সহজ কবিতা১.
জীবনের খেরোখাতা থেকে তুলে নিয়ে আঙ্গুল
বারবার খুঁজে ফিরি চুলচিরে, কি কি ছিল ভুল;
নিজের অহংটুকু মুছে দিয়ে তারপর থামি,
ওটুকু আমার থেকে বাদ দিলেই আসল আমি।
২.
এক দেশে দিবা হলে আর দেশে নামে কালো নিশি
বিধাতার এই রীতি মেনে চলে ভানু আর শশী;
ক্ষণিক আঁধার দেখে যদি তুই পাশ কেটে যাস,
কিভাবে দেখবি বল অমল আলোর উদ্ভাস?!
৩.
এমনি হবার কথা ছিল, বিধির খাতায় ছিল লেখা,
যে-কারণে মাতার-পিতার বীজের ভেতর হলো দেখা;
নিয়তির রায় পাল্টাতে শিখছি সাঁতার জোর উজানি,
নইলে খ্যাপা-কামের মোহে ঘুরতে হবে লক্ষ যোনি।
৪.
মধ্যদুপুরে সবার অলখি চেয়ে দেখি চোখ মেলে—
আজব ব্যাপার! সূর্যকে তুমি ঢেকে দিলে কালি ঢেলে;
ভাবি বসুধায় নামালে আঁধার কিবা প্রহসন রচি’
কালোর পর্দা সরে গেলে দেখি ফুটেছে তাজা কুরচি।
৫.
আমি যে ভীষন নাদান পুরুষ, তুমি তো ভারি চতুরা—
দুলে দুলে হাঁটো বলে তাল ধরে নিতম্ব-তানপুরা;
অহেতুক হাসো, খুকখুক কাশো, লাগে খুব অস্থির
দেহ-তটিনীর জোয়ারে আমার ভেসে যায় দুই তীর।
৬.
কণ্টকময় এই পথহাঁটা সেই আদিপাপ হেতু
দুনিয়ার মায়া কাটাতেই দেখি পুলসিরাতের সেতু;
স্বর্গোদ্যানে ভালোই ছিলাম নারী, দায়ী শুধু তুমি,
পাঁজরের হাড়, তোমার কারণে সর্পফণায় চুমি।
৭.
পথের ধূলিতে লুটিয়ে দিয়েছি আমি আত্মস্বার্থ,
স্বভাবের দোষে মুদ্রা চিনি নি বলে বেসাতে ব্যর্থ;
সম্বল তাই ভিক্ষার ঝুলি, ঘুরি ভাবের বাজারে ,
সকাল-সন্ধ্যা জ্বালাই আগরবাতি নিজের মাজারে।
৮.
কঠিনেতে খুঁজে গলদঘর্ম, সব উদ্যম নাশ—
অথচ কঠিনে থাকে না পরমা সহজেতে তার বাস;
হেথাহোথা খুঁজি পুঁথি-পুস্তকে, ছায়াকেই কায়া ভ্রমি
সহজ পদ্যে দেখা দিতে যদি আমার অপরা তুমি।
৯.
ফাগুনে আগুন ঝরে পলাশের-শিমুলের বনে
ফের সে-আগুন দেখি অনূদিত হয় মোর মনে;
একাকী কোকিল ডাকে শুনি মরিয়া কাতরস্বরে
সহজ কবিতা শুধু সেই ডাক তর্জমা করে!
১০.
তোমাকে দেখার বড় সাধ ছিল তাই শূন্যে লাফালে
ডোবা পুকুরের গহীন অতল থেকে ক্ষুদে তিতপুঁটি;
সহসা ধেয়ানী বকের ছদ্মবেশে তুমি তারে খেলে
দুইয়ে মিলনে এক হলো, দিলে সাধ-সাধনার ছুটি।
১১.
কি নেই আমাতে যা আছে কৃষ্ণ ওই বালিকার মুখে?
ওই চোখ দূরে গেলে মন কেন ভোগে বিষাদে-অসুখে?
পরমার ছায়া মেলে— ছিঁড়েছেঁনে ভাবকে করে চূর্ণ ,
বুঝি ওই মুখ ছাড়া কেন আমি এতো অসম্পূর্ণ!
১২.
তিন স্রোত এসে যেখানে মিশেছে তিন দিক থেকে, আহা!
মিশিয়াছে যেথা ত্রিজলা নহর— ত্রিবেণীসঙ্গম যাহা—
যার কথা শুধু শুনেছি অ্যাদ্দিন লোকমুখে, বেশিকম
আজ দেখা হলো চর্ম চক্ষে সেই সরোবর মনোরম।
জীবনের খেরোখাতা থেকে তুলে নিয়ে আঙ্গুল
বারবার খুঁজে ফিরি চুলচিরে, কি কি ছিল ভুল;
নিজের অহংটুকু মুছে দিয়ে তারপর থামি,
ওটুকু আমার থেকে বাদ দিলেই আসল আমি।
২.
এক দেশে দিবা হলে আর দেশে নামে কালো নিশি
বিধাতার এই রীতি মেনে চলে ভানু আর শশী;
ক্ষণিক আঁধার দেখে যদি তুই পাশ কেটে যাস,
কিভাবে দেখবি বল অমল আলোর উদ্ভাস?!
৩.
এমনি হবার কথা ছিল, বিধির খাতায় ছিল লেখা,
যে-কারণে মাতার-পিতার বীজের ভেতর হলো দেখা;
নিয়তির রায় পাল্টাতে শিখছি সাঁতার জোর উজানি,
নইলে খ্যাপা-কামের মোহে ঘুরতে হবে লক্ষ যোনি।
৪.
মধ্যদুপুরে সবার অলখি চেয়ে দেখি চোখ মেলে—
আজব ব্যাপার! সূর্যকে তুমি ঢেকে দিলে কালি ঢেলে;
ভাবি বসুধায় নামালে আঁধার কিবা প্রহসন রচি’
কালোর পর্দা সরে গেলে দেখি ফুটেছে তাজা কুরচি।
৫.
আমি যে ভীষন নাদান পুরুষ, তুমি তো ভারি চতুরা—
দুলে দুলে হাঁটো বলে তাল ধরে নিতম্ব-তানপুরা;
অহেতুক হাসো, খুকখুক কাশো, লাগে খুব অস্থির
দেহ-তটিনীর জোয়ারে আমার ভেসে যায় দুই তীর।
৬.
কণ্টকময় এই পথহাঁটা সেই আদিপাপ হেতু
দুনিয়ার মায়া কাটাতেই দেখি পুলসিরাতের সেতু;
স্বর্গোদ্যানে ভালোই ছিলাম নারী, দায়ী শুধু তুমি,
পাঁজরের হাড়, তোমার কারণে সর্পফণায় চুমি।
৭.
পথের ধূলিতে লুটিয়ে দিয়েছি আমি আত্মস্বার্থ,
স্বভাবের দোষে মুদ্রা চিনি নি বলে বেসাতে ব্যর্থ;
সম্বল তাই ভিক্ষার ঝুলি, ঘুরি ভাবের বাজারে ,
সকাল-সন্ধ্যা জ্বালাই আগরবাতি নিজের মাজারে।
৮.
কঠিনেতে খুঁজে গলদঘর্ম, সব উদ্যম নাশ—
অথচ কঠিনে থাকে না পরমা সহজেতে তার বাস;
হেথাহোথা খুঁজি পুঁথি-পুস্তকে, ছায়াকেই কায়া ভ্রমি
সহজ পদ্যে দেখা দিতে যদি আমার অপরা তুমি।
৯.
ফাগুনে আগুন ঝরে পলাশের-শিমুলের বনে
ফের সে-আগুন দেখি অনূদিত হয় মোর মনে;
একাকী কোকিল ডাকে শুনি মরিয়া কাতরস্বরে
সহজ কবিতা শুধু সেই ডাক তর্জমা করে!
১০.
তোমাকে দেখার বড় সাধ ছিল তাই শূন্যে লাফালে
ডোবা পুকুরের গহীন অতল থেকে ক্ষুদে তিতপুঁটি;
সহসা ধেয়ানী বকের ছদ্মবেশে তুমি তারে খেলে
দুইয়ে মিলনে এক হলো, দিলে সাধ-সাধনার ছুটি।
১১.
কি নেই আমাতে যা আছে কৃষ্ণ ওই বালিকার মুখে?
ওই চোখ দূরে গেলে মন কেন ভোগে বিষাদে-অসুখে?
পরমার ছায়া মেলে— ছিঁড়েছেঁনে ভাবকে করে চূর্ণ ,
বুঝি ওই মুখ ছাড়া কেন আমি এতো অসম্পূর্ণ!
১২.
তিন স্রোত এসে যেখানে মিশেছে তিন দিক থেকে, আহা!
মিশিয়াছে যেথা ত্রিজলা নহর— ত্রিবেণীসঙ্গম যাহা—
যার কথা শুধু শুনেছি অ্যাদ্দিন লোকমুখে, বেশিকম
আজ দেখা হলো চর্ম চক্ষে সেই সরোবর মনোরম।
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন