ছড়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছড়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২

ছড়া – রাজগোখরো

দুই বিড়ালের যুদ্ধ
রাজগোখরো


বিশাল বড় ইস্কুলবাড়ি-
বেঞ্চি পাতা সারি সারি,
হোঁতকা মতো দুই বিড়ালে
করলো শুরু মারামারি।

গোঁফ ফুলিয়ে ফুঁসছে লেলো
লেজ উচিয়ে ডাকছে কেলো,
দুই বিড়ালের রাগের চোটে
বেঞ্চি এবার টলোমলো।

লেলো খামছে দিতে দক্ষ,
কেলো কামড়ায় ঠিক লক্ষ্য;
বুজছে না সাদা বেড়াল
যুদ্ধে নেবে সে কার পক্ষ।

সে কি যুদ্ধ হবে ক্যানে?
ও মা এটা কে না জানে,
ছাদের থেকে টিকটিকি এক
মরে পড়েছে যে মাঝখানে।

শেষে শুরু হল যুদ্ধ,
দুই বিড়াল-ই ভীষণ ক্রুদ্ধ,
আমি এবার পালাই বরং-
লড়াই-এ কাঁপছে যে পাড়াশুদ্ধ...। 

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১২

ছড়া - অলকেশ দত্তরায়

ডুমস-ডেঅলকেশ দত্তরায়


সাপ্তাহিকীর গতিবিধি                চলমান দু হাজার বারো,

রাষ্ট্রনীতির দাদাদিদি                প্যাঁচা মুখে হাসি নেই কারো;

ব্যাকগ্রাউন্ড আর ফুটনোট          - মায়ান সভ্যতার শেষে

ক্যালেন্ডারের বারকোড বলেছে    ডিসেম্বর মাসে

একুশ তারিখ এলে পরে             ডুমস্ ডে-তে শেষের সেদিন-

পৃথিবী-টৃথিবী দুম করে              ব্ল্যাক হোলে হবেই বিলীন...

প্যারানর্মাল অ্যাকশান                অ্যাবনর্মাল হয়ে যাবে,

চান্স-টান্স লাভ-লোকশান             সব খেলা সাঙ্গ এ ভবে;

নন্দলালের কথাটাই                   ফলো করা যাক এইবার

শুয়ে বেঁচে-বত্তিয়ে তাই               কোনোমতে জীবন কাবার ।



এই সব ভাট বকাবকি শুণে          কবি হাসলেন খ্যাঁক

বললেন-কাকে কাটাকুটি কার        টুঁটি কে ধরবে ঘ্যাঁক!

পৃথিবীর অনেক বয়স হয়ে গেছে    এটা ঠিক কথা,

তবু এইভাবে আপশোষ স্যাড ফেস নিয়ে করা বৃথা ।

মায়ান প্রেডিকশন আজ                সত্যিই যদি হয় ঠিক

তবে শেষ করে ফেল কাজ            যত আছে এদিক ওদিক-

প্রতিদিন নতুন সকাল                  নিয়ে আসে নতুন প্রমিস

ভবিষ্যতের দিনকাল                   বর্তমানেই ডিসমিস

পাস্টটেন্স হয়ে যাবে মায়া              দু হাজারী মাস পোয়াবারো

একুশে তারিখও হবে হাওয়া          এসে গেলে দুহাজার তেরো ।।


বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১২

মৃণালকান্তি দাশের ছড়া

রঙিন পালক
মৃণালকান্তি দাশ


বুম বুম চাকা চাকা
আমি নই বাবা কাকা
নেহাত বালক -
রোজ যাই ইস্কুল
কিন্তু হয় না ভুল,
সঙ্গে নালক ।
নেই কোনো হাওয়াগাড়ি,
মেঘে-মেঘে দেবো পাড়ি,
আমিই চালক-
আমার সাহস আছে,
পেয়েছি হাতের কাছে
রঙিন পালক ।

সুবীর বোস

পাখি এবং


এবং        শীতের কোনো ভোরে

যখন       শিমূল তুলো ওড়ে
তখন      ছোট্ট সে এক পাখি
হাতে      ভরসা ভরা রাখি
আমায়    মেঘ বোঝাত ছাতে
স্নেহের    নরম বৃষ্টিপাতে

সে বার    ঘুমের ভিতর ঝড়ে

বোধহয়   সুদূর চিতোর গড়ে
দেখি      ভাঙছে বাসা পাখির
ফলে      বিবর্ণ সব রাখি
আমার    চোখের কোণা ভিজে
সে জল   ডানায় নিয়ে নিজে
পাখি      ঝড় তাড়াল রাতের
স্নেহের    নরম বৃষ্টিপাতে।

প্রলয় মুখার্জী

সেই ছেলেটা


সেই ছেলেটা অন্য রকম

অঙ্ক জ্বেলে ভাত করে
ভুগোল বইয়ের একশ পাতায়
অক্ষাংশে মাছ ধরে
সন্ধেবেলা বকযন্ত্রে
আজগুবি তার ইচ্ছেগুলো
ফোটোন কণার দরজা খুলে
চিলেকোঠায় হাঁক মারে!!

ওই খানেতেই হিউয়েন সাঙ

বিচ্ছিরি হাঁ মুখকরে
খামার ঘরের টালি ভেঙে
তেঁতুল গাছে ঢিল ছোঁড়ে
কাছেই ছিলেন আর্কিমিডিস
ভয় পেয়েছেন দারুণ জোর
মেগাস্থিনিস শুয়ে ছিলেন
খ্যান্ত পিসির খামার ঘরে।

ওই ছেলেটা ওই রকমই

ডিরজিওর আপন ঘর
কেশিনাগের হাত পা খুলে
পুতুল মাটির নাক গড়ে।

এই তো যেমন কাল বিকেলে

ওই ছেলেটা বলল সোজা
বীজগণিতের বিষূব রেখা
রমাপিসির বেগুণ ভাজা

তার পরেতেই গপ-গপা-গপ

সূত্রগুলো গোল করে
ভুগোল থেকে দিঘির জল
এক ঘোঁটে খায় কাল ভোরে

হঠাৎ দেখি ঘাসের ডগায়

নড়ে চরে কী ওটা?
ওই ছেলেটা গিলছিল যে
ট্যান-থিটা বাই কস-থিটা।

সেই থেকে হায় অঙ্ক খাতা

উল বোনে আর গান করে
ওই ছেলেটা ওই রকমই
যোগ বিয়োগে ভুল করে।


খ্যাপা

আয়রে খ্যাপা
হৃদয় পোকা
আয়রে ভোলা
...
বুকে আয়

মিছড়ি দানা
খুব খাওয়াব
নক্ষী ছেলে
বিষম খায়

ক্ষেপলে ভোলা
নাগর দোলায়
চড়বে পিয়ুষ
আচমকায়

তুইরে ভোলা
হৃদয় জ্বালা
জ্বলব আমি
তোদের দায়

বলল কে কি
ছড়িয়ে দিল
কিসের কাঁটা
পথের ধুলায়

দলিয়ে দেনা
নিজের স্রোতে
বাঁশির মত
ফুঁয়ের ঘায়

দেখবি ভোলা
বাক্য নবীশ
ফুলের তোরে
মূর্ছা যায়।

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

ভোজন রসিক


বাঁকুড়াতে বাড়ি তার শিবনাথ মাহাতো
লোকজন ধরে এনে দিনরাত খাওয়াতো ।
রাস্তায় যাকে পাবে ধরে এনে বাড়িতে
বলবে- গিন্নী, চাল দাও হাঁড়িতে ।
সাথে চাই জম্পেশ মোগলাই পরোটা
পান্তুয়া খেতে চাও তাও পাবে বারোটা ।
লুচি খাও সন্দেশ কচি পাঁঠা মাংস
তা সে তুমি যেই হও কৃষ্ণ বা কংস ।
শিবনাথ লোক ভালো ব্রেন তার মগজে
যাই তুমি খেতে চাও এঁকে দেবে কাগজে ।

সুমন মাহমুদ

সুমন মাহমুদ এর গুচ্ছ ছড়া


বাবার শাসন

খেলা

রেখে কেবল পড়া
পড়ে
জীবনটাকে গড়া
আছে
বাবার শাসন কড়া
আমার
ভাল্লাগেনা পড়া।

রোদে
ভিজে ফড়িং ধরা
মেঘের
নরোম পিঠে চড়া
ফুলের
সঙ্গে আঁতাত গড়া
নদীর
জলে গোসল করা
ছেড়ে
ভাল্লাগেনা পড়া।

আছে
বাবার শাসন কড়া
হবে
শিখতে লেখাপড়া।



বৃষ্টি ঝরে




টাপুর টুপুর টুপ

বৃষ্টি ঝরে কাঁঠাল পাতায়
দোয়েল পাখি চুপ।

ঝর-ঝরা-ঝর,ঝর
বৃষ্টি ঝরে, যায় না দেখা
পদ্মা নদীর চর।

রুম-ঝুমা-ঝুম, ঝুম
বৃষ্টি ঝরে পড়ার ঘরে
দেয় যে খোকন ঘুম।

হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েত এর দুটি ছড়া


দস্যিছেলে

দুপুরবেলার দস্যিছেলে

দুপুর এখন সন্ধে
বলছে না কেউ কাজ ছেড়ে আজ
দস্যিপনায় মন দে।
কোথায় তোমার রাখাল ছেলে
কোথায় দস্যিপনা ?
মেঘের সাথে আর কি তোমার
হয় না বনিবনা ?
গাঁয়ের মানুষ কাটলো সেদিন
বুড়ো বটের গাছটা
মরলো পাখি জোড়ায়-জোড়ায়
টের পেলো না আঁচটা।

বিল মরেছে
চিল মরেছে
নীল গিয়েছে দূরে;
ঘর পুড়েছে
চর জুড়েছে
বিষাক্ত রোদ্দুরে।

রোদের গায়ে পাখনা

এবার সোনা আঁকনা!
ধর’না খুলে বাংলাদেশের
রুপোর থলের ঢাকনা।


স্বপ্নধরারফাঁদ



আমার কাছে চাস কী রে তুই

ধান নিবি না
পান নিবি রে
চাস কি যেতে
চান শিবিরে
হাটের মাঝে হাটুরে
কোথায় যাস কাঁঠুরে
চ্যাং দোলাতে
ব্যাং ভোলাতে
রঙিন পাতা
হরিণ ছাতা
আয় না তবে সোনাটা
শেখাই আপেল বোনাটা

ফুলের কাঁটা

মেন্দি বাঁটা
বৃষ্টি বাড়ি
তবেই আড়ি
আড়ি আমার মামা তো
পাঠিয়ে দেবে জামা তো
জামার হাতে বোতাম কই
সুই সুতো কি তারার সই?
রিম ঝিম ঝিম তারারা
উঠলো জেগে পাড়ারা
ঘুমের গাছে চাঁদ
আয় এখানে সাজাই তবে
স্বপ্ন ধরার ফাঁদ।


চৈতালী গোস্বামী

ছড়ায় ছাড়খাড়


ইকির মিকির

চলছে জীবন ধিকির ধিকির
চাম চিকির
হাজাররকম ফন্দি-ফিকির
চন্দামামা আয় রে আয়
বুলবুলিতে ধান খেয়ে যায়
টিপ দিয়ে যা ঘাম কপালে
সাহস জোগাস ধাক্কা খেলে

মাসি-পিসি বনকা বাসি

ত্রস্ত মুখে মিলায় হাসি
টাপুর টুপু্র বৃষ্টি পড়ে
ক্ষিদার পেটে ভজন করে

আদুর বাদুড় চালতা বাদুড়

কলাবাদুড়ের বে
নিভন্ত এই চুল্লিতে আজ
একটু আগুন দে
দুই পাড়ে দুই রুই কাতলার
লড়াই বেঁধেছে
আবীর রঙে সাজছে বনে
ফাগুন লেগেছে
নোটন নোটন পায়রাগুলি
কোমর বেঁধেছে
এবার বুঝি টললো আসন
মানুষ জেগেছে।

আইকম বাইকম তাড়াতাড়ি

সব্জি দামে বাড়াবাড়ি
রেইন কাম ঝমাঝম
নেতার বুদ্ধি বড্ড কম।

আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে

গানের বোলে ডি.জে নাচে
ধেই ধাই ধাই ডিস্কোর ধুম
ক্লান্ত চোখের কাড়ল ঘুম

শিং তুলে সব হাট্টিমাটিম

মারছে গুঁতো, ফাটছে ডিম
ডিম ফেটে সব কেউটে সাপ
সাপের ছোবল, বাপ্‌রে বাপ।

পাগলা ঘোড়া ক্ষেপেছে

কোদাল ছুঁড়ে মেরেছে
কোদাল ছিল ভোঁতা
ফাটল তবু মাথা
লেফট রাইট ঠাকঠুক
নেতা খায় চা-বিস্কুট
আর কথা নয় নটেগাছ
গপ্পো আমার অন্ত আজ।


দেখে যাস বাপু রে



বাবুরাম সাঁপুড়ে
দেখে যাস বাপু রে
সাপ দুটি দিয়েছিলি
দিলো কোটি অণ্ড
অণ্ড ফুটে যত
কেঊকেটা বেরোলো
তাদেরই দাপটে
লণ্ড-ভণ্ড।

বলেছিলি চোখ নেই
সিং নেই, নখ নেই
এ যে এলে বেলে সাপ!
মারে নাকো ধুপ-ধাপ
তাই জেনে ঝুড়ি থেকে
বের করে গদীতে
যেই ক্ষণে বসানো
শুরু হ’ল শাসানো!!

ছোটে না, হাঁটে না
যুক্তিও খাটে না
কি যে করি!!
কারে ধরি!!
এই সাপ কেটে দিলে
হরিতেও রাখে না।

ত্রাসে ত্রাসে বনবাস
আয় বাছা, দেখে যাস
দুটি সাপ দিয়েছিলি
যারা দিল অণ্ড
তাদেরি দাপটে
সব শ্রম পণ্ড ।।

বোরহান মাসুদ

নতুন ভোর


সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে              হলদে রঙের ঝিঙেফুল

বাঁধন হারা চাঁদের মেয়ের-            জোছনাবরণ রঙিন দুল।
পুকুর পাড়ে হেসে হেসে                চমকে ওঠে নতুন ভোর
মনভরানো রোদের ঝিলিক       পেরিয়ে আঁধার খুলল দোর।

সকালবেলার শিশিরকণায়               করছে স্নান সবুজ ঘাস
ঝিঙে মাচায় দোয়েল পাখি               মিষ্টি সুরে হয় উদাস।
চুলদোলানো গাঁয়ের মেয়ে              দৌড়ে গেল পুকুর পার
ফুল দেখে সে আত্মহারা                হয় উদাসী মন বাহার।



মাসুম আওয়াল



মাসুম আওয়াল এর দুটি ছড়া
হাতি

এক যে ছিল হাতিরে ভাই
এক যে ছিল হাতি
হাতির ছিল ডজন খানেক
পুতি এবং নাতি।

বনের ভেতর হল্লা করে
ঘুরতো সবাই মিলে
পেঁচিয়ে শুঁড়ে আস্ত কলার-
গাছকে নিতো গিলে।

কিন্তু হঠাৎ হলো যে কী
পাই না তাদের দেখা
বনের অন্য প্রাণীরা সব
ঘুরছে একা একা।

বেশ ক’বছর পরের কথা
ঘুরতে গিয়ে মেলায়
বনের হাতির দেখা পেলাম
সার্কাসের এক খেলায়।

দূরন্ত সব হাতিগুলো
সেজে আছে বোকা
তাদের পিঠে বসে আছে
পিচ্চি মাহুত খোকা।


ভূতের ভয়

ভূতের ভয়ে ঘুম আসে না রাতে

ভূতের ভয়ে দাঁত লেগে যায় দাঁতে
ভূতের ভয়ে বন্দি হয়ে ঘরে
ভূতের ভয়ে গা পুড়ে যায় জ্বরে।

ভূতের ভয়ে হাত-পা শুধু কাঁপে
ভূতের ভয়ে আছি ভীষণ চাপে
ভূতের ভয়ে যাচ্ছি শুধু ঘেমে
ভূতের ভয়ে প্রাণটা আছে থেমে।

ভূতের ভয়ে থরহরি করব এখন কী
খুব জোরে এক হাচ্চি আমি
অমনি দিয়েছি
ভয় পেলে কি আর ওসব হাচ্চি-টাচ্চি হয়
হাচ্চি দিয়েই তবেই-না,
কাটলো ভূতের ভয়।

ইন্দ্রাণী সরকার

ব্যাঙ্গমা আর ব্যাঙ্গমীর গল্প


ব্যাঙ্গমা কয় ব্যাঙ্গমীরে - বলব তোকে আজ,

আজব দেশের রূপকথা মস্ত যে তার রাজ |
রাজকুমারী চম্পাবতীর চাঁপার মতো রঙ
মেঘবরণী কৃষ্ণকেশী লজ্জাবতী ঢঙ |
দোরের ধারে বসেছিল রূপমতি কন্যা
চাঁদের আলোয় উছলে পড়ে এমন রূপের বন্যা |
হঠাৎ দেখে জ্যোত্স্না ঢাকা আলের পথ বেয়ে
স্বপ্নদেশের রাজার কুমার তার দিকেতে চেয়ে
পলকহারা চোখের তারায় গভীর চাউনি তার
রাজকুমারীর অবাক চোখে পলক পড়ে না আর |
ব্যাঙ্গমী কয় ব্যঙ্গমারে, তারপরে কী বল্
চুপ করে আর থাকিস না তো, করিস মিছে ছল |
হাস্যমুখে ব্যঙ্গমা কয়, তারপরে কী বলি
চুপ করা এই রূপকথাতেই ভরল কথার থলি |


আজব রাজা



আজবপুরের রাজামশাই

থাকত একটা ঝিলে
লোক লস্কর গিলে গিলে
পেটে হলো তার পিলে |
পিলের ব্যথায় রাজামশাই
বাপরে মারে চেঁচায়
সবার তখন গালে হাত
জানটা বুঝিবা যায় |
জ্যোতিষ আসে, বদ্যি আসে
ঘোড়ার গাড়ি চড়ে
চোখ বুজিয়ে চিন্তা করেন
লম্বা দাঁড়ি নেড়ে |
কূল কিনারা পায় না কেউ
এ কী ভীষণ দায় !
অসুখটা যদি না ধরা যায়
প্রাণটা যে তার যায় |
ছুতোর এক যাচ্ছিল বুঝি
সেই পথটি দিয়ে
ভিড়টা দেখে অবাক হয়ে
ভাবল মনে কী এ !
লোকের কাছে জানলো ডেকে
সব কিছু ঠিক ঠিক
ভাবলো মনে, এই ব্যাপার,
করব একটা গতিক |
রাজার কাছে গিয়ে বলল,
চিন্তা কিছুই নাই,
ভালো আপনায় করবই আজ
ওগো রাজামশাই |
এই না বলে কাস্তে দিয়ে
মারলো রাজার পেটে
ফটাস করে বেরিয়ে এলো
পিলেটা পেট ফেটে |
সবাই বলে, ও বাবা গো,
এ কী আজব কাণ্ড !
এই জন্যই পেটের ব্যথা
থামে না এক দণ্ড |
ছুতোর তখন সেলাই করে
রাজার মস্ত পেট
সেলাই শেষে রাজা মশাই
মাথা করল হেঁট |
বলল কেঁদে, আর কখনো
লোক খাবো না ওরে
ও ভগবান, এবার আমায়
ক্ষমা কর যে রে |
নাক মুলছি, কান মুলছি
ভালো ছেলে হবো
সবাইকে আদর করে
দই মিষ্টি দেবো ||

অনুপম দাশশর্মা

জাতের স্বভাব তাই পালাই ...


হেতাল বনে কি কুক্ষনে গড়াচ্ছিল ন্যাকড়া বল
ল্যাজ নাড়িয়ে কালু কুত্তা কুঁচকিয়ে নাক বলল চল
রাতবিরেতে দেখলে ছায়া ভাসাই যখন ঘেউ-এর ঢেউ
বাঁচাল প্রাণ সব শয়তান একবারও তা জানায় কেউ?
ওই ব্যাটারাই বিরাট ঘরে আউট হলে চেঁচিয়ে মরে
লক্ষ ডেসিবেলের ঝড়ে ঘেউ ঘেউ তান আছড়ে পড়ে।
ঠিক করেছি সবুজ বনে শেয়ালভায়ার সঙ্গে রণে
দশ ওভারের লোপ্পা ম্যাচে ফাটিয়ে দেব ক্রিকেট জ্বর।

আঁচড়িয়ে মাটি ছিল গুটিশুটি হুমদো সাদা বিড়াল
তড়িঘড়ি গুঁড়ো মাটি চাপা দিয়ে বিষ্ঠা করে আড়াল
দুটো মিনি নিয়ে বিনি পয়সায় আম্পায়ার হতে রাজি
হুলো বলে, জেনো শেয়ালের দল অসি'দের থেকে পাজি।

দিন হরতাল জন-জঙ্গল বন্ধ দোকানপাট
ঝেঁটিয়ে পাড়া সব লেজখাড়া ক্রিকেটের উত্তাপ
দশটি ওভার পিটিয়ে খেলে শেয়ালরা বিশ্রামে
বাঁকান লেজে চক্কর মেরে সারমেয় মাঠে নামে,
মিনিটখানেক সব চুপচাপ দেখা নেই শেয়ালের
চারিদিকে ঘেরা লেজ বাহারীরা পিছু হঠে দেয়ালের।

দূর থেকে ছুটে আসছে দেখ ঘোষবাবুদের 'লাকি'
লকলকে জিভে টসটসে রসে উইকেটে দিল ঝাঁকি
গত কদিনের জমানো খাদ্য যা ছিল মাটির গর্তে
হতচ্ছাড়া অতিথি শেয়ালে ঝেড়ে পড়েছে সটকে।


পীযুষকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়

ভু
যত কালো ভুত আর আলো ভুত
কিছু ভালো ভুত কিছু দুষ্ট
কেও রোগা ভুত জ্বরে ভোগা ভুত
কটা মোটা ভুত কেউ পুষ্ট।
...

যারা বোঁচা ভুত বড় ওঁচা ভুত
আঁতে খোঁচা ভুত যায় আপিসে
সব হাবা ভুত কাকা বাবা ভুত
খোলা থাবা ভুত রাগে কাঁপিসে।

কিছু স্কুল ভুত পুরু স্থূল ভুত
কানে দুল ভুত শুধু ধমকায়
কিছু মিস ভুত কাট-পিস ভুত
মুখ বিষ ভুত পিলে চমকায়।

কিছু আমি ভুত গালে হামি ভুত
তারা মামি ভুত বড় আদরের
চেপে ধরি ভুত রাতে স্টোরি ভুত
হাতেখড়ি ভুত সব বাঁদরের।

এই যত ভুত কত অদ্ভুত
থতমত ভুত জাগে সাড়াতেই
লেনাদেনা ভুত কিছু কেনা ভুত
সব চেনা ভুত থাকে পাড়াতেই।

অমিতাভ দাশ

ছেলেবেলা ২০১২


আতা গাছে তোতারা নেই
স্কুলের ক্লাসে তোতা
গজ্ গজ্ দিগ বিদ্যা ভরেই
মাথা হচ্ছে ভোঁতা...

কুমিরেরা বোর্ডে বসে
ফেলছে চোখের জল
পেরেন্ট-টীচার বিবেক-সাবান
আহা কি নির্মল!

ডালিম গাছ জিনিসটা কি
মৌ আবার কি হানি?
রূপকথা নয় পটার হ্যারি
একটু পরে নি?

ঠাকুর্মা তো বৃদ্ধাশ্রমে
ঝুলি তো দেখিনি?
টুনটুনির কি গল্প আবার
সে তো বাড়ির ঝি!

[প্লাস এটা ইউ নো... না?
বাংলা শিখিনি !!]