শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ২য় বর্ষ, ১০ম সংখ্যা

সম্পাদকীয়


আজ বৃষ্টি আসুক বা না আসুক জানি তুমি আমি দূর শহরের বাসিন্দা। দাঁড়িয়ে আছি কাঁটাতারের বেড়ার মাঝে। যেখানে আমরা আসতে পারি অথবা নাও আসতে পারি। তোমার আমার পরস্পরের প্রতি কারোরই কোনো দাবী খাটবে না আর কোনোদিন। তবু কবিতা ছিল আছে থাকবে। কাঁটাতারের কাঁটায় কাঁটায় ফুটিয়ে তুলবে রসকলি। এখন বৃষ্টিঋতু। বৃষ্টি আসুক বা না আসুক জানি তুমি আর আসবে না কোনোদিন। তবু যে কটাদিন কাটিয়ে গেছ আবিশ্ব বাংলায়, ভিজিয়ে দিয়েছ সম্পর্কের ইতিহাস, জারিত করেছ বিরহ রঙ আগুনে আগুনে। ফাগুনে ফাগুনে। আজ বৃষ্টিঋতু। বৃষ্টি আসুক বা না আসুক জানি তুমি ছিলে, তুমি আছো, থাকবে। ফিরে ফিরে আসবে ষড়্‌ঋতুর সমস্ত রঙ্গ নিয়ে।

বৃষ্টির ঝাটে এলোমেলো মন। সূচিপত্রের পাতাটিও ভিজে গিয়ে ঝুপ মেরে বসে আছে একঘর মনখারাপের ভিতর। বর্ষায় সব বন্ধুদের না পাওয়ায়। খালি খালি লাগছে মনের মধ্যে। ধূ ধূ ফাঁকা মাঠের মতোই আকাশও আজ বিষণ্ণতা ঢেলে দিয়েছে আমাদের অন্তপুরে। জানালার কাঁচ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে বৃষ্টিরেখা। তার পিছু ধরে বহু বহুদূর চলে যায় মন ও মানুষ। তবু যখন বৃষ্টি নামে মনে পড়ে যায় বৃষ্টিতে হেঁটে যাওয়া মানুষের কথা।


আর মনে পড়ে, যাঁরা এখন শুধুই বৃষ্টি দেখে। ঘষা কাঁচের আড়াল থেকে দেখে এক জানলা ভেজা আয়ত পুরুষ-প্রকৃতি, দেখে কাকভেজা বারান্দাটার গায়ে লেগে থাকা এলোমেলো আকাশের প্রতিচ্ছবি। যাঁরা ভিজে যাওয়া পাখিটার আর ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আকণ্ঠ পান করে মন ভরে... অথচ তাঁরাই বৃষ্টিতে হেঁটেছিল কোনো এক বৃষ্টিকালে। এবং যাঁরা বৃষ্টিভিজে হাঁটতে চায় আরো আরো আরো বৃষ্টিপথ। এগিয়ে যেতে চায় পরশমণির আনন্দে। হয়তো একদিন যাঁরা স্থান করে নেবে মেঘ-বৃষ্টি-আকাশের অন্তরাত্মায়। এই সব নিয়েই তো আমাদের সক্কলের “ক্ষেপচুরিয়াস”। যে জানে সেই বৃষ্টিভেজা মানুষগুলোকে আবার ‘মেঘ-বৃষ্টি-আকাশ’এর নীচে দাঁড় করাতে। জানে, বৃষ্টিপথে নবীনদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাতে। আর এভাবেই, বৃষ্টি আসুক বা না আসুক “ক্ষেপচুরিয়াস” হেঁটে যাবে অনন্ত বৃষ্টিপথ ধরেই...



“ক্ষেপচুরিয়াস”এর পক্ষে -
ইন্দ্রনীল তেওয়ারী এবং বাণীব্রত কুণ্ডু

গুচ্ছ কবিতা - ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত

জিবারিশ
ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত


এক

আমি অভিভূত
দেখছি সংশয়হীন আত্মপ্রকাশ
আশ্চর্য দীর্ঘ লম্ফনে অতিক্রম করলেন বজ্র বলয়
সৎসাহস এবং এক ফালি চাঁদের সন্ধ্যায় ফুটন্ত রাতফুলেরা সম্ভবত
অহল্যা পাথরকেও সামুহিক সচল করে
শুকনো বালিকে উর্বরা করে প্রেরণা নদী

আপনি আলেকজান্দ্রিয়া মেসোপটেমিয়া সিন্ধু নদ ভলগা ডানিয়ুব
পেরিয়ে চলে যাচ্ছেন মিসিসিপি অববাহিকায়
এ পৃথিবী তুচ্ছ গণ্ডী কেটে অবরুদ্ধ করে না
রোষকষায়িত নেত্রে তাকাবে না কাপালিক
নিজের মধ্যে দেখবেন ঈশ্বর
অভিশাপের সাধ্য কি স্পর্শ করে
আশীর্বাদ ও প্রয়োজন নেই
রক্তে প্রতিটি বিন্দুতে তখন নিরন্তর প্রাণের প্রকাশ

দুই

সমাপ্তি রেখার কাছাকাছি স্মৃতিরা ধ্বসে গেলে গহ্বরে
উদ্দাম জাদু টোনা গোপন সঞ্চারী
অ্যালুভিয়াল সয়েলে বেড়ে ওঠে প্রাণদায়ী শস্য
নীলাকাশ এখনও কি ততটাই
শীতের হাওয়াও কি জানি উষ্ণায়ণ কতটা ছুঁয়েছে
তুমিও কি এখনও ততটাই
বিছানা টানটান করবে ঝাড়বে শো কেসের ধুলো

তিন

দেহ অবশেষে কি হয় নব কলেবর
তবুও কি হুবহু হয় কাউকে কি বলতে পারব আশ্চর্য কোথায় পেলে এই চোখ
অবিকল জন্মদাত্রীর মত

চার


পারে বসে দেখি জলের আনাগোনা ছোট ছোট ঘূর্ণি প্রিয়তমা নদীবক্ষ
অদূরে ইউক্যালিপটাসের নগ্ন ঊরু সার সার সিমেট্রিতে ক্লান্ত পথিক বিশ্রামে
মনের মধ্যে একাকার দেশ বিদেশ
আমরা মানুষ প্রথম
আমরা মানুষ মধ্যবর্তীতে
সর্বশেষেও সেই মানুষ ছুঁয়ে যাওয়া

পাঁচ

নদী তোমাকে ছুঁয়ে থাকি দেশে বিদেশে গঙ্গা টেমস ইয়াংসি
মরুতে হারানো সরস্বতীও বালিতে জমিয়েছে প্রাণের ফসিল
অতীতে থেক না নদী বয়ে চল ইদানীং খাতে

ছয়

এত রাতেও কোথাও বাজছে ভায়োলিন
গা ছম ছম কে বাজায়
এক শখের বাদক ছিলেন পেশা অন্য
গভীর রাতে তার ভায়োলিনের নেশা
বারান্দায় চাঁদের আলো পড়লেই কেঁদে উঠত যন্ত্র
ঠিক যেন মানুষ
গতকাল তাঁর শবযাত্রায় সঙ্গী ছিলাম

সাত

ছন্দের মিল খুঁজছি
ক্রমশ সেই হ্রদের কাছে নতজানু
আত্মগোপনে এক প্রাগৈতিহাসিক সম্রাট
এইখানে লেখা আছে অজস্র ভুলের ইতিহাস
ন্যায় অন্যায়ের সূক্ষ্মতা কতটা বিচার দেয়
অধিক আহত করে
এই সেই দ্বৈপায়ন হ্রদ
শ্রীকৃষ্ণ ইঙ্গিতে দেখালেন দুর্যোধনের ঊরু
প্রেম ও যুদ্ধেও কি সত্যি কোন ধর্মনীতি থাকে না

গুচ্ছ কবিতা - প্রসেনজিৎ দত্ত

যন্ত্রী চাষীর চতুর্দশী
প্রসেনজিৎ দত্ত



নিত্যনিধি আশিস হতে বিমুখ কেন পরম।
বঙ্গ অঙ্গে মূর্ছা লেগে রসের তলে চরম।।
রটিল কুষ্মাণ্ড কথা যন্ত্র কথার ভ্রম।
যন্ত্রবুদ্ধি ত্রাসের দোসর দুঃখে কহে মরম।।
মৌনবিদ্যা শ্রেষ্ঠ রীতি নিত্য চলাচলে।
শাস্ত্রনীতি মিথ্যা কথা সর্ব বচন বলে।।
মধুবিদ্যায় সাজিল বিঘা চাষের চাষের পরিধিতে।
অবিদ্যায় আসিল ছেদক কাস্তে করাত হাতে।।
সর্ববলে ছেদন গানে বিঘায় ব্রহ্মা কাতর।
শিল্পে মেতে উপরমহল স্বপ্নলোকে বিভোর।।
ছাইল আঁধার এপার ওপার জীবন ধিকি ধিকি।
দুঃস্বপ্নে থামিল ঘড়ি নিধির টিক্-টিকি।
সর্বমতের বৈপরীতে বচন মুখে খনা।
কৈল সে, উঠন্তি মূলা পত্তনে যায় চেনা।।


এমন বচন কলির খেয়াল কলির খনা হাসে।
খনার বচন ধন্বন্তরি নিধির পরিহাসে।।
কী কহিল হালের কথা চৌদ্দশত ষোলো।
খনার কথাই লাখের একক সর্বমতে ব’লো।।
সর্বমতে বিমত ঘটে শিল্প প্রশ্নবাণে।
যন্ত্র জাগে শিল্প মতে বিঘার মাঝখানে।।
নিত্যনিধি পরম জানে শিল্প-যন্ত্র-সাধন।
মিথ্যা সবই, সবই সত্য – কৈল দেবারীগণ।।
বাঁধল দ্বন্দ্ব আঁটোসাঁটো বিবাদধর্ম সারে।
রজতন্ত্রে প্রশ্নচিহ্ন ব্যর্থ প্রতীক ভারে।।
বঙ্গবিভাগ সম্ভাবনা কলির শেষে এসে।
বঙ্গনামে কৃষ্ণবর্ণ ভাগ্য সর্বনেশে।।
এরূপ পয়ার তর্কে মিশে ত্রাসের সঙ্গ করে।
খনার বচন ফলল তবে! দীনের ভাগ্য মরে।।


ফরমায়িসের পয়ারগাথা ছাঁদের গণ্ডী পেরোয়।
স্বপ্নভাগ্যে কাব্যদেবী আশিস সর্বময়।।
হরিৎ বিঘায় কাটল আঁধার ফললো ফসল নানা।
স্বর্ণ বিঘা আল পেরালো জীবন কারখানা।।
রজতন্ত্রে আইলো ভাটার মাতন শেষে।
স্বপ্নে মেতে আশায় চাষা সুখের প্রদেশে।।
প্রবাদ কহে গর্ব করে আশায় মরে চাষা।
গল্পগরু বৃক্ষে যখম ক্লীব অধ্যাবসা।।
স্বপন শেষের দুঃস্বপনে গল্পদাদু কাঁদে।
দুখ নিদ্রায় স্বপন প্রসার বঙ্গ-নিধি ফাঁদে।।
ভনই প্রসেন অহম্মকে প্রণাম বঙ্গ ভিটে।
যন্ত্র যন্ত্রী চাষীর কথা বিষয় পরিধিতে।।
বিষয়ভারে কাব্য লেখা কবির জীবন ত্রাসে।
সন্ত্রস্তভার কাব্যকলাপ নানান শর্ত বিষে।।

কবিতা - অলকেশ দত্তরায়

চে
অলকেশ দত্তরায়


(চে-র জন্মদিনে)

বৃষ্টি আজ ওয়েট-টি-শার্ট কম্পেটিশনের ব্যাকগ্রাউন্ড ।
প্রতিবাদ শুধু ফেসবুকের আপডেট ।
ধর্ষণকারীরা বিজ্ঞাপনের মুখ ।
তোমার মৃত্যু এখন কোনও কবিকেই অপরাধী করে দেয় না -

কবিতা - রঙ্গীত মিত্র

যে সব ঘটনা রোজ হচ্ছে কিন্তু আলোচনা করতে পারছিনা
রঙ্গীত মিত্র



বৃষ্টির দস্তানা পরে ছিলো সে;
তার গায়ে লেবেলছিলো না।
তুমি তাকে নাম দিয়ে দিলে...এইবার তোমার কাছে আমি যাব কি করে?
দক্ষ ছিলো সে
বিয়োগ জানতো না বলে যোগ-ই করতো।
তাকে তুমি নাম দিয়ে
বদলে দিলে কেন?

কবিতা - আকাশ দত্ত

অন্য আকাশ
আকাশ দত্ত


দেওয়ালের ওঠাপড়া
যখন সংবাদপত্রের পা কালো করে আসে
তখনই জন্ম নিই আমি

চোখ মেলে মাপি
কোন দেশে কতটা বৃষ্টি হয়
শুকিয়ে নেওয়ার পোষাকে

তখনও ঘড়ি দেখা ঠিক শিখিনি
তবু বন্ধ টিকটিক
খুঁজে নেয় একলব্যের চোখ
বেরঙ প্রমাদে

অন্ধকার সয়ে গেলে দৃষ্টি স্বচ্ছ হয়
কোঁচড় ভরে যায় পরিপাটি অবসরে
হাত পাতা সন্ধ্যায়
ধীরে ধীরে রাত নিভে আসে
চশমার মোহেই

এইভাবে দাহ্য হই দহনের আগে
এইভাবে একদিন অপেক্ষা করি
মরার পরের বাঁচার !

কবিতা - সৌরভ ভট্টাচার্য্য

একঘরে
সৌরভ ভট্টাচার্য্য



আমরা দুজনে একঘরে হলেই বিপদ...
এই বুঝি দেয়ালটা ভেঙ্গে পরবে
দুটো শতাব্দী মুখমুখি,মধ্যে প্রাচীন উৎসস্থল---

খত..চিহ্ণ..ছেদ... পূর্ণছেদ...!

কাম অন!.. ফাস্ট...!
গত উনিশ বছর আমি কামারসালায় কাটিয়েছি---
আগুন...হাতুরি...মজ্জা...।
এক্ষুনি আমায় শুয়ে পরতে হবে ফার্নেসে,
তাপ সংগ্রহ করতে হবে পরের একশো বছরের জন্য ।
 
সত্যি---
তোমায় ভালোবাসা কত কঠিন...!

কবিতা - বৈজয়ন্ত রাহা

দুটি কবিতা
বৈজয়ন্ত রাহা


ফুরানো

নীচু হতে হতে মাটিকে ছুঁলাম,
আর মাটি হলাম,
মাটি উড়ে গেলো ধুলো হয়ে, মুহূর্তের মত--
...তুমি বললে--''যাহ! ফুরিয়ে গেলো!!"
...উড়ে গেলো শুকনো কয়েকটা পাতা
আর ,
ফিরে এল
'জন্মের প্রথম শুভক্ষণ'।


উত্তর

চোখের ভিতর উত্তর লেখা থাকলে
কখনও কখনও অনায়াস প্রশ্ন উঠে আসে...
অবাধ্য হাওয়ারা অলৌকিক
পায়ের কাছে এলোমেলো হামাগুড়ি দেয়...
আর আমি,
অবলীলায় পেরিয়ে যাই রাস্তা
এপার থেকে ওপার,
প্রশ্ন করতে করতেই--
বিপ্লবের মলাটের আড়ালে
তুমিও কি সাংবিধানিক ছিলে?

প্যান্টালুনস এর ফুটে উড়তে থাকে সোনালি বুদবুদ...
আর আচমকা , আকাশ কালো করে আসে।

কবিতা - কৌশিক বিশ্বাস

সমুদ্রযাপন
কৌশিক বিশ্বাস


জাগ্রত হই
কিছুটা তাড়িত
রোগে ভোগা হাসপাতালের শীতে ...
ফ্যাকাশে আসে তীব্র বিয়োগে
পীচরাস্তার নীচে অবলীলায় নেমে যাচ্ছে পা
পায়ের গভীরের সমুদ্রকথা
জাগরণ
রিনিঝিনি সমুদ্রস্নানের
চেনা বা অচেনা কোনও বাসন্তী ষ্টোরস এ
একলা নাবিকের
আজ ছুটি থেকে ভিক্ষে চেয়ে আসি বন্দরের ছুতোয়
পায়ের থেকে জল সরে সরে ঢেউ ...
নাবিকের সমুদ্রযাপন

কবিতা - কৌস্তুভ দে সরকার

আমি তো পাগল হয়ে যাবো
কৌস্তুভ দে সরকার



আমি তো পাগল হয়ে যাবো
মাঝরাতে এরকম বৃষ্টি হলে ;
আর তুমিও মশারি খুলে -
এরকম হাওয়ার ভেতর
আমার বুকের ওপর
পা’দুখানি তুলে দিয়ে
হাসছো মিটিমিটি !

আমি তো পাগল হয়ে যাবো
তোমার গন্ধর্বস্নানে
এমন মাটির ঘ্রানে
মোহগানে....
মাঝরাতে চুপিচুপি
বিছানায় বৃষ্টি হলে
কাঠখড় ভেসে যাচ্ছে
ত্রস্ত চারিধার
এলমেলো ধ্বংসের স্তুপ
আমার বারুদস্তম্ভ ভিজে যাচ্ছে
পালাটিয়া গানে
এ কেমন অলৌকিক রাত
বৃষ্টি ঝড়ে পড়ছে আগুনে.....
দাউদাউ......
জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে বৃষ্টির হাত ।

আমি তো পাগল হয়ে যাবো ।

কবিতা - শৌনক দত্ত তনু

নারী নাকি দেবী
শৌনক দত্ত তনু



ভাঁজ খুলে যায় একলা থাকার
মাধবীলতা সেন
তুমি কি সত্যিই জানো না
রাতের মনোরম রঙ অন্ধকার
সত্যিই জানো না
তোমাকে পোড়ানো ছাই
স্তুতিতে উচ্চারিত হয় মন্ত্রে মন্ত্রে
মন্দিরে মন্দিরে
ভালোবেসে নাকি উপহাসে
বহুকাল পরে জেনেছি
রাত্রির সমার্থক তুমি
এবং তোমার অন্য নাম শ্রদ্ধা

কবিতা - ইমেল নাঈম

ইটিশ
ইমেল নাঈম


আমার কোন লজ্জা নেই
আমি এক কথাই বলব ,
সুযোগ পেলে মানুষের কাছে যাবো
অতঃপর বলব জনে জনে ।
যদি এখানে আটকে রাখো তবে
বৃক্ষ আর পাতাকে জানাবো
অভিযোগ , মুহূর্তেই পৌঁছে
যাবে তা দেবতারই কানে ।

কথা গুলো ঠিক এভাবেই
বলেছিল মেয়েটি , প্রতিদানে
ধর্ষক কেটে নিয়েছিলো জিহ্বা ।

গভীর রাতে মেয়েটির ক্রন্দনে
গলেছিল শিকারির মন ,
কাছে গিয়ে শুনেছিল
তার বেদনা । এভাবেই পৌঁছে
গেল সে খবর ধর্ষকের ঘরে ।
ক্রোধান্বিত কেউ হত্যা করল
মানব শিশু , অতঃপর
খাওয়ালো সেই ধর্ষককে।

ধর্ষক যখন বুঝলো এটা
তার সন্তান ইটিশের মাংস।
সাথে সাথে মারতে উদ্যত হল ....
তখনই দেবতা এসে
বিচার কাজ সমাপ্তি করলেন ।

এখনো
ফিলোমিনা, প্রকনি, তেরেউসেরা
পাখি হয়ে বেঁচে যায়
শুধু ইটিশেরা ফেরে না আর ।

কবিতা - নীলাঞ্জন সাহা

এক, দুই
নীলাঞ্জন সাহা


এক।
ফসকে যায় ট্রেন ,আশেপাশে খুঁজি
আমারই মতো কাউকে
যাদের পাই
সকলেই উল্টোদিকের যাত্রী !

দুই।

সমুদ্রে যায় নদী
নৌকোর এপার-ওপার
মৃত্যুতে যায় জীবন ,
আমি
তোমার কাছে যাই ,ফিরে আসি
যাই ...

কবিতা - হীরক মুখোপাধ্যায়

ত্রিভূজ
হীরক মুখোপাধ্যায়


(১)
একটা রেডিও সারাদিন বাজতো, এফএম বিবিধ ভারতী
আরো কত কি,
এখন তেমন বাজে'না, বাজলেও থমকে যায়,
তারপর হয়তো আবার বাজে বা বাজেই'না।

(২)
একটা ঘুড়ি সারাদিন আকাশে আকাশে উড়তো পাখীর
সাথে পাল্লা দিয়ে,
এখন আর ওড়ে'না, এমনকি আকাশও দ্যাখে'না,
বাকি ঘুড়িগুলো যখন ওড়ে তখন সে মাটির দিকে
চেয়ে বসে থাকে।

(৩)
রেডিও আর ঘুড়ি একদিন আমার কাছে এসে বায়না জুড়লো
ওদের নাম চাই,
আমি রেডিও'র নাম দিলাম মনঃকষ্ট
.......ঘুড়ি'র নাম দিলাম নৈরাশ্য
ওরা জিজ্ঞেস করলো, তোমার নাম কি?
বললাম, আশাবাদী,
আমি গল্পের গরুকে কল্পতরুর পাতা ছিঁড়ে খেতে দিই।

কবিতা - শর্মিষ্ঠা ঘোষ

তাই বলে
শর্মিষ্ঠা ঘোষ



তাই বলে ফিরে যাব ?

না হয় ছিলোনা সেই আরব্যরজনী
খেলেছে নিষাদ বিষাদ একাএকা কোমল গান্ধারে
ঋষভের হাত পঞ্চমী বিস্তারে ধরেছে দয়িত
এতোখানি কষ্টকল্পনা বস্তুনিষ্ঠ মন্দাক্রান্তা কতখানি
 
তাই বলে ভিজবোনা ?

নাহয় বৃষ্টি এখানে ছিল না সেদিনও
ঝুমচাষী মাটি ছুঁয়ে ডুবেছিল অপূর্ব ব্রীড়ায়
উড়ে খুঁড়ে দেখেনি কলিজা ধমনী স্নায়ু দ্বীপবিভাজিকা
এতোখানি প্রেমে ছিল অপ্রেমে আরও কতখানি



কবিতা - বিশ্বজিৎ লায়েক

আঃ
বিশ্বজিৎ লায়েক



রেগেমেগে খুঁজছো স্পর্শসুখ
হাঁটুমুড়ে বসল ঈশ্বর
আমরা কেউ সাঁতার শিখি নি
চিনেছি জীবাশ্ম

কবিতা - হাবিবুল্লাহ রাসেল

রোদলক্ষ্মী
হাবিবুল্লাহ রাসেল



ঠোঁটে ভেসেলিন মেখে কতোদিন হেঁটে গেছি
দীর্ঘ দীর্ঘ কুয়াশা পথে
পায়রার পালকে পালকে পেয়েছি
বকফুল বালিকা বালিকা ভোর

কতোদিন রোদস্নানে তোমাকেই ভেবে ভেবে
পথ হারানো পথে
পেয়েছি বিস্ময়!

বিস্ময়ই ভুলিয়েছে বর্ষায় বিভাজিত বেদনা

রোদলক্ষ্মী ; শুধু তোমাকেই ভেবে ভেবে
একচোখে গ্রীষ্ম
একচোখে বর্ষা
বৈকাল বুকে লেখা শীত...

কবিতা - আহমেদ মুনীর

অসমীকরণ সমীকরণে
আহমেদ মুনীর



ফিরে দেখি সেইদিন প্রতিদিন
সেই চোখে সেই রোদে
আলোকিত ঝলমলে অন্তরীক্ষ
ভুলটা শুধরে নেওয়ার রাত
সেই রাতে সেই ক্ষণে
বাঁকা জটে আটকে থাকে পণ জীবন
অসমীকরণ ।।

বুকের গভীরে জ্বালা দাহ
ভারী প্রস্তর দানব
সরে যায় ছায়া
প্রচ্ছায়া উপচ্ছায়া অধিবাস্তবে
অপসৃত শব্দমালা শব্দকোষ
পূর্ণিমার কেশর পরাগ রেণু
অস্থির আলোক রেখায় চলছি
দূর বহুদূরে অযাচিত লোকে নিরুদ্বেগে
নির্ভার স্বপ্নের অগোচরে
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রত্যাশার বেড়াজাল ডিঙ্গিয়ে
ছুঁয়ে দেখি বুকের পাথর ভারী জল
তরল অনল সবুজ প্রান্তর
পৃথ্বীর কঠিন কাঁকর কাদামাটি
বিধ্বস্ত ব্যর্থ কুজঝটিকা
হয়তো হাঁ হয়তোবা না তবুও
উদ্বায়ী এই প্রাণ বাঁচিয়ে রাখে
আমার সকাল সন্ধ্যা দিন রাত
কাল মহাকাল অসমীকরণ সমীকরণে।।


কবিতা - সতীশ বিশ্বাস

ঘুড়ি
সতীশ বিশ্বাস


ঘুড়ি উড়িয়ে- ওরা সুতো ছেড়েই যায় ।
ওদের লাটাই কখনো ফাঁকা হয় না ।
কিন্তু যখন গোধূলি নামে-ওরা আর
লাটাই গোটাবার সময় পায় না ।
মনে মনে ওদেরও তা জানা কিন্তু ।
ওদের চোখ শুধু ঘুড়ির দিকে থাকে না ।
থাকে ঘুড়ির পেছনের আকাশের দিকে ।
তাই, সুতো ছাড়তে ছাড়তে ওরা থামতে পারে না ।
এভাবে-সুতোর সঙ্গে সঙ্গে একদিন বেরিয়ে যায়
ওদের প্রাণতন্তুও।


কবিতা - জিনাত জাহান খান

তিনটি কবিতা
জিনাত জাহান খান


আত্মার অদৃশ্য ছুরি

নাম প্রশ্নের উত্তর মৌন-আগন্তুকের নাম দেই সময়। জীবনের ঘ্রাণ ও ভালবাসা, আদিগন্ত মাঠের সবুজ খুঁটে-খুঁটে, অলি-গলি, নগরে-প্রান্তে, আত্ম-প্রেমে মগ্নতা বিছিয়ে চলে সময় নামের এই আগন্তুক। সময়, যেন কেউটে কিংবা চন্দ্রবোড়া সাপ! যার বিষ নিঃশ্বাস অথবা মরণ ছোবল আহত করে প্রতিনিয়ত, রহস্যের রূপালি চাঁদকে। ছুরে দেয়া প্রশ্ন-বাণে, মগ্নচৈতন্য থেকে মাথা তুলে বলে, “ সামান্যই চাই, অনেক কিছুর মাঝে কিছু একটা খুঁজি।”

#

মনের কথা মন থেকে খুলে, সময় তাঁর মুঠো ভর্তি করে তুলে দেয় আমার মুঠোয়। নিমিষেই অর্ন্তঃদৃষ্টি, ঝাপসা হয়ে খুঁজে-খুঁজে তলাশ করে আমার দেহ, কই আমি? আমার অস্তিত্ব কই? এ যেন নতুন জন্ম, নতুন আমি কিংবা নতুন আর এক সময়। নেশার ঘোরে ছুটছি, কাগজের গ্লোব হাতে নিয়ে শহর থেকে উপশহরে। আমার চলার পথে ঝর্ণায় গলছে বরফ আর পথে পথে ফুটে উঠছে অজস্র বনফুল।

সময় সেচে পেয়েছি অনেক; ভুলেছি তারুণ্য-তুফানে উপচানো লোনা পানির ফসফরাস। শূন্যে বিদ্ধ করি আত্মার অদৃশ্য ছুরি, ভুলে যাই চিরন্তর গন্তব্যে অনন্তের অপার উড্ডীন।

#

আমিতো বলেছি, সামান্যের মাঝেই কিছু না কিছু পাওয়ার আছে,আছে ভ্রমণের ইতিবৃত্ত।


রঙিন প্রজাপতি

হঠাত্‍ কানে মুখ রেখে দক্ষিন হাওয়া, হাসির ওড়না খসিয়ে বুকের কাছে উপোস গাল রেখে ঘুরে ঘুরে জানায়, পত্রহীন বিশুস্ক শাখায় যেন একটা রঙিন প্রজাপতি দেই বসিয়ে। জানার কিছু ছিল বাকি তখনও, আলো নিবে জ্বরের মতোন দিন ছেড়ে রাত্রি আসে।

#

এতদিন কি তবে ফুল ভেবে ভুল করে, গোধূলির আলো কুড়িয়েছি আঁচল ঠেসে ঠেসে? সময় এলো! যত ঝরে পড়া মরা সময়ের ফুল বিছাই মাটিতে, পাপড়ি খুলে খুলে। কাঁচাসোনা রোদ মেখে গায়ে, ঘুমহীন চোখে কাজল তুলিতে শেষ টান আঁকি।

বসন্তের সুরে হরেক প্রজাপতি কোথা যায় উড়ে?


লবণ শিল্প

জলের শরীর ভেঙে ভেঙে অতল থেকে উঠে আসে বর্ণীল এক মাছ। সূর্য্যের চোখে চোখ রেখে, রোদের আলোয় জড়িয়ে নেয় গভীর চুম্বনের মতো।

#

ফসলের ঘ্রাণ পেতে মাটির কাছে আসে, লাফিয়ে লাফিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুকে মেনে নিয়ে এঁকে যায়- গাছের ভেতর অন্য গাছের ছায়া দৃশ্য।
রুক্ষ মৃত্তিকার দেহে ঝেরে ফেলে সমস্ত রাত্রির মিঠেজল নোনাজলের শস্যবীজ পোঁতে বর্ণচোরা তৃষ্ণার জোনাকি।
লবণ শিল্পের নেশা! এ যেন খাঁচা-ভাঙা পলাতক পাখির হাওয়ায় হাওয়ায় ডানা মেলা আর মেঘেদের লুকোচুরি খেলা, আকাশ-মাঠ জুড়ে।

#

নির্জনতাকে গিলে উপকূলে তোলা ফেনিল আভায় দৃশ্য মুছে- অদৃশ্য হয় রহস্যের প্রচ্ছন্ন গুহায়।

কবিতা - হাবিবুল্লাহ রাসেল

ঘুম মাতালে
হাবিবুল্লাহ রাসেল


এভাবে ভেবেই যাব
ঘুম চোখে ঘুম ঘুম চোখ,
ঘুম রঙ, ঘুম ছবি, আবল-তাবল...
ছবিরাতো ঘুমিয়েই জেগে থাকে
কথা বলে ঘুম মাতালে

প্রণয়ের গান গেয়োনা সারথি

আমিতো মাতাল ঘুমে - ঘুম মাতালে
যা কিছু ভাবি কার কী এসে যায় ?
নষ্ট রাজ্যনীতি পায়ের তলায়
এই রাত মাতাল উৎসবে
আমিতো মুরালীর বল- বোল্ড হও কিংবা
এলবির ফাঁদে পড়ো রাজা
দেখো শরাবের তেজ

এই রাত মাতাল উৎসবে
কে কে রাজা হবে এসো
কার ঠোঁটে সুর তোলে মিথ্যাচার?
কার চোখে নাচে ধ্বংসের বাইজি?

সারারাত আমার চোখে মুখে
শরাব ঢেলে দাও কবিতা
ফুঁ দিয়ে ঘুড়ির মতন ওড়াবো সিংহাসন

সিংহ চিহ্নিত থাকে না
তবু সিংহাসন
তবু নিষ্ঠুরতা !
নিষ্ঠুর হতেই হবে?

সিংহাসন নয় - আমার মাতাল ঘুম
ঘুম রঙে আঁকে সূর্যআসন
সূর্যআসনে বসে আলোক ছড়াও রাজা...

কবিতা - শরদিন্দু ব্যানার্জ্জী

খেলা
শরদিন্দু ব্যানার্জ্জী


বিকেলবেলা রোজ গিয়ে বসি লেকের ধারে
মাথার ভিতর চাওয়া না পাওয়ার সমাধানহীন সমীকরণ
দু-হাত দিয়ে তাদের টেনে বের করে আনি।
তারপর মুঠো মুঠো করে ছুঁড়ে দিই জলের দিকে
পরিচিত পা-ওয়ালা সরীসৃপেরা ছুটে এসে
শুরু করে সেই বিধ্বংসী ‘ডেড-রোল’।
এও এক রকমের খেলা...

মাঝরাতে তুমি যখন ভাঙো চীনামাটির ফুলদানি
আমি ফেলে দিই দামি মোবাইল, ঘড়ি...
সারাপাড়ার ঘুম ভাঙে, উঁকি মারে ব্যালকনি
আমরা দুজনে তখন ঢুকে পড়ি তর্কের গভীরে
এও এক রকমের খেলা...

শিশুদের বন্ধ চোখের ভিতর যে ভয় থাকে
সেগুলো বড়ো হতে হতে সমুদ্র হয়ে যায়
তার ওপর পাল উড়িয়ে কেউ পার করে জীবন
আমি একলা পাড়ে বসে অচেনা ঢেউ দেখি
এও এক রকমের খেলা...



কবিতা - দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়

ভালোবাসা অ্যাপার্টমেন্টস
দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়


ফ্ল্যাট নম্বর ৬০৫

এখানে মাতাল কবির নিঃসঙ্গ বইপত্রেরা থাকে। জি প্লাস সিক্সের উচ্চতায় উঠে আসে না টায়ারের স্ক্রীচ, বিপজ্জনক ট্যাক্সির আওয়াজ; কিম্বা রাত বাড়লে হাঘরে কুকুরের ডাক। শুধু তার ক্ষুধার্ত দু চোখ যেন কায়ক্লেশে শান্তি খোঁজে আশ্চর্য রাস্তার পীচে। চতুর্দিকে মৃতপ্রায়; গতি বলতে অ্যাশট্রে থেকে উঠে আসা ধোঁয়ার লাইন, শব্দ বলতে কাঁচের গেলাসে তরল ঢালার শব্দ।

সাত বছর কেটে গেলো, কোন কেউ আসে নি এখানে। দেওয়ালের ভ্যাপসা ইঁটে ছড়ানো মৃত্যুর মত আগলে রেখেছে মাতাল কবিকে। কবিটিও বেশ আছে। মৃত্যু নিয়ে, শব্দ নিয়ে, অক্ষরের নির্জনতা নিয়ে। আলো-আঁধারির প্রহসন বিশেষ জ্বালায় না তাকে শুধু রাস্তা ভুলে বৃষ্টি এলে জানালা বন্ধ করতে করতে খেয়াল হয় তার সাতজন্ম হেলায় গেল,একটাও কবিতা হল না...।


ফ্ল্যাট নম্বর ৯০২


শ্রীযুক্ত সেনের শান্তিনীড়ে গত সাত মাস
                    মেনোপজ পেরোনো স্তব্ধতা
ঘুরে বেড়াচ্ছে লিভিং রুম, রান্নাঘর আর
                    বিছানার জটিল অ্যাক্সিসে
এখানে হেমন্তের চিরস্থায়ী বাসা
ঝরাপাতার মত সুখ, ভোগ, বিলাসিতাগুলো
                    ছড়িয়ে রয়েছে ফার্নিচারে, এদিকে ওদিকে
শুধু যাবতীয় চাওয়া- পাওয়া
ভোর পাঁচটায় পর্দা টেনে ঈশ্বরের মুখোমুখি হয়

আশীর্বাদী স্বান্তনার ভ্রমে কেটে যাবে বাকিটা সময়।।

কবিতা - তন্ময় ভট্টাচার্য

নির্বাচন আসছে
তন্ময় ভট্টাচার্য



অযৌক্তিক রাস্তায় হাঁটার সাধ্য নেই
জেনেও তামাশা করে প্রোলেতারিয়েত অর্বুদ

এদিকে সন্ধ্যা হলে আবদারী ভালোবাসা
আবগারী অফিসের খুঁটি ধরে নামতা শেখায়
 
ব্যাঙের পকেট কেটে মানুষের তুলনা দেয়া তো
বিজ্ঞানে অগ্রগতিই
 
সকালে পান্তাভাতী আচমন শেষ করে
আয়না সময় দেখে...ঠিকঠাক নট বাঁধা কিনা
 
ওপরে হাতের ফাঁকে কল্কে নেশার ঘোর
নটরাজ আধবোজা চোখে আজও সমীক্ষা চালান-

উনপঞ্চাশ বায়ু আঁতেলের সহোদর কি?

কবিতা - পল্লব ভট্টাচার্য

চল্লিশের প্রেত
পল্লব ভট্টাচার্য


চল্লিশ পেরিয়ে গেলে , ছুরি হাতে উঠে আসে কুয়াশা ও শীত
তাড়িয়ে তাড়িয়ে নেয় স্তব্ধতার মাঠে । নিঃসঙ্গ বুদ্বুদ আর
তীক্ষ্ণ ফলাটি ঘিরে , মায়াবরফের প্রেত চুইয়ে নামছে
অই আকৃতির কল থেকে , শূন্যতার চেয়ে কিছু বেশি
#
মনে পড়ে , কারা যেন পাশে ছিল একদিন
যেন কার ভেতরে পৌঁছুতে
ছ`হাজার মাইল বেগে ছুটেছে এঞ্জিন কান্না ,
উৎসাহ , ভাঙা মন , অসহ্য বেদনা
#
আজ আর কিছু নেই । শব্দহীন , দিনের গভীরে
ঠান্ডা হিম তীক্ষ্ণ ফলাটি একা ছুটে আসছে , দ্রুত

অনুবাদ কবিতা – ইন্দ্রনীল তেওয়ারী

অনুবাদ কবিতা
অনুবাদক – ইন্দ্রনীল তেওয়ারী

 

কবি - অশোক বাজপেয়ী

সেখানে-এখানে

সেখানে খুব গরমে
জলের গেলাস তোলে;
আর এখানে আমি জানি
ঠিক সেসময়েই
আমার পিপাসা শান্ত হচ্ছে।


রচনা

কিছু প্রেম
কিছু প্রতীক্ষা
কিছু কামনা দিয়ে
রচিত হয়েছে সে।

--রক্তমাংস দিয়ে তো সে
নির্মিত হয়েছে বহু আগেই।


শব্দের দ্বারাও

শব্দের দ্বারাও শরীর জেগে ওঠে।
যেমন একটি পাতার আঘাতেও
ভোর হয়।


প্রথম চুম্বন


এক জীবন্ত পাথরের দুটি পাতা
রক্তাভ, উৎসুক।

একবার কেঁপে জুড়ে গেল।

আমি দেখলাম,
আমি ফুল ফোটাতে পারি।

ধারাবাহিক - রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়

অবভাস
রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়









জুনমাস অশ্রুসজল

কে বা, কারা যেন লিখেছিলঃ

দীর্ঘ দীর্ঘ মার্চ মাস, ঋতুপরায়ণ
এপ্রিল নিষ্ঠুরতম মাস
মে-তে বৃষদল গাভীধর্ম চরে
জুনমাস অশ্রুসজল

২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০
একদিন
বারাসাতের রোষে মন্ত্রী-সাংসদ
দুষ্কৃতি দৌরাত্মে ক্ষিপ্ত জনতার পথ অবরোধ-ভাঙচুর
ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল নৈরাজ্যের নগরী বারাসাতের
অপরাধের মুক্তাঞ্চলে আবারও এক নারকীয় ঘটনায় আঁচ ছড়িয়েছিল শুক্রবার রাত থেকেইবাড়ি ফেরার পথে কলেজ ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় শনিবারও ভীষণ ভাবে তেতে রইল বারাসাতের খড়িবাড়ি এলাকাঅভিযুক্তদের গ্রেফতার ও চরম শাস্তির দাবিতে সকাল (থেকেই) পথ অবরোধ স্থানীয়দের
... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
অবশেষে খাদ্যমন্ত্রী দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে, অবরোধ উঠে যায়নির্যাতিতার ভাইকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনিচাপে পড়ে এই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে তিনজনকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে
(দ্রঃ-- ফ্রন্ট পেজ, সেন্ট্রাল-রাইট, ডাবল কলামহেডিং  বড় ফন্টসাইজ)

সংবাদ প্রতিদিন
নির্মম খুনে দিনভর উত্তাল বারাসাত
কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর নির্মম ভাবে খুনের ঘটনায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সারাদিনই উত্তাল ছিল বারাসাতঘটনাস্থল খড়িবাড়ির কামদুনি থেকে শুরু করে বারাসাত থানায় দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়রাজারহাট থেকে খড়িবাড়ির পথে বিভিন্ন মোড়ে দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করেন গ্রামের ক্ষুব্ধ মহিলা ও কমবয়সিরানিহত ছাত্রীর দেহ উদ্ধারে যাওয়া বারাসাত থানার পুলিশ জিপ ও স্থানীয় সাংসদের গাড়ি ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা
(দ্রঃ-- ফ্রন্ট পেজ, এক্সট্রিম রাইট, সিঙ্গল কলামহেডিং খুবই কম ফন্টসাইজসেন্ট্রাল-কলামঃ রাজনাথকে বেকায়দায় ফেলে দিল্লিতে মোদির সমর্থকদের আদবানির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ)



9 June 2013

The Telegraph
Barasat protest
Residents gheraoed a minister and an MP and blocked a road in Barasat on Saturday to protest the alleged rape and murder of a college girl on Friday.
BENGAL P8      
(দ্রঃ-- ফ্রন্ট পেজ, এক্সট্রিম লেফট, সিঙ্গল কলামসেকেন্ড লাস্ট আইটেমসেন্ট্রাল-কলামঃ
Anoint-Modi pressure mounts)
Sunday Times
ফ্রন্ট পেজে বারাসাতের ঘটনার কোন খবর পাওয়া যায় নাসেকেন্ড পেজে জানতে পারা যায়ঃ
5 arrested after Barasat rape fury
তবে ফ্রন্ট পেজে Irish rape victim in ICU after drug overdose-র একটা খবর ছিল
আর হ্যাঁ, দুটো ইংরেজি কাগজে প্রথম পাতায় আম-ও-ইলিশপত্র সংবাদ ছিলযথাক্রমেঃ
CITY SURRENDERS TO MANGO MANIA
Now, duty-free hilsa from Mayanmar


ধারাবাহিক - সুবীর সরকার

এপিটাফ
সুবীর সরকার



২৫।

চাদের পূর্ণ আলোয় দেখা গেল ঘোড়া ছুটছে।ঘোড়ার পিঠে ডানকান সাহেব।দীর্ঘকায় গৌরবর্ণ বলশালী পুরুষ।সাহেবের হাতে বন্দুক।ঝাঁ-চকচকে এবং দো-নলা।সাহেব যাচ্ছেন হাটের দিকে।হাট থেকে আবার যাবেন নতুনতর হাটে।এভাবে হাটপর্বের গোলকধাঁধায় ঘুরতে থাকবেন চক্রাকারে।আর আমরা গল্পের উৎসমুখ খুঁজতে খুঁজতে শেষাবধি গল্পের খুব ভিতরে ঢুকে পড়ব।অবশ্যি বন্দুকটা থাকবে।বন্দুক থাকলে খুব অদ্যিকালের সব গ্রামগঞ্জ হাটবাজার মানুষও থাকবে।থাকা না থাকার অস্পষ্টতায় জন্ম নেবে ক্রমান্বয়ে অগণন মিথ.... নদী ও দেশাচার চাঁদের পূর্ণ আলোটুকু কেবল বাঁচিয়ে রাখবে আর ছড়িয়ে দেবে ডানকান সাহেব ও তাঁর ভুমাত্রিক ঘোড়াটি।

২৬।

ডানকানের ঘোড়া অথবা বন্দুক ও ঘোড়াসহ সাহেব ডানকান যখন হাটে ঢুকে পড়বে তখন চাঁদ সরে গেছে।নদী থেকে সর্বত্র ছিটকে যাচ্ছে বাতাস।হাটের ভিতর থেকে জটলার গহন থেকে মিছিলের মতো মানুষ আসতে লাগল আর এসবের ধারাবাহিকতায় ধরাছোয়ার বাইরে চলে যেতে গিয়েও হাটের গানের টানে আবার ফিরেও আসতে হয়।সাহেব যেদিকেই যান তীব্র এক আর্তি তাকে ঘিরেই থাকে আর স্বপ্নের পর স্বপ্ন ভেঙে যেতেও থাকলে শেষাবধি স্বপ্নের কাছে ফিরে আসতে হয়।জঙ্গল সংকীর্ণ ও গভীর হতে থাকে,হাতির পাল দানাশস্যের বিস্তীর্ণতায় নেমে আসতে থাকে খুটামারার অজ্ঞাত এক বাথান থেকে সমবেত হাতি-ধরা গানও ছড়িয়ে পড়তে থাকে... আল্লাহ আল্লাহ বলরে ভাই হায় আল্লা রসুল/কোন মহালের মাহুত রে তুই হায় আল্লা রসুল...। গানের রকমফের থাকে ওঠানামা থাকে আর সব ছাপিয়ে জীবন্ত এক সুরও।নদীও এক সময়ে সাবলীল গান লগ্ন হয়ে ওঠে,আশ্চর্য আহ্লাদে লালন করে গান ও গানের প্রেক্ষিতে স্থাপিত সবুজ এক জনপদ।গীদাল বয়াতি পিঁরফকির কাঁঠালখুটার ময়ুরমুখা দোতারা তালবাদ্য।সব ছাপিয়ে অনিবার্য হয়ে ওঠে সাহেব ও তার ঘোড়া।ঘোড়ার ছুটে চলা ধীরলয় ছন্দপতন পুনর্বার ছন্দের জাদু পাওয়া সমুদয় মিলেমিশে অত্যাশ্চর্য গাথাকাব্য ও মিথ হয়ে ওঠে।মিথপাশের ধুলোর মতো উড়তে থাকে আর গেঁথে যেতে থাকে গ্রাম দেশের উঁলুজোকার ও বিবাহবাজনার সঙ্গে।

২৭।

চা বাগানের হাটের ভিতর ঘন জটলার মধ্যে থেকে কিংবা মোরগলড়াই হাড়িয়ার হাট থেকে সরে এসেও দ্বিধাগ্রস্ত ডানকান সাহেব একসময় দাঁড়িয়ে যান।আদতে সাহেব দাঁড়ান না,দাঁড়িয়ে পড়ে তার ঘোড়াটি।দাঁড়িয়ে থাকার আদিঅন্তহীনতায় অবকাশ যাপনের আবডালে সাহেব চোরাচোখে তার বন্দুকটিকে দেখে নেন।গায়ে হাত বোলান ঘোড়াটিরও।হাট হাটের মতো নিস্পৃহ উদাসীন,বেরিয়ে আসা বাতাসের মতো।অন্তহীন এক কালখন্ড আর আটকে থাকা লেপটে থাকা বাঁশফোঁড় টুডু কুজুরদের গ্রাম সহজ জীবন ধামসার তাল খুটামারার সাঁকো ডোবোর হাট শ্মশান ও সাসানডিরি কীর্তনবাড়ি জিতুমনি বডুয়ার মুখানাচ আড়বাঁশি।অথচ কোথাও জায়মানতা থাকে কি ? সীমায়ন থাকে না, বোধকরি শতাব্দীপ্রাচীন একটা বাড়ি এ কথা জানে আর সমূহ জ্ঞানভান্ডার এঁকে রাখে বাড়ির দেয়াল ও মাটি লেপা উঠোনে আর সামান্য নস্টালজিয়াও থাকে হয়তো বা।আর এসবের অন্তহীনতায় লীল হয়ে গিয়েও পুনশ্চ ফিরে আসে ডানকানসাহেব ঘোড়া ও বন্দুকসহ বড়াইবাড়ির প্রশান্ত বৃক্ষঘেরা উঠোনের মধ্যিখানে।

ধারাবাহিক - অরিন্দম চন্দ্র

দিল্লী কা লাড্ডু
অরিন্দম চন্দ্র


কে যেন বলেছিলেন যে বাংলা আজ যা ভাবে কাল সারা দেশ তাই ভাববে তিনি একটুও ভুল ভাবেন নি।এই যে বাংলার বিদ্দ্বজ্জন যাঁরা বারাসতের মত জঘন্য ঘটনার পরও সুশীল সমাজী নিরবতা পালন করছেন,দেখে নেবেন কাল গোটা ভারতের বিদ্দ্বজ্জনেরাও একইরকম মৌনীবাবা হয়ে যাবেন।কিন্তু মুশকিল একটাই।যত রত্ন বা ভূষণ বা বিভূষণ পশ্চিম বাংলায় আছে ভারতের স্টক সীমিত থাকায় এত উপাধি-টুপাধি দেওয়া ...

গৌরচন্দ্রিকা থাক।প্রথম কথা এই সুশীল বাবুরা তাদের নিরবতা নিয়েই থাকুন,আমাদের কাজ আমাদেরকেই করতে হবে।ধর্ষণের বলি তারা হয় না,দাঙ্গায় ঘর তাদের পোড়ে না,চাকরী যাওয়া বা না পাওয়ার গ্লানি তাদের নেই আর বাজারের চাল-ডাল-তেল-নুনের চক্করে তাদের টিকি দেখা যায় না।এসবের ভোগের দায় আমার-আপনার।কাজেই মোমবাতির আর রাজপথের অধিকার তাদের যাক,আসুন আমরা সে অধিকার কেড়ে নি।“Prominent “ শব্দটা আমাদের বিশেষণ নাই বা হল,গেরস্থালী পাগ বা স্পিতজ এর চেয়ে রাস্তার কুকুর অনেক ভালো,অন্ততঃ অধীনতার নিগড়টা যাক।

বাংলায় কি এখন সব কিছুই ফেসবুকে?উন্নয়নও ফেসবুকে প্রতিবাদও ফেসবুকে? অস্বীকার করার যায়গা নেই যে কর্পোরেট মিডিয়ার দাপাদাপিতে অলটারনেটিভ মিডিয়া হিসাবে এই সব সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলি আজ প্রথম সারিতে উঠে এসেছে।কিন্তু শুধুমাত্র ফেসবুক বা টুইটার?রাস্তায় নামা নেই,বাসে-ট্রামে প্রতিবাদ নেই,ঘরোয়া আড্ডাতেও নেই।মনে রাখা দরকার বাংলাদেশের যে তিনজন ব্লগার প্রথম শাহবাগ স্কোয়ারে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন তাঁদের আশা ছিল কয়েক-শ মানুষের জমায়েত হবে,কিন্তু প্রথম সমাবেশে প্রায় সাত হাজার মানুষে র ঢল তাঁদের শক্তিশালী করেছে।আর এই বাংলায়?

আজ গড়পড়তা বাঙ্গালী শুধু সুশীলবাবুদের নামে খেউড় করেই দিব্যি নিদ্রা যাচ্ছেন,যেন দায়টা তাদের বাপের।আসলে সুবিধার ব্যাপারটা ওরা একা বোঝেন তা নয়,ওদের মতন আমরাও বুঝি কিভাবে দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজে তোফা থাকা যায়।দিল্লীতে যে ঘটনা সকলকে এক করতে পেরেছিল,শাহবাগ যে এখনও তার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তার মূল কারন হল এই যে মানুষ পথ আর সোশাল মিডিয়া,দুটোই দখল করতে পেরছিল,আমরা শুধু দ্বিতীয়টা,তাও অসমপূর্ণ।

ভেবে দেখার দরকার এই “বুদ্ধিজীবি” শব্দটাকেও।আমি আপনি কি বুদ্ধি ছাড়া দিন গুজরান করি?যিনি তুলি-ক্যানভাসে কাজ চালান আর যিনি বাড়ীর ঘর মোছেন দুজনের মাথায় একই ক্যালকুলেশন,কতটা আয়াসে কাজটা ভালোভাবে শেষ হবে।যত এদের আলাদা করে আমাদের ভাবনার দায় এদের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেরা দায়মুক্ত হবার চেষ্টা করি না কেন,ঘরে আগুন লাগলে তখন আর ফুটো ঘটিটাকে কপালে মেরেও একফোঁটা জল আসবে না।তাই আজ নির্দ্বিধায় শাসকের প্রশ্নঃ “আপনারা কি Prominent?”

আরও একটা বিষয় আমাদের মাথায় রাখা দরকার।বারাসতের নির্মম ধর্ষণ কাণ্ডের পর খুব সুক্ষ্ণভাবে ছড়ানো হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিষ।বাঙ্গালী আজ বিভক্ত বাঙ্গালী।যে সাম্প্রদায়িকতার জন্য আজ আমরা বিভক্ত সেই শত্রু আজ আবার মাথা চাড়া দিচ্ছে।বিভিন্ন রকমের সুড়সুড়ি খেয়ে আমরা না আবার ভ্রাতৃঘাতী উল্লাসে না মেতে উঠি।

তাই বাঙ্গালী জাগো বলে শেষ করবো না,শুধু একটা যন্ত্রণা শেয়ার করব।দিল্লীর মেয়েটি যেভাবে মানুষকে মাঠে ময়দানে একজোট করতে পেরেছিল আমাদের কামদুনির মেয়েটি কি আরো নৃশংসতার শিকার হলে বাঙ্গালীও একজোট হবে?না কি আমরাও দিল্লী কা লাড্ডু ভেবে খাওয়া বা না খাওয়ার মাঝামাঝি ত্রিশঙ্কু হয়ে ঝুলে থাকব?উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।

ইংরাজী কবিতা - ইন্দ্রানী সরকার

ইংরাজী কবিতা
ইন্দ্রানী সরকার


If you wish


If you wish I will make you happy
with all my love Oh my beloved.
There is no end of my love towards you,
a beginning is only repeated.

Touch my closed eyes, induced,
with your moist lips now and then.
Behold the sweetness of those moments
as I feel your presence deep within.

I cannot sleep as I think of you,
Oh my sweetest paragon of beauty!
I walk through a deep fog absent minded
thinking of the image of your deity.

I like to fly abroad along with
the wings of that white hawk in a flight
My thoughts travel along with a
flying bird rhythmically day and night.



Exile

After losing you my wait times
are getting longer and eventually
they get lost in the darkness.
You might have noticed a dead bird
with broken wings at your courtyard.
Perhaps you could have seen a
tear mark on the black cloud if you
would have kept your eyes on the sky.
On some solemn night you could have
heard a weeping sound of broken dreams
if you had listened carefully.

Today your beautiful garden is
full of young and green leaves,
descent smell of ripe crops,
branches with beautiful flowers and
a greenery spread up to the horizon.
Do yo still remember the person whom
you have sent into exile for good
in a solemn moonlit night?


Enjoyment

Step out into sunshine and
feel the joy of bathing in rain.
What is life about; enjoy it
by coming out of your den.
Let the stars shine in your
beautiful and sparkling eyes.
What’s important in life, find it
from where your heart lies.
Even a rock has a heart;
try to listen to what it says.
Feel the joy of being with nature
with a smile on your face.
What you feel and see from a
distance could be an illusion.
Try to reach and figure it out
and remove your confusion.


Awakening

Open your heart and speak to your soul,
it will heal and empower you.
You are a manifestation of the Almighty,
the spirit of God is inside you.
You have much to give away,
and as you give, your heart will overflow.
Then it is immaterial if it is day or night,
your aura will always glow.
When the heart awakens from a deep sleep,
it glitters through the darkness.
The past strife and memories fade away,
the present stays with its brightness.
Take a glimpse of your beautiful heart
and you will feel the difference.
It is blooming like a beautiful rose
by diffusing its honeyed essence.