কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৪

অনুবাদ কবিতা – অর্ক চট্টোপাধ্যায়



জ্যানেট ফ্রেমের কবিতা  অর্ক চট্টোপাধ্যায় 

                       
জ্যানেট ফ্রেমের কবিতা 
অনুবাদ : অর্ক চট্টোপাধ্যায় 




[ জ্যানেট ফ্রেম (১৯২৪-২০০৪) হয়ত জীবদ্দশায় নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বিখ্যাত লেখিকা, কবি ও ঔপন্যাসিক ছিলেন। অথচ আজ তিনি কিছুটা বিস্মৃত। ছোটবেলায় আসাইলাম থেকে ঠিক সময়ে বার করে আনে প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের সাফল্য। সেই থেকে বয়স্কাল পর্যন্ত রহসিয়া মনোযন্ত্রের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছে তাঁর আশ্চর্য রূপকথার ভাষা, কখনো গদ্যের মাধুর্যে আর কখনো আবোলতাবোল পদ্যের স্বাদগন্ধে। এখানে তাঁর ১৯৬৭ সালের কবিতার বই The Pocket Mirror থেকে কয়েকটি কবিতা অনুবাদ করলাম। ]  

স্মৃতিরা আবার 
জ্যানেট ফ্রেম  (অনুবাদ : অর্ক চট্টোপাধ্যায়  )

আমি কোনদিন কোনো খাটপোকা দেখিনি, 
কিন্তু রাত্রিবেলা মনে হয় খাটে বসে 
ওরা আমার রক্ত চুষে খেতে চাইছে 
মাঝে মাঝে ওদের মেরে ফেলি। 
সকালে চেয়ে দেখি 
চাদরের ফাঁকে ফাঁকে নরম মোচড়ানো ওরা স্মৃতি। 

স্বপ্ন 
জ্যানেট ফ্রেম (অনুবাদ : অর্ক চট্টোপাধ্যায়  )

ছোট্ট খুদে মানুষ, চাষের পর ছোট্ট খুদে ক্ষেতে  
(কোন ঈশ্বর ঘাস বাড়ার শব্দ পান?)
কালো বাক্সে আমার দাঁতগুলোও কালো 
কফিনের মতো; আগে খেজুর খেয়েছিলাম 
দাঁতের ফাঁকে আটকে রয়েছে: আগে সময় 
খেয়েছিলাম, তড়তড়িয়ে উঠলো আমারই ক্ষয়ক্ষতি। 
কোন ঈশ্বর ঘাস বাড়ার শব্দ পান?
আর ভেড়ার পীঠে পশম?


আগেই বসন্ত 
জ্যানেট ফ্রেম  (অনুবাদ : অর্ক চট্টোপাধ্যায়  )

কিচ্ছুতে হবে না 
খালি গাছের গোড়ায় 
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে 
একটু ঘষে যাওয়া সবুজ একটা পাতা 

প্রায় যুবতী 
শীতে হারানো কুঁড়ি 
খুঁজে পাওয়া, তার পরণে 
স্মৃতির সবুজ ধুলোর ঝড় 



ছেলেটা পাথরের মতো সাঁতরালো 
জ্যানেট ফ্রেম  (অনুবাদ : অর্ক চট্টোপাধ্যায়  )

ছেলেটা পাথরের মতো সাঁতরালো
তার শরীর 
আর গভীর কুঁয়োর ভেতর 
যোগাযোগ ছিল ক্ষীণ   

কাদা উগরালো চোখ দিয়ে 
সবুজ আগাছার 
সুতোয় গড়ান 
তাতেই পারসেল্ড হলো মৃত। 

মাংস আর জল 
একসময় জানতো 
কিভাবে মিলেমিশে
থাকতে হয় হৃদ-মাঝারে। 

কবিতা - মুরারি সিংহ



 

 

টকে-যাওয়া ত্বক

মুরারি সিংহ



আমার ঘামেভেজা আত্মপ্রকাশে
ডালিম-লিখিত খোঁপা ও আঁচলের
জটিলতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে
গুঁড়ো-সাবান ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা আগুন কামড়ে
মুকুট-পরা মাথার গোঁঙানি কামড়ে
ঝিঁঝিঁদানির উপর দিয়ে ঘুমঘুমিয়ে ছুটে চলেছে
ন্যাপথলিন-মুগ্ধ ঘর-গেরস্থালী

এমন কথা কি ছিল যে লাভ-লোকসানের সহজপাঠে
পা ফেলে ফেলে ছোটোবেলার পদাবলিটিও একদিন
জুটিয়ে নেবে এই হাঘর-প্রবণতা
একথা কি ছিল যে আমারই অতি প্রিয় নদী
একদিন আমাকে অবেলায় ডেকে নেবে
আমারি অলিখিত পাণ্ডুলিপির শববাহক হিসেবে

সময় চলে সময়ের বিধি মেনে
আর সকালের বাঁশি বাজলেই
আমি রোজদিন ডাস্টবিনে ফেলে আসি
এক লণ্ডভণ্ড ভোটারের টকে যাওয়া ত্বক

এবং দেখি মাটির মগডালে কোনো কুহক নয়
ফলে আছে হাহা-মধুপর্ণি ও অনুষ্টুপ ছন্দ

কবিতা – বারীন ঘোষাল





কুমারী পদ্য 
বারীন ঘোষাল
                                                                      
কুমারী পদ্য থেকেই একদিন ছায়া তুলে বেরিয়ে এল পদ্ম
তাকে আমরা কমল বললাম
অক্ষর রক্ষা করে তাকে
                      খেলতে খেলতে কলম করে
বাঁশিটাকে উল্টো করে বাজায়
কাম খোলা ধেনুরা মেঘ চড়ায় পৃথিবীর কাশে

#
 
পদ্যের কুমারী থাকা কত স্কুলপাঠ্য কঠিন 
তাকে আর মেঘদূত পড়াতে হল না
রিংটোন কার্সার ডিস্কো নিয়ে পল্লীর বাইরে যায় সে
তার খালি জায়গাটায় বাতাস ভরে হু
-হু করে

যেমন রেলগাড়ি শব্দটাই চলতো কু-রে           
                                             চূড়োয় বিজন
            বিজনে টোস্ট
                        টোস্টের গ্লাস তোলা ফোলা    
গেলাসে ধরে না এত
বন্যার জল উল্টে আকাশে বৃষ্টি ওঠে খুব