকুর শব্দে ডুবিয়েদি মাথা... শরীর আস্তে আস্তে...
এ উপসংহার পরেনা কারো তৃতীয় চক্ষে।
আক সাজসজ্জায় মোড়া মরনের আল্হাদী

কবিতা - প্রলয় মুখোপাধ্যায়

কলা
প্রলয় মুখোপাধ্যায়


দাদুরা কলা বেচতেন গণ্ডায়, ছড়ায়। আমাদের সময় ডজন বিখ্যাত হল। এখন দেখছি কলা আর যৌথ ভূমিকায় নেই। সিঙ্গেল পিস তিনটাকা। মানে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ । কেননা কলার নিজস্ব ওজন, উচ্চতা সাম্রাজ্যের মত ফুলে উঠলে যে সমস্ত ছাগল খোসা খেয়ে ঋদ্ধ হত তারা নিজেরাই আজ মোচার জন্ম দিচ্ছে। সুতরাং কলা কমলালেবুর দাবী নস্যাৎ করবে এ তো জানা কথা। এদিকে আগামী ভোরে কমলার থেঁতো বীজ থেকে নাকি নতুন কাঁঠালি চারার জন্ম হয়েছে!কমলার ডালে ঝুলন্ত মর্তমান দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে পৃথিবী। নিয়ম হয়ে উঠছে সব কিছু লম্বা আর মোটা হতে হবে। যা কিছু গোল তার মাঝখানে একটা করে কলা গজিয়ে উঠবেই। এই দন্ডসুলভ আচরণে একদিন সবকিছু পিটিয়ে লম্বা হচ্ছে। কুঁকড়ে থাকা কলা গুলো রাতারাতি ফুলে উঠছে। এখন চাঁদ, সূর্য, নক্ষত্র, ধূমকেতু সব এক একটা কলা। যেমন সমস্ত কলাদের মধ্যে মস্ত বড় থাকে, তার খুব মন হল আজন্ম কাল ধরে ফুলতে থাকবে। ও ফুলছে তো ফুলছে। ছোটোরা হাত তালি দিচ্ছে, মেজরা হাততালি দিচ্ছে, ছাগল গুলো খোসা খাওয়ার অপেক্ষায় ঋদ্ধ হচ্ছে। একসময় মস্তের মনে হল ওকে ফুলে ওঠার অধিকার কে দিচ্ছে? সেই প্রথম কলাটি ভয় পায়। আসলে ও বিশাল কালো অন্ধকার গর্তের মধ্যে ফুলছিল। যা আদতে টুকরো কমলার খোসা ছাড়া কিছু না।

কবিতা - মৃন্ময় মীযান

নেশা
মৃন্ময় মীযান



কৌশলে বন্দী করেছি কিছু নেশার গন্ধ।
আমার ‘অস্থির হতাশা’ নামক অসুখে
ওরা সেবা দেবে।
যে স্বপ্নহীন শূন্যতার দৃশ্য বয়ে নিয়ে চলছিল চোখ,
তাও ধুয়ে মুছে দেবে ওরা।
আমি অলস তন্দ্রায় ঝাপ দেব এবার-নিশ্চিন্তে ।।

কবিতা - সুজিত পাত্র

অরণি
সুজিত পাত্র



গ্রীবা জন্মে ফুটফুটে ফার্ণ হাসলে তাকে অহং বলো
তুমি কি পর্দা সরিয়ে কখোনো দেখেছ
চারটে পায়ের মাঝে চাঁদ কেমন মোচড় খাচ্ছে
ফেনায়িত জ্যোৎস্না ঠোঁটের কষটুকু মুছে নিয়ে
হারিয়ে যাচ্ছে নাইকুন্ডলীর ধ্রুবতারায়...

হিংশুটে পোষাক আর গলনাংকের দ্রুততায়
বীজ ছড়াচ্ছে সমস্ত সর্বনাম ময়
অস্তিত্বের ঝাপটায় মিটমিট করছে উজ্জ্বল
কয়েকটি পদচিহ্ন, দোতারার বাঁশহীনতায়
ভুগছে সমস্ত মুখমন্ডল...

এভাবেই গৌরব আর অন্বিত সকাল
আলিঙ্গনের যন্ত্রনায় আঁকড়ে ধরছে সমস্ত ত্রি-সপ্তক




কবিতা - সরোজ পাহান

লেন - দেন
সরোজ পাহান



মন নামের সাজি টাতে
অনেক ফুল,
কানায় ভর্তি ,উপচে পড়ার অবস্থা নয়।
সবে তো তেইশটা বসন্ত কুড়িয়েছি।

কয়েকটা গন্ধমাখা উজ্জ্বল ফুল আছে ...
পুঁচকি তোর জন্য।
ইস্কুল ব্যাগে রাখলে মধু মধু গন্ধ ছড়াবে।

আমার অনেক বন্ধু আছে , ছিলও সবদিন,
তাদের দায়িত্বে কয়েক টা কুঁড়ি,
ওগুলো তে রঙ ধরানোর কাজ , তোমাদেরই ।

বাকি রইলাম - মা, আমি , আর তুমিও।
সাজির তলায় দ্যাখো
শিশির ছোঁয়া কিছু পাপড়ি ,
ওতে , প্রায় সব ফুলের ই স্বাক্ষর।
হিম গলে জল হবার সময় ,
তুমি হাত বুলিয়ে দিও -- মুখে আর গালে ।



কবিতা - তন্ময় ভট্টাচার্য

মনে পড়ে যায়
তন্ময় ভট্টাচার্য



ছটফটে বিছানায়
বৃষ্টি পড়ছে। গুঁড়িয়ে যাচ্ছে ঢেউ।
শহর ভাসছে ভাসানের কোলাহলে।
অন্ধকারকে মশারির ঘরে আটকে রাখছে
রাত দেড়টার অচেনা শরৎকাল।
মঙ্গলঘট সন্তর্পণে আধবুক গঙ্গায়
স্বপ্ন দেখছে। কাঠামোয় ভাঁটা।
ফুরিয়ে আসছে বিন্দু বিন্দু স্রোত।
গাছ থেকে মায় শরীর অবধি
পাতার কবরে ঢেকে গেলো আগমন

তখনই বোধহয় মনে পড়ে যায় সেই কিশোরীর নাম
বিনা দোষে যাকে ভালোবেসে ফেললাম

কবিতা - সুপ্রিয় মিত্র

সুপ্রিয় মিত্র
নোটিশ


নিভৃতির সাথে সময় কাটানোর জন্যে 'কবিতা' রাজ্যের সরকার নিস্তব্ধতা জারী করেছে।
রাজ্য জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে কলম - পাতা , দায়িত্বে এক বিশেষ অনাড়ম্বর
প্রকৃতি যেখানে শুধু ঘাস - নামহীন ফুল-ফল, আর অনাদরে বেড়ে ওঠা গাছপালা।
তোমরা কেউ পাঁচিল পেরিয়ে এলে পরে, খালি হাতে এসো।
আমার কোনও ঘর নেই। তাই উপহার রাখি না।
ভুল করে আমায় অসামাজিক ভেবো না কিন্তু !

গণতন্ত্রের ঊর্দ্ধে আমি নই....

কবিতা - অভীক রহমান

কথোপকথন
অভীক রহমান



কবিতা - অনিমেষ সিংহ

দুটি কবিতা
অনিমেষ সিংহ



মরণরে

আজ যদি মৃত্যু আসে
পেঁচার ঠোঁটে,
রাতকমল,
প্রতিবাদ ফলাব না তত্ত্ব কথায় ।
সত্যি সত্যি সত্যি ।

তোমার এতো কাছে চলে এসেছিলাম...,
এতো টা কাছে...!
মৃত্যুকে মনে হয়েছে
নীলকণ্ঠ পাখি ।
তোমার চুলের মতো ঢেউ তার,
গহীন কালো রাত ।

আজ যদি বেঁচে নিতে বলে
মায়ের মতন কেউ !
মানবো না স্নেহ গুলো।

মাদকতা লেগে থাকবে চোখে ,
ভোরের শিশির ,
ঠোঁটে থাকবে তোমার নীল ঘাম,
আমার বাদামি চুল মালভূমি নদী-
এই চলে যাওয়াটা হবে
প্রেমিকের মতন গর্বের ।



আমার মাটি

কিভাবে পিশাচেরা ভর্তি হয়ে যায়
আমার বুকপকেটে...!
রেডডেনড্রন ফুটে আছে
ফিনকিতে
তাও লাল।
পরিখার অপারে লোহিত দানব এগিয়ে আসছে ক্রমশ
লালায় হরিৎ ধানের ক্ষেত
আর আমি পই পই করে
বারণ করেছিলাম
চোখে কাজল দিসনা!

এখন ঘেন্না হয়,
সারা মুখে তোর কাজল
স্তনে

চোখে ভরে যাচ্ছে
মহাকাব্যের পাতাগুলি

আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার আগে
চল যন্ত্রগুলো সাফ করে ধান বুনি...

কবিতা – দেবাশিস কোনার

তিনটি কবিতা
দেবাশিস কোনার



পাঁচালি

তোমাকে বলা হয় নি অন্ধকারই জানে নিশ্চয়তার অর্থ

গাড় বিলাপের সুর শেকড় ছেঁড়া অভিমান আর হম্বিতম্বি
যেটুকু সান্ধ্য-বাতাস অবিকৃত ছিল তাও মন্দভাগ্য
বৃষ্টির ধরবিতে গুমট বাতাবরণ খুলে ফেলে
ভাসে আপন খেয়ালে আড্ডা-মুখর পাঁচালি পাঠে
ব্যস্ত দেরাজের এক কোনে পরে থাকা কালবৈশাখী
উপাসনার জতুগৃহে নির্মম সত্য অনাবিল আনন্দ ।

অবিকৃত চুরানো ঝটিকা পাহাড়ে খেয়ালি-পনা
ভক্তি উতলে ওঠা বাসি হেঁসেলের গন্ধ
ঘুম পাপড়ি ডানা মেলে ওড়ে আকাশে
তোমার স্বেচ্ছা-দহন ব্যথা ক্লিষ্ট ক্ষতের চিত্রাঙ্কন ।



দিগম্বরী

কবে তোমাকে জাপটে ধরে নগ্ন হয়ে ঘুমিয়েছিলাম
মনে পরে না এবং আমাদের ভঙ্গুর শরীরের ঘাম
ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল ।আমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে এলাম
আমার হাত তোমার মুখাবয়ব স্পর্শ করল
আর তুমি আমার চোখে হাত রেখেছিলে
ওষ্ঠে চুম্বন এঁকেছিলে দীর্ঘক্ষণ ।

আমাদের রাত্রিবাস খোলা-ছিল আলনায়
তুমি বিছানায় হাঁটু গেঁড়ে বসেছিলে বন্যতা নিয়ে
আমাকে জাগাচ্ছিলে পেটে কাতুকুতু দিয়ে
তোমার মুখনিঃসৃত লালা আমার শরীরে
ফ্যাকাসে নীল ছায়ার ভিতর আমি তখন নৌকা যাত্রী
আমার পশ্চাৎ-দেশ ধনুকের মতো বাঁকা ।

গুমোট ওই পরিমণ্ডল ভেদ করে পিচ্ছিল জল
আমার মুঠোয় । আমি পরিষ্কার মনে করতে পারছি
কোনও দূরবর্তী গ্রামে রাত পাহারাদারের হৈ ডাক
আমার চিৎকারের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল
এমনকি আমি যখন ভয় পেয়ে নীরব হতে চাইছিলাম
তখন তোমার হাতের আঙুলগুলি যেন নাচছিল ।



বাঁচার নির্ঘণ্ট


দাঁড়িয়ে আছি বাসস্টপে একা শুনশান কেউ কোথাও নেই
নিশ্চুপে নিরুপদ্রুপে যেন খাঁচায় বন্দী পাখি
দূর থেকে তাক করে আছে কেউ । লক্ষ্যভেদ করলেই
আমার মাথা থেকে ধর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ।
আমার জীবন এক সুতোর ওপর নির্ভর করে আছে
একটু এদিক সেদিক হলেই তাল কেটে যাবে
জবাবদিহি করবার কোনও অধিকার নেই আমার
মৃত্যু পরোয়ানা লেখা চিঠিতে শুধু সময় সংক্ষেপ
আমি তবুও দমতে পারি না , মনে হয় ঘুরে দাঁড়াই
জানি জীবনে একবার মরতে হবে । তবে কেন মরার আগে মরব ?

বৃষ্টি এসে আমাকে ভেজায় প্রবল ভাবে
এখন আমি বাঁচা মরার সন্ধিক্ষণে অপেক্ষারত
আমার এতদিনের জীবনের সব হিসেব-নিকেশ
চুকিয়ে দিতে হবে । কোনও গড়মিল খুঁজে পেলেই
জারি হবে আদেশনামা । সভ্য সমাজের আমি এখন কলঙ্ক
আমার চারপাশে এখন শকুনের দল ছিঁড়ে খাবে বলে অপেক্ষা করে আছে ।

জীবন বাজি রেখে আমি এখন ডুব সাঁতার দিতে প্রস্তুত
চোরা অভিমানে আমার দেহ থেকে খসে পড়ছে বিদ্যুৎ
লড়াই করতে করতে আমি এখন ক্লান্ত
আমাকে গ্রাস করে নষ্ট চাঁদ
পরিযায়ী ক্ষোভে জর্জরিত আমি
মাদক সেবনের উপকারিতার বিজ্ঞাপন দিলেই মুক্তি ।

কবিতা - শুভেন্দু ধাড়া

শোন মেয়ে তুই শুভেন্দু ধাড়া


-১-
এমন ছিল না, ছিল নব্বই ডিগ্রি দেওয়ালের
চার পাড়ে হতাশার কারুকাজ । বাদিবিবাদী মিনিট গুলো
পথ পায়নি। এমনিতে কোন অনুকম্পাও
আমন্ত্রণ দিয়ে যেত না...

ইতস্তত দরজায় কিছু দুরন্ত ইচ্ছা,
কল কব্জায় মরচে এলে ট্রে উপচে বিম্বিত তুলির
শরীরী ঠিকানায় কার্বনের অধিক জ্বর ।
ধাপে নেমে যেতে যেতে ভিখারি ক্যানভাস
বিবর্ণ রেখায় – একাকী ।

এমন ছিল না, হঠাৎ পাতা ছিঁড়ে অবাধ্য স্পর্শক
এক ঝাপটায় জানালা উল্টে লুটপাট যত ব্যথার আলেখ্য
চাঁদ ছুঁয়ে অভিসারী রাতমগ্ন ঢেউ এলে
নিভৃত ঝাউয়ে তথাকথিত বেনিয়মের দিকে ছুটে যায়
দশ বাই দশের ক্ষেত্রফল ।

এমনও নয় পুরোপুরি - শোন মেয়ে তুই
নীল.. নীল ..নিমগ্ন তটভূমি ফাগুনি প্রতাপে থর থর
কি আছে প্রান্তে ! জানেনা সে জানতে পারেনি
দোলাচলে কখন যে নড়ে উঠল প্লেট বুঝতেও পারেনি
সুনামীতে ভেসেছে কবেই


-২-
পালকে উস্কানির পর
সা থেকে সা’য় ক্রমশ বৃত্তাকার আঙ্গুল ।

অথচ ফ্লাই ওভার অগত্যা ঐকিক নিয়ম অসম্পূর্ণ রেখে
কিছু হাড়পালায় ফিরল সেই রাজপথে ...
স্পষ্টত ঝাঁ চক চকে
জমা খরচে ।

এপারে অবুঝ কাঁচা পথটুকুই ধীরে ধীরে আলস্য ভেঙ্গে যায়
যায় এখনও ফল্গু কথায়- বেহিসাবি দিন ।

ট্রয়ের সীমানা থেকে মৃত্যুবাণ ফিরিয়ে বাতেলা হাওয়া
পিয়ানো ছুঁয়েছে স্বয়ং –পাতা চুইয়ে পড়ছে
টুপ টাপ অঙ্গীকার

চুপ.. শোন মেয়ে তুই – শোন, ঐ চুলের হেলদোল …

কবিতা - অভিষেক রায়

এই বৈপীরত্য অভিষেক রায়


কাল রাতে গির্জায় হানার সময় মৃত্যু হয়েছিল তোমার
কুয়ো থেকে জল তুলতে অনেক কসরৎ করতে হত পাড়ার দিদিদের
মোরগের অবর্তমানে আমি-ই খড়ের গাদার মাথায় উঠে
ভোরের আগমন জানান দিয়েছি বহুদিন
কলকাতায় তখন বার্ড-ফ্লু'র প্রকোপ
ছাদে উঠে আকাশ খাওয়া হচ্ছে না বলে অনুযোগ করেছিলে
সেই বাড়িওয়ালা এসে এখনও অমায়িক তদারকি করে যায়
আমাদের পরিবারের

কাল রাতে জঙ্গি হানায় মৃত্যু হল তোমার
অথচ এখনও তোমার স্তন গরম
এই বৈপীরত্য ঠিক বুঝতে পারছি না

অনুবাদ কবিতা – কৌশিক ভাদুড়ী




অনুবাদ কবিতা
কৌশিক ভাদুড়ী



অনুবাদকের ভূমিকা

শ্রদ্ধেয় কবি রাজেন্দ্র কিশোর পণ্ডা বাবুর পরিণতি-সম্পৃক্ত “দ্রোহবাক্য” গ্রন্থভুক্ত গভীর বোধাশ্রিত কবিতাগুলির অনুবাদার্থে আমার কম্পিউটারে ওড়িয়া ফন্ট না থাকায়; শ্রদ্ধেয় সম্বিদ দাশ বাবু আমাকে যৎপরোনাস্তি আদর প্রদর্শন হেতু; স্বহস্তে বাংলা ফন্টে আপলোড করে কবিতাগুলি পাঠিয়েছেন। আমি সম্মানিত। আমি গর্বিত। আমার সীমিত ক্ষমতাতে অনুবাদ প্রচেষ্টা নিচ্ছি।

শ্রী সচ্চিদানন্দ রাউতরায়ের (১৯১৬-২০০৪) পরবর্তী উত্তরাধিকারত্বে ওড়িয়া সাহিত্যের যে ‘নব্য আধুনিক’ (Neo-modernity) যুগের প্রবর্তন হয়, কবি রাজেন্দ্র কিশোর পণ্ডা তার অন্যতম ধারক। ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষায় কবিতার জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত। পেশগত জীবনে কবি ভারত সরকারের এক আই-এ-এস আধিকারিক ছিলেন, অধুনা অবসরপ্রাপ্ত। কবি রাজেন্দ্রকিশোরের শৈলকল্প কাব্য গ্রন্থটি ১৯৮২ সালে কটকের এক প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত। কাব্য গ্রন্থটির জন্য কবি ১৯৮৫ সালে কেন্দ্রীয় সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

তত্সম শব্দ ওড়িয়া ও বাংলায় অনুরূপ। কবিতা অনুবাদের ক্ষেত্রে যেটা হয়, অনুরূপ বাংলা শব্দ সব সময় সমান্তরাল অনুভূতি বহন করে না। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় কবিতার আত্মাটিকে( স্প্যানিশ কবিতায় বিবৃত—দুয়েন্দে, লোরকা বিভিন্ন সময়ে শব্দটা ব্যবহার করেছেন) সনাক্ত করে ফুটিয়ে তোলাটাই সঙ্গত ও সঠিক অনুবাদ। এখানেও সামান্য দু একটি জায়গায় তাই করেছি। যদিও ওড়িয়া ও বাংলার ব্যুত্পত্তিগত অতিন্নতা স্বীকার করে তত্সম শব্দ অপ্রতিস্থাপিত রাখার দায় আগাগোড়াই থেকেছে।

দ্রোহবাক্য প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালে, কটক থেকে। গ্রন্থভুক্ত কবিতাগুলি অব্যবহিত আগের রচনা।



সিংহদর্শন
রাজেন্দ্র কিশোর পণ্ডা


[অনুবাদ – কৌশিক ভাদুড়ী ]

রক্তাক্ত আর দিগ্ভ্রান্ত হয়ে
আহত সিংহের মতন
সারা অরণ্য দৌড়ে বেড়াতে আমার আপত্তি নেই,
ধূর্ত শৃগালের রাজ্যপাট আমার কাম্য নয়,
কদাপি নয়।

আমার মৃত্যু-ভেদ আমার ও প্রতিবিম্ব ভিতরে কেবল ।

এখনও যথেষ্ট গর্জন আমার কন্ঠে আছে,
নিজের ঘা চেটে নেওয়ার মতন যথেষ্ট লালা আছে জিভে।
অরণ্যানীর মৌন অনুনয়ের মোহে
লোভনীয় ক’টা শিকারকে 'যাঃ' বলে মুক্ত করে দিয়েছি
আমার অধিকারের পাঞ্জা থেকে

তা বোলে ভেব না :
হনন শক্তি অপসৃত হয়েছে নখ, দন্ত ও মন থেকে।

যুদ্ধময় পৃথিবীতে তিষ্টে থাকার সাক্ষ্য
প্রেমময় পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সাক্ষ্য :
ঘা চিহ্ন,
ঘা চিহ্ন না থাকলে অসম্পূর্ণ রয়ে যায় পুরুষ বিগ্রহ।

আমার মৃত্যু-ভেদ কেবল আমার ও প্রতিবিম্ব ভিতরে।

আহত না হলে সংলাপ আমার সিংহীয় লাগে না।
আত্মাকে ধারণ করতে চাই আমি
সম্পদ করে রাখতে চাই আমার ঘা চিহ্ন :
প্রিয় জনের সম্প্রদান,
আমার স্বীকৃতি!

গুম্ফবিহীন সিংহীবিহীন শিকারবিহীন হয়ে
সারা অরণ্য দৌড়ে বেড়াতে আমার আপত্তি নেই,
ধূর্ত শৃগালের রাজ্যপাট আমার কাম্য নয়,
কদাপি নয়।

শুনে রাখো সকলে,
সান্ত্বনা চাই না, শুশ্রূষা চাই না,
চাই না নারী-আসঙ্গের কোমল চরণ
আমার আর্তি
সখ্যতা হলে হয়ে যাক মহিষের সাথে!
আমাকে বাহন পেতে অভিলাষী দেবীর থেকে
আমার আহত পা থেকে এক দিন
কাঁটা নিষ্কর্ষিত করা মানুষ
নিশ্চই মহত্তর।

আমার জটা আমার ছটা আমার গতি আমার রতি
আমার আহার আর বিহারে আমি গর্বিত !
প্রত্যেক ঝম্পে হামড়ে পড়ে

অহরহ আহততর হতে আমার
শোচনা নেই।

আমার মৃত্যু-ভেদ কেবল আমার ও প্রতিবিম্ব ভিতরে,
যাকে আমি আজও দেখিনি।
দর্পণ দেখার আমার সময় কই!

অশোকস্তম্ভের ওপরে আমার ব্যাঙ্গচিত্র সেঁটে
পরাজিত করা যাবে না আমাকে।

সিংহবাহিনীর রূপের সাথে চাই না মানানসই হতে;
বরং যদি পার, কিছুটা নরত্বের সাথে

আমাকে বিবর্তিত হতে দিও; নৃসিংহ ঢঙে
নিজেকে নিজের কোলগত করে
ছিঁড়ে খুঁড়ে বিদীর্ণ করে দিতে।

যদি না পার ব্যস্ত হয়ো না,
এই আমি বেশ অছি ।
গুম্ফবিহীন সিংহীবিহীন, রক্তাক্ত আর দিগ্ভ্রান্ত হয়ে
সারা অরণ্য দৌড়ে বেড়াতে আমার আপত্তি নেই,
ধূর্ত শৃগালের রাজ্যপাট আমার কাম্য নয়,
কদাপি নয়।

আমার মৃত্যু-ভেদ আমার ও প্রতিবিম্ব ভিতরে ।
দর্পণ মুখোমুখি হও,
দেখ আমার প্রতিবিম্ব ঠিক তোমার মত দেখাচ্ছে।
স্তম্ভের ভিতরে নিরীক্ষণ কর : দেখ কেশরী বসে আছে...
আহত সিংহের মতন বেঁচে থাকতে আমার আপত্তি নেই, আপত্তি নেই ...

English poetry - Indrani Sarkar



English poetry
Indrani Sarkar

Sweetheart of Delight
==================
Oh my sweetheart of delight,
love you truly day and night.
The day I first met you,
brokenhearted I found a nest, new.
You embraced me with your loving eyes.
You let me free back again to the skies.
You lifted my soul very softly
and adored me so very deeply.
I am moved by your slender attitude.
I offer you my love and gratitude.
Promise me not to break my heart.
From me you will never be apart!

2.

The Yellow Moon
===============
Last night I saw the moon beautifully
curved by an expert artist, unknown.
The yellow of the moon reminded me
of a canary bird sitting on a blue-stone.
Next to the moon shines an orphan star,
longing to touch her beauty, yellow.
The distance could not keep them apart
as there exists a bridge within the hollow.

3.
Soul Ecstasy
=================
Night is creeping in as
I look from a meadow.
Trees are whispering with
the breeze in the dark.
The distant sky goes
to deep meditation.
All quiet in the Earth!
The moon is the only
source of light and purity.
I see no trace of any mark
on her as she shines gloriously.
I along with the sky get dissolved
in this auspicious solitary moment.....
A harmonic soul ecstasy!!

4.
The Evening Sky
===================
The sky has turned to orange
in this beautiful sunset evening,
The sun is encircled by a yellow ring,
a rare and eye-soothing scene.
The darkness captures the valley
hiding all the traces of scars,
A tree standing on the meadow
prepares herself to write a memoir.
She spreads out her branches
towards the distant orange sky.
This momentum dissolves me
in a drunken hypnosis as I pass by.

ধারাবাহিক – সুবীর সরকার

এপিটাফ
সুবীর সরকার



৪০।

ধনীরাম হেঁটে আসছে এক অন্তহীনতা নিয়ে হাওড়হাওয়ার দিকে।নিশারাত্তিরের ছমছমে অনুভূতি জড়িয়ে মায়াময় হয়ে উঠতে চাওয়া পৃথিবীর অতিঘোর বিস্তারের বহতায় আকাশজোড়া মেঘের চলনবিচলন ও একাকীত্বের অসহাতায় তার কেমনতর হয়ে ওঠা জীবনের রহস্যকে মাঠের মধ্যে বাজিকরদের তাঁবুতে যৌথ কোলাহল সংগীতধ্বনীতে বিমনা হতে হতেও কিভাবে যেন টাল খাওয়া স্বপ্নগুলি বারবার জেগে উঠতে থাকে স্মৃতিকন্দরে।দূরের গাঁ-গঞ্জে তখন হিমস্তব্ধতা।কুকুরের ডাক। মিটমিট লম্ফআলো।বাঁশবাগানের ভিতর সাপখোপ ফিসফিস সংকেতভাষ্য। ধনীরাম দ্বিধাগ্রস্থতা থেকে সামান্য সরে এসে দ্রুতগামী হয়।মাথার তন্ত্রীতে জেগে থাকে ব্যাপারীপাইকার পেঁয়াজ হলুদ পুঁইপাতা টাড়িবাড়ির ধুলোমাখা মানুষজন।সব মিলিয়ে গমগম করে ওঠে যেন আস্ত একটা নাথুয়ার হাট।জঙ্গলঘেরা।চা-বাগান ঘেরা।ভূটান পাহাড়ের কোলঘেঁষা।হাট থেকে দু’কদম দূরে আঞ্চলিক নদী,বামনীঝোরা আর পিয়ারুদ্দিনের মহিষবাথান।পিয়ারু তার ইতিহাস ও আখ্যান মেখে জেগে উঠতে চায় স্পষ্টতর দিবালোকের মতো।বাথানের ভিতর মহিষের গালার ঘান্টি এবং আকালু বর্মণের গান যুগপৎ ভেসে ওঠে-‘ওরে বাথান বাথান/করেন মইশাল ও/ও মইশাল/বাথান কইচ্চেন বাড়ি/যুবা নারী ঘরত থুইয়া/কায় করে চাকিরি/মইশাল ও.’..।

গানের সুর আবহ শিল্পোর্ত্তীর্ণ হয়ে ওঠে কারণ ঘান্টির বাইজন যেন বাদ্যবাইজের ঢেউ ছড়িয়ে দেয়।রাত ঘন হয়।ধনীরাম ঘাড়ের গামছায় মুখ মুছে বাড়ির সদরে উঠে আসে।



৪১।

জন্মজন্ম ধরে জন্মান্তর পেরিয়ে এভাবেই তো ধনীরামদের বাঁচা;বেঁচেবর্তে থাকা।ধনীরাম,ধনীরামের মতোন করে এই আকাশবাতাসপরিধীর ভিতর অতিজীবিত করে ফেলতে থাকে যাপনটুকুন।শরীরের ভাঁজে ভাঁজে কম্পনরেখাসূত্র ধরে কিংবদন্তী থেকে খুঁজে আনতে থাকে লোককথার দর্শনদর্পণ কাজলটানা এক সময়পরব। যেখানে স্বাদু জলের আঞ্চলিক মাছেরা ঘাই মারে।জালুয়ার জাল ফেটে বেরিয়ে যেতে চায় মহাশোল।পূজাবাড়ির উৎসবমুখরতায় স্তব্ধতা এনে দেয় জঙ্গলের প্রসারতা থেকে ছলকে আসা ২১ হাতির দঙ্গল।

বিলপুখুরির শিথানে দেহতত্বের আখড়া বসায় অধিকারি।জোড়শিমুলের ডালে ডালে স্পন্দন তোলে গানের সেই বিষাদসুরটুকু_’একবার হরি বলো মন রসনা/মানব দেহাটার/ গৈরব কৈর না’...

জীবনের সহজ প্রশ্নসমুহ কি ধনীরামকে বিচলিত করে?না কি জায়মানতা থাকে না কোথাও তবু জায়মান মাঠপ্রান্তরের ভিতর হালবলদগরু নিয়ে নেমে গিয়ে হলকর্ষণে মেতে ওঠা।৪০/৫০ শরত হেমন্তের আগেকার দিনগুলির মায়ামেদুরতায় আচ্ছন্ন হতে হতে ধনীরামের স্মৃতিঝিল্লিতে ভেসে ওঠে পিরডাঙ্গার সাজুবিল-এ ‘বাহপরব’,মাছ ধরার উৎসব।জোতদারের খোলানে ধান লুঠের মেলামিছিল।নুরুদ্দিন জোতদারের খুটার বন্দুকের সে কি বিক্রম!বিগত সব দিনগুলি আগিলা মানষিলা সব কেমন হাওয়া!উধাও।ধনীরাম বিষাদ্গ্রস্থতা থেকে বেরিয়ে আসতে না চাইলেও জীবন তাকে বাধ্যতই এই চিরসত্য দার্শনিকতায় একপ্রকার পৌঁছেই যেন দেয়।