সংখ্যার-কবি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংখ্যার-কবি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৩

এই সংখ্যার কবি - ব্রততী চক্রবর্তী

এই সংখ্যার কবি
ব্রততী চক্রবর্তী


কথকতা - ১



বুভুক্ষু কালাহান্ডির চোখে ফটফটে সাদা ভাত আর

রুদ্ধ নিঃশ্বাসে গরম ফ্যানের ঘ্রাণ !
তোর জন্য আগুন জ্বেলেছি ...
ভুল করতে করতে ভুলগুলো গান হয়ে যায়
আর আমার চানঘরে গুনগুন করে
পেন স্টান্ডে লাল-নীল-সবুজের শৌখিনতা
তবে বোবা কলমের আঁচড়ে রং থাকে না
প্রেত যোনির দীর্ঘ নিঃশ্বাস শুকিয়ে থাকে শুধু !


কথকতা - ২



হোঁচট খেয়ে পা যায় পিছলিয়ে --

আমি সটান পৌছে যাই এক বোধি জগতে ।
আমার চারপাশে গিজগিজ করে বাক্য শব্দ
ভিন্ন বর্ণ রকমফের আকারে
লম্বা বাক্য, খাটো বাক্য
শ্বেত বাক্য, নিকষ বাক্য
শ্লীল বাক্য, সেয়ানা বাক্য
রাজা বাক্য, প্রেত বাক্য ।।
আমি মিশে যেতে চাই গভীর অভিনিবেশে ;
ব্যর্থতা চিবুকে রাখে দিকনির্দেশ,
যে বাহারে ফুসফুসে অক্সিজেনের যোগান নেই
তার ফুরিয়ে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত ।
আমি আবার গোছ-গাছ করে নেই .


কথকতা - ৩



পাথুরে পথের রুক্ষতা শ্যামলী আলো

চোখ ভেসে যায়; শেষ রাতের ক্লান্ত চাঁদ
ভোরের আড়ালে তখন নিকষ সবুজ
আঁকা-বাঁকা পথ সরলরেখা গতি
বায়বীয় যত জটিল সূক্ত, অকারণ তত
কঠিন স্তোত্র; জাতকের কাহিনীর অনিয়ম
স্মৃতি-তর্পণ ! কোনো এক বিস্মৃত বিবর্তনবাদ
সচল কায়াময় -- মস্তিস্কের ধূসরতায় উত্তর
সেইসময় নিরুত্তর, সুপটু কোনো চিত্রকরের
নিপুণ কর চাপে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে যায়
দিগন্ত-বলয়; পার্থিব যাবতীয় স্থুলতা লহমায়
অনিকেত এবং সহজ ভারহীন শূন্যতা !
হৃদয় অবগাহনে নিরিবিচ্ছিন্ন নির্বিকল্প প্রশান্তি।


কথকতা - ৪


কোনো আবরণ রাখিনা তাই আড়ালটুকু শুধু

ঋণ - পরিশোধে বিব্রত মূলধন
এই নাকি উন্মুক্ত বাতায়ন ! পদব্রজে পার হয়
যুগাতি বর্ষ - এর জন্য !
সমস্ত আলোচনা মুলতুবি রাখি কোনো এক
নিস্পৃহ স্থিতিশীলতায়
এই মনের অনেক দন্দ্ব, মধ্যযামের ঘন্টাধ্বনি
আগুন জ্বালায়, ছটপট করি
বিরতির পর থাকতে পারে কিছু চমক
এমন ভাবি - হয়তো নির্বুদ্ধিতা
ঘোর ব্যাপারটা সম্পূর্ণ সাময়িক, বুঝেও
যা বুঝতে চাইনা --
কিছু অকারণ প্রশ্নবোধক আঁচড়ায় কামড়ায়
দুমরায় মোচরায়
হৃদয় থেকে চেঁছে ফেলি সমস্তকিছু যা
ঘটাতে পারে ছন্দপতন !


কথকতা - ৫



ওই খানে - ওই বেঞ্চির ওপর,

শিরদাঁড়া সোজা আর মুখের এক
তৃতীয়াংশ সূর্যের সমান্তরাল |
বেয়াদপ !কানে ঢুকছে না কথাগুলো !
ল্যাম্প পোস্টের গায়ে কাদার ছিটে,
ছাল ছাড়ানো মুরগির মত উল্টো ঝুলছে
শতাব্দীর সব বুদ্ধিজীবী শব্দেরা!
ফাঁকা ডাস্টবিন ময়লা ছড়ানো খাওয়ার
টেবিলের আশেপাশে, আবার সেইসব
ছ্যাবলামি রোজ সকালের দাঁত ব্রাশ
আর দুপুরের ভাতঘুমের মত হাই তোলে
ধমকানির শব্দটা শোনা যাচ্ছে না
হাতের তালু কানা -- এইসব বধির চোখ
আর এই বেতের শব্দে চমকাবে না,
শুভ বুদ্ধির গুরুদশায় সব নিয়ম নাস্তি !


কথকতা - ৬



আমার মতন করে আমাকে খুঁজে নিতে চাই

কিছু নিয়মিত সমীকরণ আর অকারণ আঙ্গিকে
আমার রোজকার ঘেন্না ! জিভের তলা সুড়সুড় করে
রং করা নখে চাপা পড়ে বিপ্লবের ইচ্ছা, সুযোগ বুঝে
আবার নেতিয়ে পড়ি ; তবু কোনদিন এভাবেই চেনা
চাঁদের অর্থ বদলে থাকে, অভ্যস্ত শীতলতায় কালি কলমে
ঘাড় গুঁজি - বুভুক্ষু কিছু ইচ্ছেকে লালন করি !


কথকতা - ৭



প্রতিটা অক্ষর ঋণ - দেউলিয়া ভাবনার জমা-খরচের

খাতায় বিস্তর ভুল আর কাটাকুটি |
প্রতি মুহুর্তে এক অস্তিত্ব সংকট !
বিপন্ন সৃজন আড়াল চায় -
এখন শুধু ঢেউএর সহজ টানের অপেক্ষা;
জোয়ারের ছোঁয়া এড়িয়ে জলে আলতো স্পর্শ,
ভেসে যেতে আজ বড় ভয় !
তবু ওই নিয়ম ভাঙ্গার ডাক বারবার
আমাকে অবশ করে - টেনে হিঁচড়ে
আনে নিরাপদ আরামের বাইরে !
আমার শব্দকে নিশি ভর করে
ঝাঁপ দেই পাগলামিতে !

শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

শঙ্খ ঘোষ সিরিজ - অরুণাচল দত্তচৌধুরী

শঙ্খ ঘোষ সিরিজ
অরুণাচল দত্তচৌধুরী

(১)
শব্দ হরিণ ধরবে বলে
পদ্য মাখা ফাঁদ
দিন রাত্তির বিছিয়ে রাখে
এ’টাই অপরাধ
লোকটা সে দোষ স্বীকার করেও
সংযত নয় মোটে
সমস্তক্ষণ শব্দ সাজায়
সুখে ও সংকটে
বিষণ্ণ এই পৃথিবী ছোঁয়
জ্যোৎস্নামাখা চাঁদ
মরতে মরতে মানুষ মাখে
বাঁচার অপরাধ।
কলম যখন আঁচড় কাটে
অস্ত্র বোধ হয় ওটা
গড়িয়ে পড়ে অমৃত আর
আগুন বিষের ফোঁটা
লক্ষ হাজার অযুত ফোঁটায়
বর্ণমালার নদী
দিনযাপনের পাপগুলো সব
ভাসায় নিরবধি
তাই তো তাকে শাস্তি দিলাম
আমরা অতঃপর ...
নদীর পারেই বসত করো
শব্দ নিয়ে ঘর



২)

পালিয়ে যাওয়া অবাধ্য শব্দেরা
ফিরছে শঙ্খ ঘোষের পিছু পিছু
প্রায় দিগন্তে যাদের ঘোরাফেরা
তারাই জানে আকাশ কত নীচু
সত্যি কথা বলার পরেই শোনো
ঘরপোড়াদের সিঁদুর মাখা মেঘে
যদিও আমরা বলি না কক্ষনো
যাচ্ছে ভয়ের গোপন কথা লেগে
সে’সব আগুনজলের কাহিনিকে
সাবধানীরা ভাবছে অবান্তর?
ভাবলে ভাবুক। কলম শুধুই লিখে
রাখছে নিজের শরীর ভরা জ্বর।


অজ পাড়াগাঁয় শহর মফসসলে
তুচ্ছ এখন জ্বরের আলোচনা
টিভির বাক্সে সন্ধ্যে সকাল দোলে
সংস্কৃতিময় সিরিয়ালের ফণা।
মন তো খারাপ হচ্ছে প্রতিদিনই
আমরা বরং কবিকে নিই চিনে
শব্দভেদী বান পাঠালেন যিনি
পুব পশ্চিম উত্তরে দক্ষিণে



৩)

তুমি নাকি প্রকাশ্যে গোপনে
লিখে যাচ্ছ সমসাময়িক?
সমস্ত পড়িনি। মনে মনে
ভেবে গেছি ... পড়ে নেবো ঠিক
আমার এই পল্লবগ্রাহীতা
যদি পারো ক্ষমা করে দিয়ো
যুদ্ধারম্ভে পড়ে নেবো গীতা
আপাতত শান্তি বড় প্রিয়
বাজেটের প্রতিরক্ষাখাতে
জমা থাক নির্ভেজাল দেনা
আমি জানি তোমার লেখাতে
ঘুম ঘুম শান্তিটি মেলে না
রোজ দিন ক্লান্ত মনে দেহে
তবু তুমি আমারও বিবেক
নেতা বলে ‘শঙ্খ ঘোষ কে হে?’
আমি বলি ‘আগে বাংলা শেখ্’!



৪)
কাটআউট ভরা বিজ্ঞাপনের রাজা এবং রাণী
মুখ ঢাকা এই শহর বোঝে সমস্ত শয়তানি।


মাঝ দুপুরে শহর জুড়ে বৃষ্টি নেমেছে
রাস্তার তো ভেজার কথাই। আর কে ভিজেছে?


ভিজল হয়তো কাগজ কলম কবিতা একপাঁজা।
কবি নিজেও ভিজল বুঝি? মেজাজটাই তো রাজা।


না থাকলে সে, যমুনাবতী জন্মাতে পারতো না।
সেই তো দেবে শেষ বিকেলের বাবরকে প্রার্থনা।


ভিজবে না তাই আগুন। বুকের জ্বলতে থাকা পাবক
বুঝিয়ে দেবে বন্ধু কে, ... আর ... কে সেই অভিভাবক!


৫)
জীবিতরা মিশে যায় মিথ-এ
মোড়ে মোড়ে ফ্লেক্স ঝোলে ফ্রেশ
এরই মাঝে গ্রীষ্মে ও শীতে
ভাষা নিয়ে ঘোরো দরবেশ


ঝুলিভরা জাদু মুখরতা
দুয়োরে দুয়োরে কর ফেরি
ভয়ে আলো চেনেনা জনতা
হাতে হাতকড়া মনে বেড়ি


তারা চেনে তোলাবাজ নেতা
তারা চেনে রংবাজ পেশী
কী বা লাভ জেনে কবি কে ... তা’
পাগলু চেনালে লাভ বেশি


আরও লাভ যদি চেনা যায়
ফ্লেক্স যার মুখের বিলাস
যুদ্ধ তো রাজায় রাজায়
উলুখড় হয়ে যায় লাশ


তোমাকে সাক্ষী মানে তারা
রীতি মেনে অবজ্ঞাও করে
আমাদের অত নেই তাড়া
ভাষা দাও আমাদের স্বরে



৬)


তোমাকে অনেক দিতে সাধ হয়, ভাঁড়ারে শব্দ নেই তাই
তোমারই বাগান থেকে তুলে আনি, যত্ন করে গাঁথি সুতো দিয়ে
চিনতে পেরেছো হয়তো, কিম্বা সেই গ্লানিমাখা শব্দ অভিলাষ
আমাকে তেমন করে ছুঁতেই পারেনি কোনওদিন
তবু শোনো ধার চাইছি, কথা দিচ্ছি যথাকালে শোধও দিয়ে দেব
বিধিমত দাবী করলে সাথে অতিরিক্ত দেব বিক্রয় কোবালা


আমার ধ্বংসবীজ জন্মাবধি এখানে প্রোথিত। ঠিকমত মাটি জল পেলে
চিৎকারশব্দে এক নতুন অঙ্কুরমালা জ্বলে উঠতে পারে
পাথরে শেকড় গেঁথে কথাবৃক্ষ উঠে যাবে আকাশের দিকে
এমন প্রার্থনা করলে, চেনা দুর্যোগের মত ঘুর্ণি পাঠিওনা
ঝিমধরা সময়কে চোখে চোখ হৃদয়ে হৃদয় রেখে বলতে দিও
তোমার সমস্ত নিতে সাধ হয়। আপাতত মুছে দাও ভুল ধ্বংসটুকু ...


৭)
ইচ্ছে হলে দিনগুলোকে কচকচিয়ে মেঘ মাখিয়ে খাবো।
আঁশ থাকলে ছিবড়ে হবে। সেটুকু ঝুঁকি সবসময় থাকে।
দাঁতের ফাঁকে কবিতাকুচি খোঁচাতে হবে গোপন টুথপিকে
তবেই সেই দন্তরুচি ভদ্রভাবে প্রকাশ করা যাবে
ট্রাফিকরুল ভঙ্গকারী কঠিনতম শাস্তি পাবে জেনেও
অশ্বমেধে চলেছে তবু কবির দল দেশে ও সন্দেশে
উল্টোদিকে ডাস্টবিনের আড়াল থেকে জাতভিখিরি যারা
খাবলে খায় গায়েও মাখে গতরাতের উদবৃত্ত ব্যথা
তরকারিও সেইটুকুই দরকারি যা ভাষ্য মেনে চলে
মনোমোহন মোহনভোগ দেবার আগে রোজ দু'বার ভাবে।
কথাটা ঠিকই কবিতা নয় সুলভ যাদু ... অ্যাফ্রোডিসিয়াক
অ্যাণ্টাসিড সহযোগেও। তবু কিছুটা সহজপাচ্যতা
দাবী করেছে কলমহাতে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক যুবতীরা।
কালিতে নয় ... কলমে নয় ... কি-বোর্ডের নকল কথকতা
ছদ্মবেশে যজ্ঞভূমি বিনা আয়াসে দখল করে আছে।
ওদের আজ প্রশ্ন কর। দখল কর কবরখানাগুলি।
দৈর্ঘ আর প্রস্থ মাপো। খুঁড়তে থাকো নিজের উচ্চতা।
সবাই যেন উঠতে পারে, নিজেই ... শেষ কেয়ামতের দিনে।
প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিচারসভা সাজিয়ে রাখা আছে
সাজান আছে সওয়াল আর নিজের মত তীক্ষ্ণ যুক্তিও।
আর তা'ছাড়া সবাই জেনো লক্ষ্যভেদে ততটা পটু নয়।
মুখোশদের দাঁত থাকে না। আড়াল থেকে নিজের উদ্যোগে
ইচ্ছে হলে চিবিয়ে খাবো প্রাত্যহিক দিনযাপনগুলি
বাঁচুক শুধু ঝড়ের মত শর্তহীন কবিতা কল্পনা



(৮)

আমার বড়ই জ্বর। এসো তুমি। বসো এই ঘরে।
কবিতাপ্রপাত এনে ঢেলে দাও আমার শিয়রে।
ভয়ের তরাসে জ্বর। এ’ অসুখ দারুণ ছোঁয়াচে।
প্রতিবেশীরাও নাকি নিত্যদিন পোড়ে এরই আঁচে।
শরীরে কাঁপুনি ওঠে। জড়োসড়ো হয়ে থাকে মনও।
তবুও বুঝতে পারি পাণ্ডুলিপি গাঢ় আর ঘন
কুয়াশার মত ঝরছে মেলে রাখা খাতায় কাগজে
তুমি যা বলতে চাও সবই ওই বর্ণমালা বোঝে
সবুজ হলুদ লাল অস্যার্থে পুরো ভিবজিওর
রাত কিছু রঙ ঢালে, বাকি সব রঙ জানে ভোর।
পাকদণ্ডী বেয়ে উঠে আকাশে ছড়িয়ে যায় রঙ
একে কি স্বপ্ন বলব? কবিতাই বলছি বরং ...
বুঝি না জ্বরের ঘোরে যা দেখেছি, সবই কি কবিতা?
অসুস্থ সময়কে আরোগ্য এনে দাও পিতা।

শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

এই সংখ্যার কবি - তন্ময় ধর

তন্ময় ধর

গোধুলির স্লাইডিং

১।
অস্নানের একটু বার্নট সায়ানা
কুহকের
এই অস্পৃশ্য কোণে
লিখলাম বা বৃষ্টির স্বরে এগোলাম

২।
সদ্য মৃতের ত্বক
ব্লেড, কুয়াশা,দুধ, শিলালিপি ও ধাতুযুগ
গল্পের শিকড়ে সব
‘স্থলকমলগঞ্জনং মম হৃদয়রঞ্জনং জনিতরতিরঙ্গপরভাগম
ভণ মসৃণবাণি করবাণি চরণদ্বয়ং সরসলসদলক্তকরাগম’
স্বচ্ছ করে দিচ্ছো তোমার কান্নার ইনফ্রা-রেড

৩।
এক রহস্যময় ডুবসাঁতার আমার সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে
পিছনে
আর এক অন্ধ জলস্তর
স্মৃতিহীন শাদা মথ ও রক্তবস্ত্রের উপকথা-
‘ঝালটা কি একটু বেশি হয়ে গেছে?’
উত্তর এসে
ভাসিয়ে রাখে খড়-মাটির কঙ্কাল


অপরাহ্নের স্লাইডিং

১।
কঙ্কালের উপসর্গ আসার আগে
ওই নাভিবিন্দু থেকে উড়ে গেছে
আহত সরাল

২।
মাছের খাবারের ছায়ায় আরেকটু জলরঙ
পূর্বমাতৃকার উচ্চারণ থেকে সরতে থাকে
মাছের আঁশ ও ট্রমা

৩।
‘অধরসুধারসমুপনর ভামিনি জীবয় মৃতমিব দাসম’
একটি প্রাচীন উভচর
স্বপ্নের বিপরীতে
খুঁজে চলে সীমানার অন্ধতা


দ্বিপ্রাহরিক স্লাইডিং

১।
ডুবলে আর একটু কোয়ার‌্যান্টিন
অলোকসামান্যে
যত বৃথামাংসের কুসুম কুসুম
ভাঙলেও
অতিচার
জন্মান্ধ আঙুলের ইমেজ

২।

না-ভাষায়
এইভাবে স্বচ্ছ সন্তানের মৃতদেহ ভেসে আসে;
ওর চুল থেকে মৃত ঝিনুক ছাড়িয়ে নেয় পূর্বমাতৃকা
নীল রঙের এক একটা পচন

দূর থেকে
আমাকে দেখে পক্ষীমাধ্যমের ধুলিখেলায়

৩।
স্বাদের হালকা ক্যালকুলেশন থেকে
টুপ
নির্দেশতল ছাড়াই উড়ছে নীলশির হাঁস

মীনপংক্তির সহজিয়ায়
জলের বিম্ব ফিরছে
চুপচাপে

বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১২

রত্নদীপা দে ঘোষ

রত্নদীপা দে ঘোষ
ইন্দ্রিয়

নক্ষত্রের আলো বিশ্লেষণ করে পাওয়া যায় পাঁচ প্রকার ইন্দ্রিয় ।
চক্ষু , কর্ণ , নাসিকা, জিহ্বা এবং ত্বক । এই পাঁচ ইন্দ্রিয় ঘিরে প্রজাপতির সীমান্তট্রলার , অস্ফুট সন্ততির স্পেসমহলো ...


চক্ষু

তামা , আকরিক এবং পাতালের কনডেন্সড জল দিয়ে তৈরি চক্ষু বা চোখ । অল্পবয়েসিনী চোখে সুরেলা গয়না । জাদুজ্যোৎস্নায় পৃথিবীর সাদা রেলিং । একেকদিন রাতবিরেতে ঘুম ভেঙে চোখের বারান্দায় ঘন হয়ে আসে আস্তিনপতঙ্গ । জ্যামিতিতে দাঁড়ানো চোখের দরিয়ায় ছিপছিপে ঘুর্নি । যেভাবে তুফান গিলে খায় পাখিচর , কুণ্ডলী পাকিয়ে পাথরকুচিচোখে দস্তানা নামিয়ে রাখে যাবতীয় ঋতু , পলিমাটির সকলচিহ্ন । নকল পশম খুলে চেয়ে দেখো হে বৃদ্ধচক্ষু , হৃৎপিণ্ডের মায়াবী ধারে ঝুঁকে দাঁড়ানোই চৈত্রপ্রাণায়াম


কর্ণ

কথ্য ভাষায় সূর্যের গিরিখাদ থেকে পার্থিব টিউন । সদ্যোজাত জোয়ারে ফিসফিসিয়ে ওঠে মৎস্যগন্ধা গোমতী । তার ডুমোডুমো শব্দগুলো শুনতে পাই স্পষ্ট । পূরবী লাগে যখন ফিনফিনে ঢেউয়ের মোজাইকবিস্তার এমনকি কান পেতে শুনি নাতিদীর্ঘ আয়ুহ্রদের ভাঙা বোতাম। চাঁদ সদাগর আর মনসার বাঁক পেরিয়ে হাফিজের পাণ্ডুলিপির শব্দে সিন্দবাদ জেগে ওঠে জাহাজের দ্রাঘিমায় ... পালতোলা বালিকার রুখাশুখা চুল গাঁথে মুখচোরা বিনুনিশব্দ , খুশির লহমায় হরিণপায়ে দৌড়োয় সেফটিপিনপুতুল .. অলৌকিক মুক্তো গড়ার শব্দবিকেলে ধরা পড়ে অযুতকর্ণকুহর !


নাসিকা

নাসিকা অর্থাৎ নাকের অবস্থান জোড়া দীঘির মাঝখানে । লম্বাটে রোদঘড়ির দুপাশে রেডিওছাউনি ঈষদুষ্ণ পায়রাশাওয়ার । প্রবল সূর্যের খিলানে একরোখা চুম্বনশস্য আলরেখা চুরমার করে পিছল মনুমেন্ট । ঘাসের সিঁড়ি যেমন কিশোরীর ছুটন্ত ঘ্রাণ ...অর্চনা , বিশাখার নাকছাবিতে দীর্ঘসুনামিগন্ধ ... মেতে থাকা ট্যুরিষ্ট আবাসের বেতঝুড়ি । পরিক্রমা শেষে ঘ্রাণতলে হাজির দলে দলে স্নায়ুতন্ত্র , মেডুলার বীজধ্বনি ।

জিহ্বা


গীটারের মতো আদুরে , সরু সরু রেখায় জলফাৎনার তুমুল হর্ষ । কোলাহলো ভেঙে ভেঙে সাঁতার , গলে যাওয়া কোলাপসেবল্ । মোমবাতির মতো এ পাড়ের আকাশও চুঁইয়ে পড়ে ও পাড়ের নদীতে । যেন ঘড়ির দুটি কাঁটা । আনন্দের হোমপেজে হাঁকপাঁক এক সফল সাঁতারুর টুকরো ক্ষিধেমশাল । মেনুকার্ডে স্যালাডের জব্বর ক্রিং ক্রিং । উষ্ণ চিলিফিশেরর গায়ে বসানো ট্র্যাফিকলাল সিগন্যাল । রসালো আকারের কেবিন বিজ্ঞাপনে চেয়ে থাকে বোনচায়নার শিরা উপশিরা আর রুফটপকোরাস ...


ত্বক

বৃষ্টিমেয়ের ত্বকে উচ্ছ্বসিত ভাংরাবাতাস । যেন একফালি চাঁদ জড়ানো ধানের খোসাঅঘ্রান । স্পন্দনে খোদাই বনভিত্তিক দিনযাপন । উড়ালবেলার বেলকুঁড়ির ত্বক নদীমিউজিকে বোনা প্রত্নজ সানাই । কতো গান নৈশশিশিরের টিপসই । কেউ ত্বকে লিখছে থারমাসফাগুন , কারুর ত্বকে তামাম শিকারা , সব মুলতুবি থাক ... চেয়েছি সুতীব্র আমলকীত্বকের পানশালা , সুগন্ধে আবাদ হোক্ বানভাসি । হেলাফেলার ত্বকে হুটহাট ঢুকে পড়া অশ্বত্থগাছ , ঘটিবাটি হারিয়ে রিফিউজি বাগানে গোখরোর ওম ...

ফসলের ভারে প্রতিবন্ধী ইন্দ্রিয় কিছু আগুন দিই তোমাকে , কিছু ভারসাম্য ... পঞ্চতট ...লতানো পাতার নতমুখ ... হিমসতেজ মৃত্যুর বিউগল ...

ক্ষুধা অমা তৃষ্ণা হে ইন্দ্রিয়াসক্ত জীবন !

পৃথা রায় চৌধুরী

পৃথা রায় চৌধুরী
দর

উচ্ছিষ্ট রোদ সঙ সেজে তামাশা করে যায়

দু আঙ্গুলে তুড়ি মেরে ইশারায় ডাকে
"সস্তা পাবি; কে নিবি, আয়।"


সদর্প ভিক্ষা


খেলাম, লজ্জার মাথা
চাইলাম, তোমার ফুসফুস ভর্তি ধোঁয়া
দেখলাম, সরিয়ে নিলে বাড়ানো হাত
শুনলাম, প্রতিজ্ঞা করেছি,
নিঃশ্বাস মেশাবো কর্কট গন্ধহীন
অহংকারী, গরবিনী,
সেদিন আক্ষরিক ছোঁবই তোমায়
দেবেই তুমি অনিচ্ছুক ইচ্ছেধরা।


ক্রমশঃ


একান্নবর্তী চাঁদের বঙ্কিম ধারাপাত বর্ষণ
ক্ষুন্নিবৃত্তি পর্যায়ে অক্ষম বেওয়ারিশ প্রেম তার
সুঠাম বাতায়নে জড়িয়ে মরে
সুললিতা সোহাগিনী জুঁইজ্যোৎস্না;
সলাজ ঘোমটায় বয়ে চলে
নির্বাক ঢেউছবি।


শান্তি


চল আমি, আমার সাথে নরকে চল
কে যেন বলেছে চলে যেতে সেখানেই চিরতরে,
যেখানে সংযম মাথা কুটে মরে না
তীব্র অপাপ কামনা পাঁচিলে
মেকি সর্বংসহা দ্বৈত স্বত্বা
বারুদ বর্ণে কনে বৌ সেজে বসে
শুভদৃষ্টি সেরে নেয় মৃত অন্তরাত্মার সাথে;
নিরন্তর সতীত্বমশাল জ্বলে যায়
উজ্জ্বল অন্ধকারে।

আরে ছোঃ!


দয়া বাবু ছুটেছেন বাজারের ব্যাগ হাতে
আঁটসাঁট ডিম পেট ইলিশটা চাই পাতে
ঝড়তি কুমড়ো শাক
কেতোর ভাগেই থাক
ব্যাটা বড়ো প্রতিবাদী, ছোটলোক হাভাতে।

করজোড়ে ভিক্ষা, ভোট দিও আমাকেই

সেতো গেছে ল্যাঠা চুকে, কয় মাস পূর্বেই
আজ দয়া নেতা ভারি
হাঁকডাক রাশভারী
কেতো শালা থাক পড়ে যে কে সেই আঁধারেই।

আ-মরণ


আশ্চর্য এক অসম যুদ্ধ করে যাই

এক অতিবেগুনি আমি'র মুখোমুখি
এক লাল-উজানি আমি
শুরুর কালে নেপথ্যে বেজেছিল
পাঞ্চজন্য
অমীমাংসার সংঘাতে ছারখার
হয়ত পরজন্ম
তবু নির্ভয়ে পেতে রাখি
নিজের হাতে শরশয্যা
প্রতীক্ষা সেই অন্য দিনের।

ভাঙ্গন


প্রশ্রয় পাওয়া চঞ্চল ঝুরিহাত

শ্বাসরোধী তল উথলিয়ে হয়রান
সংযম দর্পণে ভণ্ড বিলাসিনী
এঁকে চলে ঝরা সিঁদুরে
অভিশপ্ত তৃতীয় নয়ন;
আগত প্রলয়, সুস্বাগতম!

ধ্যাত্‌


ঘুম পাচ্ছে ভীষণরকম, যা তা

শিরীষ আঠা জুড়ছে চোখের পাতা
মেলা কাজের ভারে
নিদ্রাদেবী হারে
ঘড়ির কাঁটা খসখসিয়ে ভরছে সাদা খাতা।


করিৎকর্মা


আলতাদুপুর চিমটি রোদে মেহগানী

জঙ্গুলে চান আলতো চেটোয় আকাশবাণী
অনেক দামী হালকা নদীর পলকা পাড়
ভুলছে সবই, তবু শিরায় খুন অসাড়
বন্দি মতের কালো কালির জোর তেহাই
আঙুল তুলে ভদ্রবেশে গণরেহাই
গুটিয়ে রাখা পাখনা কেমন খুলছে মুখ
লাইন ধরে ঝুপড়ি বিলোয় ব্যর্থ সুখ
শিউলি গন্ধা সকাল দেবী রোজ রাতে
এঁটো কাপড় জড়িয়ে নিজের দায় পাতে
তারপরেতেই সামাল সামাল সুর নিশানা
মন রে কৃষি কাজ জানো না, কেন জানো না?


অ-যাচিত


নৈঃশব্দ্য জারিত শুভেচ্ছা যেখানে

অশালীন বোধে আক্রান্ত পণ্য
বন্ধ্যা প্রার্থনা হাঁড়িকাঠে গলা গুঁজে
উপর্যুপরি ঘৃণা ছড়ায়,
নষ্টসংস্কারের সেই বেশরম উঠোনে
খুঁজে নিও কোনো ত্রিনয়নী;
পেলেও পেতে পারো অনাচারী সেই
শঙ্খপ্রবাল হাত।

ওঁ স্বাহা


সর্পগন্ধা তাচ্ছিল্য কটাক্ষে হীন করে

জঙ্গল ভাসা শহরের সিংহদুয়ারি নহবৎ
অযথা প্রলাপ ছাতিম গন্ধের নব্যাচারে
সরলতার সুযোগে শেখায় শিকারি সহবৎ।

বিপন্ন ব্যাধ প্রমাদ গোনে অহর্নিশ

নিরামিষাশী হরিণ দুলে উঠেছে
তাজা খুন চেটে আচমকা
কোমল ডাগর চোখে বেজে যায়,
"আমিষ, চাই আমিষ!"

সমাধি


ডুবে যাও অহঙ্কারের শেষ অতলে

যতটা পারো ডুবে যাও
তবু পায়ের নিচে জমিন পাবে না,
তোমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়েমড়িয়ে ধরেছে
যে সব গর্বোজ প্রাণ,
সে আমারই;

ভুলে গেছ, আমি তোমার অহমিকা।


লুকোচুরি


যাবতীয় কুটনো-মশলা প্রহর হাঁফ ছাড়লেই
উঁকি মেরে যায় ম' ম' ছাতিম ফুল
সন্ধ্যে থেকে তার অবাধ যাতায়াত
অ্যান্ড্রয়েড বেয়ে যন্তরমন্তরে
তবুও সে কথা চাপা থাক;

নিষিদ্ধ প্রসিদ্ধিলাভ তেজস্ক্রিয়।


দিগ্‌দর্শন


সকালজঙ্গল বেয়ে সার বাঁধে

উদ্ভ্রান্ত খোলাম সেঁকে ঝোলানো
বীতশোক রাতজাগা মনস্কাম
মানতবৃক্ষ হাসে ধৈবত নিষাদে
ছড়বিহীন বেহালায় ছক মেলানো
অমিল গুনে কাটে অকল্পযাম

রূপ ছড়ানো খেলায় দিবানিশি

প্রহর চেটে খায় ভয়াল মুক্তকেশী
শুধু কানাগলি,
পথ নেই, পথ নেই।

হুঁশিয়ারি


মাঝেমাঝে নৌকা ভাসিয়ে নিশ্চুপ চেয়ে দেখি

বৈঠাহীন বেয়ে যাই প্রহরসাগর
উড়ুক্কু ক্ষণ বিলি কেটে যায় ওড়ার ফাঁকে
পলকে পলকে গুচ্ছের অভিমানী প্রবাল
ডলফিন সওয়ার হয়ে গান গেয়ে যায়;
কিনারা খুঁজে ফেরে বুঝি
নির্বোধ, মায়াবিনী মৎস্যকন্যা;
সতর্কবার্তা বয়ে আসে,
জালে উঠে এলেও
বন্ধ বোতলের মুখ না খোলাই বিধেয়।

ফলকনামা


সন্তাপ অধ্যুষিত নিখাদ সাতনরী

অযথা গ্রহণ করে হৈমন্তী শুষ্কতা
স্তব্ধ চরাচর ভেসে যায় হলাহলে
ময়ূরকণ্ঠী দৃশ্যপট আবহমান
অন্ত্যমিলের অস্পষ্টতা চিরশাশ্বত
পরাজয় স্বীকার নব্যইন্দ্রিয়গত
দশপ্রহরণ ত্যজ্য বিস্ময়বহুল
সমাধিস্থল প্লাবিত অনন্য সন্ধানে

শিউলি সঞ্চয়নে অবগাহন করো

ভিন্ন ভিন্ন তারে সাজাও সদ্যমূর্ছনা
অকাতরে প্রশ্বাসে ভরাও হিমবাহ
ভাসাও পানসি শ্বেতপদ্মে কুহকিনী
জমাট শোণিতে মুখরিত হও নিত্য
আহ্লাদ বিস্মৃতই হয়ে থেকো আহ্লাদী।

জ্ঞানপাপী


বকলমে লিখে যাওয়া পুরনো অভ্যেস

লজ্জা পেয়ে চিঠি লেখা হয় না
ধুনুরি ডাকিয়ে বদ আমি কে
রিফ্রেশ করে তুলে রাখি নিমপাতায়
তুমি স্মার্ট ক্যারিব্যাগে করে
তা নিয়ে বেড়াতে যেও কিন্তু।

সারাদিন তোমার মন দখল করে থাকি জেনেও

ন্যাকামির আড়ালে লুকোচুরিতে সরাতে থাকি
একের পর এক তোমার ইশারা।
দুষ্টুমি মজ্জাগত হয়ে গেছে তুমি বুঝেছ,
তবু, রাগ করো না এখন;
তাকিয়ে দেখো, তোমার পাশেই
নিমছায়ায় বসে থাকে
আমার যত ক্যাবলামি ভরা
"এই যে, শোনো..."!


তবু, বিশ্বাস

আগুন তরলে ভেতর পুড়িয়ে
জ্বলতে জ্বলতে বাঁচার তাগিদে
তোমার প্রথম রিফ্লেক্স যখন আমি,
একটানা "ভালোবাসি" আশ্বাসে
নিজেকে ভোলাতে চাওয়ার নাম,
তোমার কাছে, সেই আমি;
কথার পিঠে কথা কিছু বলতে চেয়েছি,
বলেছ, শুধু পূজো নাও, মানসী...
অঞ্জলি দিও না।
ল্যান্ডমাইন বোধোদয়ে ক্রমাগত
কাঁপা গলায় বি-ফ্ল্যাটে গেয়েছ,
আমার, আমার, আমার,
বাস্তবে ভয় হারাবার;

আশ্চর্য, পরাবাস্তবে জন্ম নেয়

এক স্নেহশীল পিতা,
বোহেমিয়ান প্রেমিক হৃদয়ে।

রুদ্ধ


যত এগিয়েছি তোমার দিকে,

আলপথ বেয়ে কুটিল, নিদানখেকো
হিলহিলে চেরা জিভের দল
পেঁচিয়ে ধরেছে প্লেটোনিক বাতিক,
উন্মত্ততায় নাগাড়ে আউড়ে যাও
আকরিক আখর।

মাঝরাতে ঘুণ পোকা কর্‌কর্‌কর্‌

গ্যালাক্সিচারি হতে চেয়ে ঘুরে দেখি,
ফেলে আসা সময়যান;
উল্টো জামার
প্রকট সেলাই উৎকট,
তবু সোজা করা যায় না।

আ-শ্লেষ


বিশ্বাস করো,

হেরে যেতে কোনো কষ্ট পাবো না
তবু ছায়াযুদ্ধে নামতে চাই,
দুই গলিত ধাতু মিশে যেতে যেতে
কতো সহস্র গ্রহ উপহার দেয়,
চেখে দেখার লোভ আমার চিরন্তন,
জমিয়ে চুমুক দেবো তোমার ভ্যাবাচ্যাকায়;

এখনো ভেবে চলেছ,

প্রেম কখন রণদামামা বাজালো!

উল্কা

উল্কার ২০ টি কবিতা
স্বপ্ন

প্রজাপতি চীৎকার-
ঘুমের মধ্যে কেঁপে ওঠে রাইভেল সমবেদনা
সূর্যমুখীরা প্রভাত ফেরির আগেই
মুছে দিয়েছে নতুন দিনের গায়ে হলুদ…


ক্যামেরা

ফিল্ম লোড: মৃত্যুরা আরাম পায়না
লেন্স সেট: মৃত্যুরা আরাম চাইছে
ফ্ল্যাশ অন: মৃত্যুরা আরাম খুঁজলো

ক্লিক টোন...

ডার্ক রুম! অপমৃত্যু...


হুইস্‌ল

মিউট স্বীকারোক্তি-
জুতোর ফিতের অলিখিত বিয়োজক, অসূয়া।

প্রভাতীর স্তনে খাস তেহেল্কা যোগের প্রসেস
তৃতীয় স্তবকে এসে আটকেছে জারজ সন্তান...

ময়না তদন্তে পেরিস্টলসিস থামার ফুট প্রিন্ট
লিটিল ম্যাগের জঞ্জালে খোঁজে বেওয়ারিশ হ্যান্ডকাফ

দলাদলি খেলা খেলে চিনা আর মাটির ক্রকারি!


সজ্জা

আতসবাজির আতিশয্যে আতঙ্ক সাজাই
বালিতে সাজাই চোরাবালির চাক্ষুস চোরামি
ভয় সাজাই ভাবনাগুলোর পরিত্যক্ত খোলসে
যোগসূত্র খুঁজে সম্পর্ক সাজাই ভাঙা কুলোয়।
বিষণ্ণতা সাজাই তুমুল বানের জলোচ্ছ্বাসে
আর যা কিছু সাজাই গোলাপকাঁটার ফ্রেমে।


জাজমেন্ট ডে

কাকচোর ছিপ ফেলে
তুলে আনে নিশুতির মুখ...

দণ্ডিত পৃথিবী-
লুটোপুটি মেরু স্ক্যাণ্ডেল!

এলিভেটর, স্বর্গের ম্যাগনেট দোরে
বাতি দেয় নিবিরুর ভিনগ্রহী শব

স্লিপ ওয়াকিং মোড
স্ট্যান্ডবাই...

বিচারের শেষ কটা রাত ঘুম নেই
বেঁকে যাওয়া কক্ষপথের ক্যারাভ্যানে...


বিনিময়

আমি হারাতে চাইনি ওকে
সনেট কবিতা বিনিময়ে...

আটকে ফেলেছি যত দুই তিন লাইনের ক্ষোভ
গিনিপিগ খাঁচার চাকায় ওরা ফোঁসফোঁস
দৌড়ায় এক ফালি লাল অন্দর।

শিউলির ডালে বসে হাওয়া ভরি
পালক উড়ান...

ওয়েটিং লিস্ট থেকে উঁকিঝুঁকি কনফার্ম কবিতার প্লটে
ব্রেল পুঁতে মুছে দিই আনকোরা ইগো অনটন
সনেট কবিতা থেকে খুঁজে ফিরি চতুর্দশী রাত
বিনিময়ে হারিয়েছি জীবন্ত চোখের মহড়া।


ইনফ্যাচুয়েশান


অঙ্ক স্যারের চোখে ঝিলিমিলি লোমের পর্দা ছিঁড়ে
স্পেকট্রামে তেড়ে এল 'অ' এ অজগর-

ম্পাস এঁকে দিয়ে একপাতা বৃত্ত রেখা
থেমে গেছে শুরু থেকে অবশেষ বিন্দু অধরে

প্রথম রাউন্ড কিস আর সোজা সার্জারি
পিন গহ্বর

ঘূর্ণন সংজ্ঞায় পড়ে থাকে এক সাইকেল ইনফ্যাচুয়েশান!


অনু-সঙ্গ


গ্লোবাল ওয়ারমিং
তবে দুটো গাছের কবিতা হোক...

পাতা জোড়া মাত্রাবৃত্ত ঘুরপাকে কাণ্ডজ্ঞ্যান
ফেলে যায় পতঙ্গ স্তব
চায়ের পাতায় জমা পড়ে রেয়ার ব্ল্যাক আউট!
আমি তবু ছাতায় ভাসিনি...

স্কুল গার্ল ঝুঁটির রিবন খুলে দেয় ই ভি এস ঝিম
ক্লোরোফিলে চুবে আছে একটি ভাওয়েল
পঞ্চ ব্যাঞ্জন রাঁধা পড়ে আছে ইগলুর কোনে...

দলবৃত্তে কেঁপে উঠল শেষ রাত্রির স্যাকারিন!


রোদ চশমা

উন্মুক্ত তামাক প্যাকেটে লাইফ ইন্সিওরেন্স
ইনফিনিটির ফিনকি ছুটিয়ে জ্বালিয়ে দিল
রোদ চশমার ওয়ারেন্টি পিরিয়ড।

চোখপটে ব্রেক ফেল অস্ত্রোপচার
এলোমেলো ছড়িয়েছে কনিষ্ক চেহারার খোঁজে...

সতীদাহে অগুনতি আগ্নেয় ফোস্কা
জমাট বেঁধেছে সুফলা সপ্তম গর্ভের লোমে
জন্ম নিয়েছে কিছু অথর্ব শ্যামের প্রলাপ

রোদ চশমায় আগুনের রঙগুলো
সেই থেকে সাদাই রয়েছে...


ক্যান্টিন


প্রেম চাঁদোয়ায় একজোড়া শালিখ
মিটিমিটি

নিরামিষ মেনুকার্ডে ঝলসানো দুধের পোশাক
গায়ে র‍্যাম্প হাঁটে বনসাই বিকেলের রোদ...

ককপিটে আজ আমি একাই চালক
র‍্যাডার জলসায় রাখি নিয়ম আজুবা কুলুপ
বই দু তিন থেকে হাবিজাবি লেবার গ্রাহক
রবীন্দ্র সেলফে জেগে শুয়ে থাক শীতল শোধন।

চায়ের কাপের ধোঁয়া অটুট গলির রেখায়...

কবিতায় বেঁচে থাক ঝগড়ুটে শালিখের দল!


এয়ার পকেট


একচোখ কালো করা ঘুমটা দোলন!

গোলাপি ঠোঁট চাপা ইংলিশ ফন্ট
শেষের উড়ানে কটা বাংলা গড়িয়ে পড়েছিল।

ঘুরে দাঁড়ালেন নম্র বিমান সেবিকা
মূকাভিনয়
চৌকো নখ
লাল নেল পালিশ

জড় পা নেট লেগিন্স
পেডিকিওর

হাতে অক্সিজেন মুখোশ
তুলোর পুতুল ভরা বেডরুমে শৈশব কাল

স্কাটে ঝোলে এয়ার পকেট
ওঠে নামে মেঘেদের পথ

রানওয়ে
আবহ সঙ্গীতে পা ফেললেন নারী...


সেমি ফাইনাল

আমি ঘুমিয়ে পড়লে শহর গড়িয়ে যায়
পয়ঃপ্রণালীর বদ্ধ জলাশয়ে
ছিপে টোপ ফাতনা কাহন
ব্যাঙাচির লেজ খসে পড়ে যায়
অ্যাডাল্‌ট মোচড়-

ঘুমের ঘোরে আমি
সেমি ফাইনাল নজরে বেড়েছি...


সময়


পশম রাত্রি হানা
বাটখারা শুধু জানে কত ধানে কত হয় চাল
এক পেট খিদে নিয়ে আগুনেও হাওয়া গিলে নেয়
মানুষের চামড়ায় লেগে থাকে ওমের প্রলেপ।

হাড়ে মাসে কনকেভ বছরে বছর-
ধর্ষিত স্ত্রীলিঙ্গে গোঁজা আছে দশ টাকা ফ্রি
বেওয়ারিশ ষ্ট্যাম্প আঁটে জাপানি তেলের পোস্টার!

পশম রাত্রি ফেরি করে ব্রেনে ঢালে
মগজ ওয়াশিং পাউডার!
হাফেরও হাফের ফ্রি দামে...
দাঁড়িপাল্লায় দামে বাড়ে দুটো কাঁচকলা!


রঙ


বেমানির রঙটা ঠিক কেমন?

প্রশ্নটা শুনে উত্তরের সাথে
তৎসম সদ্ভাব জমাতে জমাতেই-

আরে আরে...ধর ধর...
ধুর্‌!

ওটা ক্লাস সেভেন ভৌতবিজ্ঞানের
পাতায় মোড়া বিলীয়মান রঙ ছিল যে...


মা এবং...

মায়ের চুল উড়িয়ে ছুটে চলেছে
তুফান এক্সপ্রেস-

সাদা কালো অ্যারাইভালো
কুড়ি কেজি স্মৃতির ওজোন স্তর ভেদ করে
নেমে আসে আপেল বেলুন

ঘূর্ণির ঘোড়া কুলফির দুধ গোলা জল
আলো আর বাহারি আদর
বোধনের সন্ধ্যেকে বিদায় জানাতে পারছেনা

আপার বার্থে কেবেল ফল্ট!

রিসেন্ট আপডেট-
আমি হারিয়ে যাচ্ছি মা...


অ্যাস-ট্রে-নামি

পর্দায় দেখে শেখা লুকোচুরি ফার্স্ট লাভ
ব্লিচকাম-পাস কিছুটা অজানা রাত
মুখে যৌনতা চিপে ঘোরে প্যাণ্টির ম্যাজেন্টা রোগ

পিথাগোরাসের তিন ভুজ ভাষা
স্কোয়ার জামানা শিরোনাম ছুঁড়ে মারে

খয়েরির কিছু পক্ষ কবিতা ডানা কাটা পরী
ডেটল সাবান মর্গ সাফ করে ফেলে যায়
পেনড্রাইভ ভরা গলা মোমের ঠিকুজী

লিজের ম্যানিয়া ডরপোক চোরা চোখ
প্রেসক্রিপশন ডুপ্লেক্স ট্রুপ
ক্যাচ আউট সুপার হিম্যান
ব্যালে নখ জুড়ে প্ল্যাটিপাস হারপিস

সেমি কোলন...
রেয়ার মেথড শুঁকে হাঁচি পায় প্রেমের আরকে!


অনুভূতি

আর যত আরাম জমিয়েছি তোর নামে
শামুখের খোলের প্রতিটা ঘুরপাকে,
তিনশো-ষাট ডিগ্রি
সেটস্‌স্কোয়ারের গা থেকে মুছে গেছে কাটা দাগ
তাই ব্যাসার্ধ হিসেব গুলিয়েছে যতবার
তিনশো-ষাটে লাল হয়েছে উত্তেজিত শরীর।


নিষিদ্ধ রদবদল

হঠাৎ কটা রদবদলের প্রয়োজন হলো
ক্লান্ত শরীরটা সিঁড়িতে ঘষে ছাপ রাখলাম
ভাঙা দরজা চৌকাঠের আধখাওয়া পাপোষে।
লেবুলঙ্কা কামশৈলী হয়ে ঝোলে দরজায়
কামুক জ্বালা জানলায় পর্দা, হাওয়ার ধাক্কায় ছটফট করে
আমি ক্যাকটাসে কামড় বসাই।

পাঁচ মেশালি ফ্লেভারের কব্জায় মগজাস্ত্র...
দুরভিসন্ধির বুলেটিনে বেছানো লাল কার্পেট।

দুর্ধর্ষন যাচ্ঞা
প্রার্থনা তেলজল
একমুঠো বিঠোভেনে কৃত্রিম কাপুরুষ
ভেনমে ভার্জিনিটি!

আকাশ ফাটিয়ে অঙ্গীকার

রদদল নির্যশ নিষিদ্ধ।

কা কস্য পরিবেদনা...


অসম

আধখানা পাউরুটি পেতে
শয্যার ডিঙা পেরলাম
সাথে দুটো আলু আর ভাতে
শাক দিয়ে গলা টিপলাম।
কেরোসিন আর পোড়া ঘুঁটে
দাম কার বেশি গুনলাম
মাছ ধরি মাছরাঙা দিয়ে
তবু ভুলে জাল বুনলাম!


মননে বেশ

বিপন্নতার সাথে আমার ঘর
নুন মেখে রাখা পান্তা ফুরিয়ে যায়
কব্জা করেছি দু-গাছি বুনো ঘাস
নিঙড়ানো রসে কবিতারা রূপ পায়
আদরের ভাষা কোলাহলো-চিৎকার
নেপথ্যে থাকে বিতিকিচ্ছিরি ছাই
মনের ঘরে ভারা বেঁধে মেরামতি
আলো থেকে ঝরে আঁধারের রোশনাই।

সোমবার, ১ অক্টোবর, ২০১২

পার্থ প্রতিম রায়


এই সংখ্যার কবি

 
পার্থপ্রতিম রায়, ফোন- ৯৬৮১২৮৫৯২৫, মূলত প্রথম দশকের কবি। প্রথম লেখা পত্রিকার নাম - বোহেমিয়ান / কবিতা পাক্ষিক। ক্ষেপচুরিয়াস (প্রিন্ট) ম্যাগাজিন এবং ক্ষেপচুরিয়ানস ই-পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। লেখা ভাললাগে - তুষার চৌধুরী, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুকুমার রায়, বিনয় মজুমদার, জীবনানন্দ, ভাস্কর চক্রবর্তী।  প্রিয় বই - বিনয় মজুমদারের শ্রেষ্ঠ কবিতা, অন্তহীন জেব্রাঋতু(তুষার চৌধুরী), নির্মল হালদারের শ্রেষ্ঠ কবিতা ও ভাস্কর চক্রবর্তী, পার্থ মনেপ্রাণে একজন প্রকৃত ক্ষেপচুরিয়ান নামেই পরিচিত ।

রংবোতলের হামাগুড়ি



নদীটাকে পাশ বালিশ করে
কাশফুলগুলো নিভিয়ে দিলাম,
দোপাটি তারা হেলান দিয়ে বসে
হাসির চিহ্ন ফেলে যায়
চাঁদের আলো ক্রমশ ইকো হয়ে
পেগ গ্লাসে ঝাঁপ...



বাইন্ডিং প্রেম!
- ওকে জোছনা করে দাও
ফোন পাশে থাকলেও উষ্ণতা
আজব যজন দূরে...
নিরাবতার পেরিমিতার...


অনবরত উড়ে যাবার তাগিদ
অনবরত ভাষা বদলের দেরাজ
আনাচে কানাচে কথা নিভে আসে
মদ খেলে মাঝে মধ্যে নিজেদের
মদের মতো বিনিময় যোগ্য বলে মনে হয়...


"ঘাস আমার প্রিয় উদ্ভিদ"
-আনোখা রিলিফ রাত
রঙিন বোতলে বিন্যাসটাই ডুবছে
এই দৃশ্যের কোন পুনরক্তি নেই !


আপাতত যেভাবে তুমি ছায়া
হলে সেই ভাবেই সমস্তকিছু...
নেশায় আরোপিত হলে, দিলদার
হয়ে উঠার সামিয়ানা-


নেশা পেরিয়ে সাবালক হচ্ছি কেউ কেউ
আমরাও প্রবাদের অনুবাদ
সামান্য ঝাঁকুনিতে হয়তো রাত ডুবে যায়
কংক্রিট কু- য়াশা...


শব্দ বদলের গা থেকে আমিও
ককটেল রেসিপি,
চোখ পোহানো ছায়াফলের তুষ
এখন কেবল রিংটোনেই স্বয়ং ঈশ্বর
প্রতিপাদ্য দৃশ্যের বোতাম লাগু হচ্ছে না।


স্তব্ধতার টুইস্ট নিয়ে
কথার মধ্যে মুহূর্তযাপন, শুধু
তোমার এক্স-ফ্যাক্টরে উপভোগ
করছি নিজেকে...


দুপেগ মিশে যাওয়ায়
দৃশ্যগুলো হেলে পড়েছে,
শিস হয়ে হেলে যাওয়া বুঁদজলে
বিলিয়ে শুয়ে আছি রাতের শরীরে।
সাইলেন্ট মোডে একটা বাঁক...

১০

নিমেশে চাঁদের আলো গুছিয়ে
ভোর ৪টে, নেশালু ক্রিয়াপদ ভাঙছে
পাখির শব্দে। তবু রাত অভিমান !
কারন, আমাদের রাত জাগা হলো না
রাতকে জাগানো হলো ...


রাতের অনুলেখায়...


যাবতীয় ফেলে আসাগুলোয় ভাঙতে ভাঙতে আদ্ভুত ঈশ্বর এঁকে ফেলেছি,
তারপর আগের পরিচিত 'থ' গুলো ভারি হয়ে সেকেন্ডে টুকে নিলাম। কিছু
ফর্মুলা নির্মিত রোদের নিচে হাওয়া কেটে যায়। ফোঁটা ফোঁটা আলোর পালিশে
আমার ভেজা হল না !

এই মাত্র নির্জনতার পালক কুড়িয়ে পেলাম! আচমকা তুমি ছায়া হয়ে গেলে
আমি আশ্চর্য তোতলামিতে মেতে যায়। আর সম্পর্কের রতিরা জোনাকি হয়ে যায়...
আসলে ভালোবাসা হল নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার কনসেপ্ট। কঠিন ভাবুকে
গান উঠে এলে অবাকের ফুটো দিয়ে নিজেকে দেখে সটকে পড়ি।
পায়ে পায়ে দুপুরকনা...

চোখের ফেনায় দাগগুলো পেরিয়ে রুলটানা বারান্দা, সমকোণ মাখানো
রোদের আদোল। কথায় কথায় শব্দ উঠে না এলে, আঁতকে উঠার আগে
সিগারেটের ধোঁয়া ছোলকে নি ।

মালুম হলো আমার অপেক্ষাগুলো বিন্দাস হয়ে গেছে । আর গালে মেশানো
রূপকথা খুলন্ত ছাতার ঠিক নিচে, এরপর বাঁ পকেটে তুমি চলে এলে
টুকরো গল্পের ভাঁজগুলো ছড়ায়নি...


কেত্তোন...


দুইহাতে পতন সরাচ্ছি
সংশয়ের সঙ্কীর্তনে আমি চৈতন্যদেব
বাদবাকি সব খড়কুটোর সহজপাঠ ||

মিলন চ্যাটার্জি

এই সংখ্যার কবি 


মিলন চ্যাটার্জি - প্রথম দশকের তরুণ কবি।
জন্ম - রাণাঘাটে
পেশায় - শিক্ষক, রাণাঘাট পাবলিক লাইব্রেরীর প্রধান লাইব্রেরিয়ান।
নেশা - ছবিআঁকা , গানশোনা , বইপড়া।
লেখা লিখির শুরু ছোট্ট থেকেই ছড়া লিখে। প্রথম প্রকাশিত কবিতা ' উন্নয়ণ ' - কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত "শিগক" পত্রিকায়। বর্তমানে ক্ষেপচুরিয়াস নামক একটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত।


১। বৌদ্ধিক

কেউ কেউ বুঝে যায়
কতটা নুন আর হলুদ দিলে সম্পর্কের রসায়ন
সম্পৃক্ত হয় !

অন্যকে নির্বোধ ভেবে গর্বিত তুমি
অনায়াস অবহেলায় উন্মুক্ত করো
...লেখনীর ধারাস্রোত !

গহনকোণে বসে থাকা কূটস্থ বিষাদ প্রেমিক
অক্লেশে পড়ে ফেলে ললাট লিখন !

ওহে রসিক, কিঞ্চিৎসাবধান থাকা ভালো।
কেউ কেউ যে বুঝেই যায় ...
খুব ভালো করেই বুঝে যায়।


২।কূটাভাস

অতন্দ্র প্রহরায় কুলাভিমান রক্ষা
কূটস্থ হওয়া সবার কম্মো নয়।
ক্রমাগত হতাশা নিমগ্ন করে আত্মগ্লানিতে
প্রতিটা রূপক,মাত্রা, অলংকার ...
আত্মমহীয়ান, অন্যকেআক্রমণে উদ্যত !

হে দ্বিজ, বিস্মৃতিরঅতল থেকে উদ্ধার করলে দেখবেন
আপনিও কুসিম্বীর ন্যায় !
ক্ষুভিত মনন মাঝে মাঝে নিরুদ্দেশ ধায়।

নিশ্চিত বলতে পারি ...
ঝিণ্টী কখনও পারিজাত হয় না।

৩।শিরোনামহীন

মাস্কারার কাছে মুকুর অবাধ্য আজ
প্রতিবিম্বে ধরাশায়ী অনন্ত যৌবন !
আনা,পাই, পয়সার হিসেব বুঝতে চেয়ে
বিদ্রোহী ...
মসৃণ ত্বক !


৪।শিরোনামহীন


কলম চেনেনা কালি
চিনে নিতে পারে শুধু বেদনা বিলাস।
বিষাদকে দিতে পারে রূপ ...

আখর বিন্যাসে !

৫। শিরোনামহীন

কবির পাপসমীক্ষা করতে যেও না
প্রতি পদে হোঁচট খেতে হবে !

তারপর নিজেকেই একাত্ম করতে গিয়ে দেখবে
তোমার একটা কবিতাও ...
কবিতা হয়নি।

৬।ছায়ার আড়ালে



নিজস্ব মুখের রূপ দেখেনি বহুদিন
ধুলো জমে দীনহীন একলা আয়না !

জলাশয়ে জলপানে ভীত আজ
মুখের আড়ালে থাকা কুৎসিত মুখ।

কবিকে প্রবোধ দেয় ...
ছায়ার আড়াল।

৭।পুনর্জন্ম


মৃত্যু
কখনও কখনও মহান হয় না !
যদিও ঈশ্বরের হাত বড়ো লম্বা
একমেবাদ্বিতীয়ম্‌বলে কিছুই হয়না !

এক ঈশ্বরের ক্রোধ প্রশমিত না হতেই
শুধুমাত্র বেলপাতায় তুষ্ট হয় অপর ঈশ্বর
যাবতীয় আদর্শ বিসর্জিত হয়
মহীয়ান হওয়ার আকাঙ্খায় !

পুনর্জন্ম আদতে শক্তি বাড়ানোর কৌশল !

৮।শিরোনামহীন

বাইকের চাকা ত্রিকোণমিতি ভুলে গেলে
দুর্ঘটনা অনিবার্য হয়।

৯।নির্মাণ


আমার শরীর খুঁড়ে
পেলি যত ধাতব খনিজ,

কিছুটা পেন্ডুলাম হোক আর কিছু দিয়ে
হাতকড়ি বানা।
কাল খেয়ে গেছে বাকি !

১০।শিরোনামহীন

যোনি তে সলতে দিয়ে
পুরাতাত্ত্বিক প্রদীপ খুঁজে পাই।
উচ্চকিত লিঙ্গমুখ প্রতিভার
অপচয় করে।
প্রকৃতি অনেক হল,

লিবিডো এখন ...
কবিতার খাতা গিলে খায় !

১১। শিরোনামহীন

ভুলে যাওয়া সবথেকে সোজা !
গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয় ...
শারীরিক প্রেম।
তুমুল আশ্লেষে বলে ফেলা কথা
আদতে নিজে বলা নয়।
অ্যাড্রিনালিন এলোমেলো কথা দিয়ে ফেলে।
সম্পর্কের তলানিতে
পলি এসে জমে কালের নিয়মে।
...
নারীও জলের মত,
নব নব পাত্র খুঁজে নেয় !
কুসুমের মন কবেই শরীরে
ঢাকা পড়ে গেছে।
হাত ধরে দিয়ে ফেলা কথা,
সমর্পিত প্রগাঢ় চুম্বন ...
আসলে সিঁড়ি খুঁজে ফেরে।

বোকার মরণ হয়,
বুদ্ধিমান নিদ্রাসুখ খোঁজে।

১২। শিরোনামহীন

প্রতিমুহূর্তে নিজেকে ঘেন্না
প্রতিটা নিমেষ পুড়ে যায় অশৈলী দাবানলে।
নিজেই নিজের শত্রু হয়ে বারবার ...
যৌবনমুক্তির প্রত্যাশা অবিরাম !

নিবৃত্তির পাকদণ্ডীর অপেক্ষায় থেকে আজ...
বারবার অনুভূত হয় অগ্রজের অভাব !

১৩।অসমাপ্ত


'কতো কি করার আছে বাকি'
শুনে মনে হয় কি কি এখনও করিনি?

করিনি অনেক কিছু
পড়ে থাকি স্তব্ধ মাতাল !
এখনও খাইনি চুমু...
ভেবে দেখো কেমন আঁতাল !

এখনও তোমার বিবস্ত্র শরীর দেখিনি।
তোমাকে বোঝাতে পারিনি?
নাকি তুমি বুঝেও বোঝোনি !

১৪।নকশালবাড়ির উঠোন


নীলরঙ ক্রমশ পোট্রেট হচ্ছে
পাকদণ্ডীতে শ্রেণীশত্রুর অপেক্ষায় অনড় স্কোয়াড !
খতমের তালিকা দীর্ঘ করার প্রয়োজনে
নির্ভুল নিশানায় স্থির আছে শায়কের মুখ।

পিছনে পায়ের শব্দ !
দ্রাম, দ্রামআওয়াজ।
সব শেষ।

অশান্ত মেধার পতন
শরীরী ছিদ্রপথে ঢুকে পরে সর্বনাশা কাল !
দাবানলে পুড়ে যায় ...
যৌথ খামার !

১৫।প্রলাপ চরিত

কিছু একটা প্রলাপ লিখবো আজ
মুখোশ খোলার সময় হলে
শিহরন ওঠে আজও
ঝিঁঝিঁ ধরে মনে।
তীক্ষ্ণ সূচীমুখ যন্ত্রণা বুকের গভীরে।
প্রতারিত হয়ে যায় প্রথম চুম্বন !

হাতে হাত রেখে বলা
প্রতিটা মিথ্যা,
তোর বলা প্রতিটা মিথ্যার ভিতর
সবসেরা'ভালোবাসি'.........
বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে আজও !

কিছু একটা প্রলাপ লিখবো আজ।

১৬।অদৃশ্য আখর


বেনামী শরীর খুঁজে পায়
নিজস্ব আধার।
আখরবৃত্তে লেখা নেই সেই ইতিহাস !

১৭।জ্যামিতি

আসলে আমার দেহে পাপ নেই
কিংবা থাকতেও পারে
অন্য অনেকের মতো।

পাপে বুঝি ঢেকে যায়
অনিমেষ জীবনের ক্ষত !
পাপ - পুন্য কিছু নয়
শরীরের জ্যামিতি তবুও বুঝিনা আমি !
কষে যাই আনমনে
প্রমান না হওয়া ...

অতিরিক্ত উপপাদ্য।

১৮।প্রতিবিম্ব


রাত্রি এখন মৃতবৎ-উদাস
যমদূতেরা আসছে দেখে
পা স্থানুবৎ।

আকাশ বিদীর্ণ করে নামা
বাজের আলোয়
দেখি দাঁড়িয়ে আছি
আমি আর...

অখণ্ড শূন্যতা !

১৯।কমরেড

পাড়ার চায়ের দোকানে দাঁড়ানো ছেলেটা
বাঁ গালে কাটা দাগ
ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট;
উদ্ধত-একরোখা
বিধু জ্যাঠা, পাড়ারবারোয়ারি পুজোর প্রেসিডেন্ট
যাকে দেখলেই বলে ওঠেন- রাবিশ
মেয়েরা যাকে পাশ কাটিয়ে দ্রুত পায়ে চলে যায়।
অনীশ দা- যিনি কবিতা লেখেন, বলেন
' ওটা নষ্ট প্রতিভা, নরকের কীট,
রানী, যাকেছেলেটা ভালোবাসতো, বলে'অপদার্থ' !

আচমকা একদিন তার নামে শহীদ বেদীতে মালা দিতেআসেন
লোকাল এম.পি।
কমরেড, 'তোমাকেআমাদের লাল সেলাম' বলে গলা মেলায়
বিধু জ্যাঠা, অনীশদা !

সেই অপদার্থ ছেলেটা আজ বোকার মতো কারও হাতথেকে
রানীর সম্মান বাঁচাতে গিয়ে
শহীদ হয়ে গেল !
যারা কোনোদিন ছেলেটাকে একটুও ভালোকথা বলেনি
তারাই ধরা গলায় বলে ওঠে ---
'কমরেড তোমায় লাল সেলাম, আমরা তোমায় ভুলছি না, ভুলবো না'!

শুধু একজন খোলা জানালায় শূন্য চোখে দাঁড়িয়ে
তার ছেলেটা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।

২০।ইন্দ্রপ্রস্থ

বোধহীন নিশ্চুপ সময় দেখছে
কিছু বলছে না।
এ তো বড় রঙ্গ জাদু !

পড়ছে লাশ, পুড়ছেঘর
শান্তি- শিবির থেকে তবুও তুমি
খুঁজে পাচ্ছ...
জয়ের গন্ধ !
তোমার সাময়িক অক্লান্ত পরিশ্রম
দেবে ...
পাঁচ বছরের ইন্দ্রপ্রস্থ !

তারপর তুমি ফ্লাইং কিস্‌ছুঁড়ে দেবে ...
ই - জমানায় ! 

অত্রি ভট্টাচার্য

এই সংখ্যার কবি



অত্রি ভট্টাচার্য্য। প্রথম দশকের কবি। বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিধন্য নৈহাটিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। প্রথম লেখা ছাপা হয় স্কুল ম্যাগাজিনে। ক্ষেপচুরিয়াস , কৈশোরক, ভাঙা হাটের মেলা, নবাবী, বৈখরী ভাষ্য-সহ বেশ কিছু পত্রিকায় লিখেছেন। আন্তর্জালে কর্নিকা, দলছুট ইত্যাদি ওয়েবম্যাগে নিয়মিত লেখেন। একজন প্রকৃত ক্ষেপচুরিয়ান নামেই পরিচিত ।


গুচ্ছ কবিতা
আমি তোমাকে প্রস্থান করব না। চৌকাঠেবুলবুলিটি এলে
তাকে আখরে বসাবো। কবিতায়মুচড়ে দেব
গণোরিয়া। সোৎসাহে
উল্টে নেব বহুগামিতা।
আজ রোববার লেখার আকাশ বটপাতায় আছে


সুতীব্র চুল উড়ছে চুলের ছৌ-মিনারে উড়ছে নৌকো
লভ্য ইঁটের দাম উড়ছে ঊর্যাবাৎসল্যে
এখন তোমার মণি কৌশলে পড়াও। নামেরআড়াআড়ি
উষ্ণীষজনিত বজ্র থাকুক।


এর পরে ওর হাত আসে, প্রাতঃরঙকে নাচায় মূর্ধণ্য
দোতলায় এখনও হুসেন আঁকছেন– আমি তার
ফোন রিসিভ করছি মাত্র।


এক হয়েছে একের দু’-পাশে উঠি
দরুণ-এর স্থাপত্যে নগ্ন আমি চোখে পড়ে গেছি
শিল্পী ও দর্শক দুইভাবে রগ টানছেন


প্ল্যানচেটে চলুক সে ওয়্যাগনারের কাঁচে চলুক-
হেডল্যাম্পের শ্যামমুদ্রা হোক
মাপা হাঁড়িটি। মেয়ে,
তোমাকে মেরিনড্রাইভ পেলেও খাবে না, তার আছে।


এই চূড়মূহুর্তে,  প্রচুরমূহুর্তে কিছু ছাই ছেপে
ফেলা দরকার– উষ্ণতারবড় অবধি
হয়েছে, বড় বাজারহয়েছে
বাদুরবণিতানগরে।


ফেনাকে যেই হরিণফুল বললে তখনই
ক্র্যাফট এসে গেল চিত্তে

টোকা পড়ল মাথায়


মা’-র পেট একটুএকটু ক’রে ছাড়ছি সকলে
নাড়িটি বুঝেছে নারী আড়াআড়ি
চিরে দেওয়া ঘাসের ও ঘাসপ্রবণতার আদৌ নয়।


ঘটিসত্যি সতীটি বেদাগ রইল বলে, সুঁই-এর
প্রাণী কোন সুতো খুঁজে পেল না
আদরে।আপন মদবিভঙ্গলীলায়।

১০
মজেছি শ্রীকৃষ্ণ তোর বাঁশীরই ব্র্যান্ডে যেমজেছি
এঁকে অভিভূত ক’রেহার্ডডিস্ক
এঁকে শবারূঢ় ক’রে লোনা
বরাদ্দ চুমুটি বলে, আঁধারের পূর্বে ফিরো না।

১১
নক্ষত্রপ্রপাতের মতই অভিসন্ধি ঘা দিল পাথরে
তুমি বাঁকা হ’লে, ছুঁড়ে মারলে উচ্ছ্বাস
সৃষ্টির এতদৃশ কড়া গন্ধ কে আগে জেনেছে?

১২
প্যান্টি-স্প্যাগোটিটপ এসে জপতপ-টি ঘিরেছে
আলোর অলঙ্ঘ্য দায়ে ঘুণ ধ‘রে আলো
এ নিছক ক্রুদ্ধ নয়, এ নাহয় পিঞ্জরে গঞ্জালো।

১৩
কাশীকফ শুকিয়ে চরস
বোনেদের পাড়াদু’টিপাশাপাশি ছিপ ফেলে,
শুকতারা ধ’রে পোষাহ্রদে।
উবু বসে প্লেবয় প্রচ্ছদে।

১৪
নিয়মের ভ্রুকুটি বানাই
তেকাঠি ও মাথাভাঙা খোলসটি নাড়ি।
ক্রিয়া আসে, ক্রিয়াযায়
মুদ্রাদোষে নিরুপায় আদারব্যাপারী।

১৫
তুমি সেই ভেবেছিলে - আজ কিছু বলো
পিপাসা সরিয়ে ছাত মাথায় ঠেকাও
উদার করেছি - তার বর্ণচিত্তে– বৈপরীত্যে যা যা
বীরভোগ্য আছে অনুধ্যানে দাও।

১৬
একটি দেয়ালঘড়ি বেরোলো।
তার কাঁটা খেয়ে গেছে পিঁপড়েতে। শুধুনারকীয় দুর্গন্ধ বলে দেয়
ও আমার কবজির বাবা।

১৭
কক্ষনো প্রকৃত সড়ক ছোঁব না। আমার
তেমন পতঙ্গ নেই টানটান অনাক্রমে যায়।
এই হাঁটা সঞ্চয়ে হারায়।

১৮
নলদশাটি ভেজালাম অথচ
কার্ত্তিকে উপুড় হ’ল ঘাট।
নির্ভয় শামুক, আরথৈ থৈ করছে গণতল্লাট

১৯
এইভাবে রাখা হলে মুক্তি
এইভাবে দাঁড়ালে মানুষ
এইভাবে রমণ হ’লে জন্মনেয় আলোকপ্লাবিত সারস– তাকে
বেঁধে রাখে শালতমালের টিকা।
ত্রস্ত আওড়াই আমার
হারিয়েছে শ্যামাপঞ্জিকা।

২০
যাবতীয় ভ্রমরের মধ্যে এই সন্ত্রাস নিয়ে
সামাণ্য বলার ছিল ব’লে
নারীটিকে বোধ থেকে ছিঁড়লাম।
দুইদিক লোনা হয়ে গেল।



সুমিত রঞ্জন দাস


এই সংখ্যার কবি



সুমিত রঞ্জন দাস - জন্ম ১১ই ডিসেম্বর, ১৯৬৭ বর্ধমান শহরে। বাবা গোপীবল্লভ দাস, মা সনকা দাস। জন্ম থেকেই বর্ধমানে বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা সুত্রে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। পেশা দুর্গাপুর স্টীল প্ল্যান্টে মানব সংশাধন বিকাশ কেন্দ্রে কম্পিউটারের বরিষ্ঠ শিক্ষক। অবসর সময়ে আত্মতুষ্টির তাগিদে লেখা। প্রথম বই ২০১১ সালে - "বিষাদ ভেজা ময়ূরী বসন্ত", রচনাকাল: ২০০৯-২০১১


বিশ বাঁও জলে যে কথাকলি



(১)

খড়কুটো দিয়ে জীবন গড়ায় ব্যস্ত যে লোকটা
তার বিছানায় শতছিন্ন চাঁদ;
ঢেঁরা গুনে কেটে যায় অনেক একুশ
বদ্যি-হত্যে-সমালোচনা সঙ্গী থাকে এরাই
এবারও বুঝি জীবন বেচেই খাবে লোকটা

দেবীপক্ষ আসতে বুঝি অনেক বাকি!


(২)

কাল কিছু মানুষ নষ্ট হবে
নষ্ট হবে চাঁদ
নষ্ট ছেলেবেলা
নষ্ট লেখা কবির কবিতা
সার বেঁধে দাঁড়াবে এরা সবাই
বৈকুন্ঠপুরের সদ্যপ্রকাশিত শারদকরচায়;

শিরোনাম হোক নাহয় 'প্রেম' -

খিদেকে ভোলাতে পারেনি যে কখনো।

(৩)

রোদচশমার কাঁচে অবলোহিত আলো;

নীল সবুজ নিদেনপক্ষে হালকা বাদামী

পড়ন্ত বিকালের সবকটা রঙ ছিল ফ্রেমে
বিকিয়ে গেল চার পাঁচ কিম্বা আটআনায়
ষোলআনা যে অনেক দামী

সারাটা জীবনে

অধরাই রয়ে গেল তাই রামধনুর ছটা।

(৪)

মেটে রঙের প্রলেপ এখনো অনেক দেরী,
আজকাল ঝিঁঝিপোকারাতে কেবল
সুখস্বপ্নের মিহিদানাবারি
শুকোতে চায়না কাঁচা মাটির ভালবাসা;

একচিলতে দড়মার পলেস্তারা

আর খড়কুটো বাঁধা কয়েকটা জীবন
হড়কায় ভেসে যাবার আগে এটুকুই আশা
'মা' আসছেন, আর মাত্র ক'টা দিন পর...


(৫)

দুরমাঠে সূর্য অস্তাচলে
পাঁচের টেবিলে তিনটে হাফ
সতেরোয় ডবল একটা চিনিছাড়া হবে
একুশে কেউ নেই আজও;

প্লাসটিকের হাতপাখায়

প্লাসমাইনাস কাটাকুটি
হিসাব কষে যায় প্রবীন কবি

ঝর্ণা কলমটায় কালি শুকিয়ে গেছে বহুদিন।


(৬)

ফিরে আসছে শুরুর দিকে এক চিলতে আলো

আয়ু কিনে বেড়ানো অতীতের গল্পগুলো
উগড়ে দিচ্ছে জীবনের অস্তিত্ত্ব
আমি দৌড়চ্ছি
আলোর গতি বেড়ে চলেছে
আরও জোরে, জোরে
ঠিকরে পড়েছে আলো
ঝকমক করে উঠছে চাহিদাগুলো
দৌড়চ্ছি আরও জোরে
আর কয়েকটা মুহুর্ত সামনে -

আমার গন্তব্যস্থল যেন বিন্দুতেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে।


(৭)

খেলাঘরে আমরা দুজন

আমি আর আমার একাকীত্ব -
আমি খেলি আমার একাকীত্বের সাথে
একাকীত্ব আমাকে খেলায়
আমার একাকীত্ব আর আমি
কেউ কাউকে ছাড়তে চায় না;

খেলার বিরতিতে কে যেন হঠাৎ কড়া নেড়ে যায়

আমি তখন অপেক্ষায় থাকি, খেলা সাঙ্গ হবার
জীবনরাত আর একটু গাঢ় হলেই
আমি এসব না দেখে এবারে ঘুমিয়েই পড়ব।
(৮)
অমলকান্তির রোদ্দুর ভালো লেগেছিল
বিষন্ন মেঘলা আকাশ কখনও চায়নি
একলাটি চাঁদ জোৎস্নার আলোআঁধারে
মিলিয়ে যেতে চেয়েছিল
ঝাউপাতার ঝিরিঝিরি বাতাস
উড়ে যেতে চেয়েছিল সেও নিরুদ্দেশে;

এইসব বিষন্নতা দীর্ঘশ্বাস সময়ের ফাঁক গলে

কে জানে কোনদিন অমলকান্তি
কবিতা হতে পারবে কিনা।

(৯)

একটা গল্প লিখে দেবে আমায়
কালরাত রক্তক্ষরন হত্যা শিহরনে ভরা
চেনা শব্দ খুঁজে পাক সংবাদের শিরোনাম
রূপোলী আলোয় শমন পাঠাক ঈশ্বর
মেঘলা কাঁচে নিঃশ্বাস ফেলুক মৃত্যু
তবুও আমি স্পষ্ট দেখতে পাব -
ঈশ্বর অসুস্থ আমার অপেক্ষায় তার শেষ সময়;

ভাবছি এবারে বেরিয়ে পড়ব যে কোন একদিন।


(১০)

সব কথা ভুলে যাই আমরা
কেবল বিষাদের রক্ত লেগে থাকে পায়ে

সব হারিয়ে যায়

দিনের শেষে ছেলেবেলা কৈশোর যৌবন নিতম্ব
সোনালী দিনগুলো বেহিসাবী ছুটে চলে
বিষাদহোলীখেলায় লিপ্ত হয়ে পড়ি
এসবের মাঝে কেবল ইতিহাস অপেক্ষায় থাকে
কোন এক নক্ষত্রের ছাই হয়ে যাওয়া স্মৃতিবিষ
আগলে রাখবে বলে।

(১১)

চিন্তার সব ছবিতে একদিন ভোর হয়
আলো নিভে গেলেও জৌলুস কমে না একটুও
রগরগে পোস্টারগুলো কেবল পলেস্তারা খসায়
যৌনতা ঝেড়ে ফেলে হোঁচট খায় আবছা অন্ধকারে
আয়ুকেনা জীবনের পৌরানিক ছাপাখানায়
চেনা হরফ গলে গলে পড়ে; ইতিহাসে
মৃতবৎসের পান্ডুলিপি লেখা হবার আগে

কেবল ক্যালেন্ডারে জন্মের তারিখ বদল হয়

কোন রকম ভুমিকা ছাড়াই।

(১২)

হিমবাহ নিঁখুত পাথর হয়ে যায়
ইতিহাস কাঁপে বিধ্বংসী ভুমিকম্পে
বৃষ্টিভেজা নির্বিকার সময়
হামাগুড়ি দিয়ে যায় নিঃশব্দে
কায়াহীন সংখ্যাহীন যত আবেগ
অনুচ্চারিত রয়ে যায় জিহ্বায়

কেবল জীবন তখন অন্যভাবে হেঁটে যায়

আজকের তথ্যচিত্রে মুকাভিনয় করবে বলে।

(১৩)

একটা সাদা চক লিখে যায়
দিদিমনি কথকথা
সাদা চক লিখে যায়
দিদিমনির জীবনের কথা
মুছে যাওয়া সাদা সিঁথির মেঘলা আকাশে;

শব্দগুলো খেলা করে এখন অন্যরকম খেলা

ব্যস্ততম যত দিন হয়ে যায় অব্যক্ত ভাযাহীন
যেন ক্ষয়ে ক্ষয়ে বাতিল হয়ে যাবার আগে
লিখে যায় - ব্ল্যাকবোর্ডের শরীর বুঝি ভাল নেই।

(১৪)

অকাল বৃষ্টি আজকাল চোখের পাতা ধুয়ে দেয়
ভিটে মাটি বাতাস আর নতুন গল্প বলে না
হলদেটে ভালোবাসা বাৎসায়ন উপকথা
জলরং তেলেভাজা কিছু ভাল লাগে না
স্যাঁতসেতে হাতপাখা অমরত্বের পাকাদেখা
গুগলের মানচিত্রে বুঝি কোনদিন ঠাঁই হয় না

এইসব লেখাজোকা শব্দজব্দ ঢাকা আয়না

প্লাস্টারে কাগজের মন্ড - এছাড়া আর কিছু হয় না।

(১৫)

কিছু মানুষ প্রতিদিন থাকে
সব মানুষ কিছুদিন
কিছু মানুষ আমাকে ডাকে
সব মানুষ ডলফিন
ডুব দেয় আর ওঠে বেহুলাবাসায়
বন্দী থাকেনা জলের তলায়
গভীর নীচে গাছপালা পাহাড় সংশয়
বুকে হেঁটে যাওয়া হামাগুড়ি জীবন

তবু ভালোলাগে বিরতি বিশ্রাম

সদ্য ঘুম থেকে উঠে আসতে হবে বলে।

(১৬)

মাটি খোঁড়া মেঠো আলু
জলে ফোটানো ঘাসবীজ আর
বেঁচে থাকার নুন্যতম অঙ্গীকার -
এসব নিয়েই বড় হয় হেমব্রেম পরিবার
এসব নিয়েই লেখা হয় পরিবারের গল্পগাথা,

সরকার মাঝে মাঝে এদের কথা বলে; ইতিহাসে

সেদিন সংযোজিত হয় আর এক নতুন অধ্যায়।

(১৭)

স্বপ্নরাতে শজারু আসে আজকাল
আগে কাঁটা পরে গ্রহনীয় মাংসের হাতছানি; টান
অনির্দিষ্ট তারুন্যের স্রোতে ভাসা
আনখা নৌকায় ঘুমন্ত যুদ্ধের সাজে দেখে
দুরে চলে যায়;

এ অন্য শজারু

নিশ্চিত গন্তব্য ছেড়ে জলের গভীরে ডুবতে চায়
পরিচয় দেয় না উত্তর মেলে না
কেবল নিস্তব্ধ দুপুরের মত
মাঝে মাঝে নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়।

(১৮)

নিত্য অনুশীলনে নিরাকার হতে থাকে অজানা মুখ
বিষাদক্লিষ্ট তাপসের খোঁজে আজও বেহিসাবী সাজ
কেবল ইতস্ততঃ মেঘ চারিপাশে,
ভিজব না আমি
ভিজবে কেবল গোধূলির আকাশ
বিভাব এমনি গোধূলিয়া হলে হেঁটে যাব ঠিক
কেটে যাবে হরদম দাঁড়ানোর ঝোঁক;

অদূরে তখন হাসবে চন্দ্রাতপ জোৎস্না।


(১৯)

পাহাড়ের দুঃখ নিয়ে আঁকিবুকি
আঁচড় কাটা কয়েকটা মুহুর্ত
মিশরীয় মমি হয়ে আছে
অথচ সর্বত্র আজ বসন্তের হোলী!

এখনও সময় আছে, বুনে যাও কল্পনাজাল

স্বপ্নের মাঝে ঘসে ঘসে
রঙীন করে তোলো তোমার জীবনী
চিহ্ন রেখে যাও - বেঁচে আছো
পাপপূণ্য নয় বেঁচে আছো, এটুকু জানাতে
সব ভুলে এবার ছুটে যাও পিছনের দিকে;

পাহাড়ের সীমা ছেড়ে রঙের পোঁচ

মিশে যাক অবসন্ন ঢেউয়ের খাঁজে
তোমার সংহার শেষে সব শোধ দেবে বলে।

(২০)

বৃত্তের বাইরে যে মেয়েটা বিলি করছে নিষিদ্ধ ইস্তেহার
মান অপমান অহঙ্কারের সিলমোহরে পাচার হচ্ছে পলকে;

সৌজন্যের শেষ বাতিটুকুও নিভে গেলে

ধীর পায়ে বাড়ি ফিরে যায় অভিজ্ঞ বৃদ্ধ
অভিযোগ জমা হয় প্রতিদিন বিজ্ঞাপনের মোড়কে
নিশুতি রাতে পথ হারায় অস্ফুষ্ট গোঙানীর শব্দ

আমিও বসে থাকি যমযন্ত্রনা পান করে

তাম্বুলপাত্রে একটুকরো বিসর্গসুখের আশায়। 



কচি রেজা

এই সংখ্যার কবি 






বিশ শতকের নব্বই-এর দশকের উল্লেখযোগ্য কবি কচি রেজা (পিতৃদত্ত নাম নীরজা কামাল) গোপালগঞ্জ জেলায় ৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষা জীবন বাংলা দেশ এবং নিউ ইয়র্কে। অধুনা নিউ ইয়র্ক অধিবাসী।



উল্লেখযোগ্য কাব্য গ্রন্থ:
১। অবিশ্বাস বেড়ালের নূপুর (শ্রাবণ প্রকাশনী-২০০৯)
২। ভুলের এমন দেবতা স্বভাব (ধ্রূবপদ প্রকাশনী-২০১০)
৩। অন্ধআয়নাযাত্রা (কবিতা সংক্রান্তি-প্রকাশনী-২০১২)

রডোডেনড্রনগুচ্ছ

১।
এক একটি মহাদেশ জলে পড়ে যাচ্ছে
জল উড়ে যাচ্ছে ডলারের মত
তাকে আমি জলের দামে কিনে
ইঁদুর হয়ে কাটব চশমা

নির্জনে কোমরে হাত দিয়ে
নাচঘর থেকে টেনে নিয়ে গেছ তারা
তালুতে চেটেছ একা থাকা নাভী
জানিয়ে দিই আগামীকাল তার বিবাহ

এইসব বীজানু চোখ থেকে খুলে
ভরদুপুরের সাথে ঘুমাবে সে এখন
ঘুমগুলো চোখ ছাড়া ছিল
চোখগুলো দুপুর ছাড়া ছিল

সব তুষার সাফ হলে
ঝরাপাতা নিয়ে চলে যাবে ট্রেনগুলো

২।
ড্রয়ার খুলে কয়েকটি ছোট-বড় কাজ করা পোশাক
কোন আমলের তা মোম জ্বেলে পড়া গেল বেশ;

জিউশদের টুপির ভেতরে ও অস্পৃশ্য রসিদপত্রে দাওয়াইয়ের লিস্ট;

পুরুষ তার শরীরী শক্তি নিয়ে তখনও সন্দেহপ্রবণ।

যে তিনটা মমি উল্‌টে পড়ে আছে
কূটতর্কে ভাল করে চিনতেও পারি না।
অথচ দেহ আরকে ডুবিয়েছিল তারা!

বলেছিলাম, দাদা মশাইয়ের পদবীটাও যেন ওরা মমি করে দেয়;

সম্রাজ্ঞীর পোশাকে নিজেকে আনস্মার্ট লাগে; তাই, গাফিলতি করে করে
ফিরিয়ে দিয়েছি রোমান রাজপুত্র।এখন কে যেন
আমার পাথর-মূর্তির চুল আঁকছে
কস্মিনকালেও আমি গ্রিক ছিলাম না, তাই, ইচ্ছে
হালকাভাবে আগুন জ্বালিয়ে পোড়াতে পারতাম যদি

অশ্বের খুরে-খুরে গুঁড়ো হয়ে গেছি, তবু
নিজের চুল কোঁকড়া করি নি কখনও।

৩।
শাড়িতে জড়িয়ে গেছে ভোরবেলা
তরুনী ব্লাউসের কাঁধে হাত,
আমি কি ভোরের চিঠিতে কুয়াশা,

কিছুদিনের ভেতর শিখে গেল দুপুরও
বিচলিত ছোটাছুটিতে বোঝা যায়
এই হাওয়া খুঁটছে ঠোঁট,

গ্রহলোক ঘুরে আগে নেমে যাক যাত্রীরা
শীতল নাভী কামড়ে ছুঁড়িটা বলবে,
টলে উঠেছে কি জল, আত্মহত্যা করে দেখ।

৪।
ঘৃণা করো, করলে মনে হবে, তুমি ভিন্ন,
আমি পুড়ে পুড়ে-- পুড়ে পুড়ে বিভিন্ন আগুনে
হয়েছি অংগার,
গুঞ্জন শুনে তুমি ভালো করে দেখছ আমাকে,
এই শীতে অবজ্ঞা জ্বালিয়ে বলছো, তুলে দাও জানলার কাচ'

দু'একটি শীত যাক, গেলে কুয়াশা শিখব আমিও,
ভুল হয়ে গেছে, অবজ্ঞা করি নি তাই আগে,
আচ্ছন্ন হয়ে আছি এখন ক্ষুধায়, অপেক্ষায়,

সিঁড়ির অর্ধেক এসে কে যেন দিব্যি চলে গেল চুম্বন না দিয়ে।

৫।
প্রজাতন্ত্রের আদমশুমারী মেয়ে কাঁচা রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে গেছে,
গ্রীষ্মে আবহাওয়া শুকনো থাকলেও, ফ্লাই করলো না প্যারাসুট,

মিউজিয়ামের ইজিপশিয়ান ফ্লোরে আমি, দেখছিলাম মমির
সম্রাজ্ঞীর হাত উড়ে উড়ে ছাদ থেকে, কালো চোখ যাচ্ছে
খেজুরগাছের নীচে--

এবারও কি বাকি রয়ে যাবে আমার প্রিয় ক্ষুদ্র নাম,
কাচের জাল এড়িয়ে কতবার তো হাতচিঠিতে ভ্রু শুদ্ধ
স্পেলিংএ লিখি,

জেনে রেখো, আগামী নাড়িতে রক্ত চুষবে আমার মুখ---
আদমশুমারী মেয়েটি লিখবে কুমারী অশ্রু,লিখবে,কন্যা।

৬।
শব্দেরা ঝুঁকে পড়ে ঢেকে রেখেছে
কোমরের ভাষা,
পাশাপাশি মোম, চুমুর ধ্বনি

গ্রীষ্মকাল আর তার পশ্চাদবর্তীদের হাত ধরে
নিয়ে যাচ্ছে অন্ধ প্রেমিক,

দূরের দিগন্ত থেকে ফিরবার পথে
গা খুঁটছিল পাখিদুটি
দু’ফোঁটা মুছছিল

আকাশে মেঘের ছায়া রেখে
গুলির শব্দের কথা বলে
উড়ে গেল পাখি দুটি

৭।
নোনতা নেমেছে দুপুর বেলার জোড়া পায়ে,
কাঠের মাচায়, রক্তের কাঠবাদাম দেখেও দেখে না,
একটি নিষিদ্ধ ওষ্ঠ ছুঁয়ে গেল, আসলে উত্তাপ

ধুলো আর চুনসুরকির স্তূপ জ্বললো ভোর অব্দি,

মায়ের কানপাশা
কারা নিয়ে গেল ষ্ট্রেচারে করে,মৃত নিজেই বলল, ওইযে মাঠ--

কান্না ভাংছিল চোখ
বেস বল খেলছিল
এইসব বাঁকা ছবি তুলে রাখে, পিষ্ট চশমার কাচ।

৮।
আলিঙ্গনের সময় বোঝা গেল, ঈশ্বর শ্বেতাঙ্গ,
কেবলই শেতাঙ্গ,
আমিতো চেটে খাচ্ছি ঠান্ডা হাত, চোরাবালিতে গ্লাস
নামছে ভায়োলিন যে বাজাচ্ছে তার,

প্রজাপতির ভেতর ফুল
ফুলের ভেতর প্রজাপতি

ডানা ছুঁয়ে এসেছে অনুতাপ, নিজস্ব কুরে খাচ্ছে,
শেকড়মাঠ,শৈশবপুকুর,চুমুবিকেল---

আলমারিসুদ্ধ বাঁকা চোখ দেখছে খুট খাট জুতোর,
ব্যাগের বাড়ি ফেরা----

আগামীতে আমাদের মেয়ে হলে দু’পায়ে
যমুনা পরাবো

৯।
বেজে উঠলেই ছোবল দিচ্ছে হেলে সাপ
স্নো বল এগোতে এগোতে লাল হচ্ছে আদরে,
এইমাত্র স্নান ঘরের কথা ভাবছিলাম,আর
পাতা আমাকে আধঢাকা করে এক চামচ
ক্ষুধা রাখলো হাতে,

এবার তুমি বেজে উঠলেই আমি হেলে সাপ,
চারপাশের মোহ্যমান শরৎ লুট কোরে
সমূহ চিৎকার রেখেছি নিজের হাতে,

ছাড়পত্র লেখার সময়ে আখরোটের গায়ে
আবিষ্কৃত হয় বোমার সপ্লিন্টার,
ঠিক জানি,এবার যুদ্ধে যাবার ইশারায়
ভেঙ্গে যাবে স্তম্ভিত সেতুটি,
দুজনে কুড়োতে শুরু করে দুজনের হাত ।

১০।

ততটা সমুদ্র দেখে নয়
যতটা অঞ্জলি ভরে তুমি
স্পর্শ দাও;---চুম্বনের ধ্বক!

দাও,দগ্ধ-পোড়া ছিন্ন আর চূর্ণ চোখ,
আমার এ-মুখে মেখে নিই

--দিগন্তের শূন্য ধু-ধু চিকচিক বালি!

১১।
আমিতো হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলাম, কেবলই হাত দিয়ে
গতবছরের আগুন কে যেন জ্বালিয়ে নিল এবছরেও
নেগেটিভ রক্ত শুকিয়ে নিলাম একটু, টায়ারের গ্রুপ জানি না,
রক্তশূন্যতার গায়ে সময়মতো লাগে যদি,

টপলেস হবার আগে শেয়ার মার্কেটের দর জানা দরকার,
একটা খেলনা আইনষ্টাইনের দামে এক ক্যারাভান ঊট,
দাম বেড়ে গেছে সোনালি বালির

যীশুজন্মের আগের ফারাও সম্রাজ্ঞীর চিকন কোমোর----
সাম্প্রতিক কাচ সভ্যতা ধরে রাখলেও নিষ্ফল হল
তিরিশ সদস্যের মিটিং,
তারা ফিতার বদলে হাত দিয়ে মেপেছিল স্তন।

১২।
তিলের গল্পকে ঢেকে রেখেছে সমরখন্দ, তোমার ঠোঁটের
মুক্তোবসানো ছুরির হাতল বদলে দিয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট,

সামান্য বিচ্যুতি,এর ঠিক পরেই জানার বেশি
শিস দিতে দিতে উড়ে যাবে পুরনো পাখিরা
শৃঙ্খল ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে পা পরে নেবে আনুগত্য,
সর্বনাশের কাঁধে তোমার মায়া সত্যি কিছু জারি রেখ,

জেন, আমি ওই উন্মাদের সব টুকু,
আগামী জন্মে ওর হৃদপিন্ড হবো, খুন করে পালাবার সময়
হেসে হেসে মরে যাব ভেতরেই, ওর বুকে,

মুখের পেশীতে বোঝা যাবে কী অবিশ্বাস্য স্তব্ধতা,
অন্যরকম, একেবারে অন্যরকম এই খুনীর হাতের ধাতব ক্যামেরা,

ভিসুয়ালাইজ করে রেখেছে,
আমার ঝরনা, আমার তোলপাড়।

১৩।
একটি বেঁচে থাকা সুগোল, যেন বেরিয়ে বাঁচে,
নার্সারি থেকে সবুজ আয়নায় তাকালে মোমদানিও
একমিনিটে ছাই,আমি তো পুড়িই,
কাঠের সিঁড়িতে কতবার উঠি,বুঝি ওঠা হল না
বুঝি জ্বালান হল না,পোড়া ঠোঁট,
প্রতিবিম্ব ঘুরে ঘুরে চিঠির কাছে, পড়েছ বুক,চিঠি পড়েছ?
অভ্যর্থনা ঝুঁকে থাকে হিজলে, জলের অজস্রতা্‌য়,
প্রতিমূর্তির হাতে,

একটি বেঁচে থাকা আহ্লাদ, যেন অপচয়ে বাঁচে,
দেখা বাঁচিয়ে, চোখ বাঁচিয়ে বাঁচে,
মহাপ্রবণতার নাম ভুল, নেভাতে নেভাতে ভাঙা হাড়ে,
মহাপ্রানের ভাঙায়---

১৪।
নখের অবিশ্বাস্যযোগ্যতায় গল্প শুনে নিয়েছে,
রেখা এঁকে দিয়েছে,
আমিও কাচ পাড়িয়ে বনে বনে---মনের
জানলার পাট খুলে ভাঙাচোরা গোপনে দেখি,
আগামী সংকটের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চারপাশে, জল জড়িয়ে
ভাসে কালো রাজহাঁস,
বোতামের সাথে ভালবাসা, শুরু করেছি বাসতে,
চৈতন্যে ঘাই—আমারও অবিশ্বাস্য পতন?
পারি যদি শষ্য হব,তুমি হবে উদাস কৃষক,অথবা ভাবুক,
টলষ্টয়ের কোটের ধরনে পরিগম্ভীরও হতে পার,
হতে পার প্রভাতফেরি, বদলে যাওয়া বৃক্ষ চরাচর
তখন জোড়া বাসনা, কাঙাল বাসনা তখন।

১৫।
মুখোশ খুলি নি সারাদিন তাই এই মিথ্যেকারের মুখ
ছায়া ধার করে করে অফিস-আদালতে যায়, তোমার কাছে যায়,
গেলে তাকে প্রশ্ন করো না, বরং আদরে মুখর করো - বজ্রপাতে বাঁচিও
উঁচু করে ধরো গৃহস্বামীর চোখ থেকে,

তার ফুলে ওঠা ঠোঁটে এক লক্ষ চুম্বন দিয়ে উর্বর করো, আর অঙ্কুরউদ্ভব
হলে নাম রেখো, উন্মাদ!

জীবনতো নিরুত্তর উত্তরের নাম - পাটিগনিত না জানা কাঁচা বালিকা,
পাঁচিল টপকে যে কোনো অজুহাতে দেখো, একদিন পৌঁছে যাব
ক্যাম্পের পালটা গানে।

১৬।
রোদ লাগে যদি, গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোদ, তাহলে চিঠির পিঠ ঘুরিয়ে বসো
আর ব্যবচ্ছেদ করে দেখো, আমার কাঁধের হাড়ে কিভাবে অস্ত গিয়েছে সূর্য,

সাঁতরে চলো রাত, দেখো, এই ঝড়-বাদলে কিভাবে মাছের অপেক্ষায়
নৌকার জেলেরা, আর নীচু আমার দিকে—চেয়ে থেকো,

চোখের যন্ত্রনায় বেরিয়ে গেছে চোখ, এই খোলা বৃষ্টি তাকে পৌঁছে দিক
দুধের প্রস্রবনে ফেটে যাওয়া বুকে - পাখির মানসিক অবস্থা ভালো না,
তার জন্যও কিছু চিত্রকল্প, একটু জলের দিকে ঝুঁকে থাকা জরুরী

পথকে বলো, তথ্যটি জানিয়ে তাকে যেন নিয়ে যায় পার্টিজান অফিসে

১৭।
পায়ে কামড় দিয়ে মোজা ছিঁড়ে নিয়েছো, কুকুর
ব্রেকিং নিউজ-----
রোমেনি এন ওবামা স্পার ওভার এম্বেসি এটাকস
শীত এলে নাচ আর শ্যাম্পেন ওড়ে
শীত এলে আমেরিকার পতাকা পোড়ে

টেবিলে চার জন---টেবিলে পাঁচ জন ফ্রেসখাবার
ঢেলে দিচ্ছে পায়রার পাতে
পায়রা সোনার পেটটি ভরে খেয়ে ঢেকুরের সাথে দোয়া পড়ে
গভীর রাতে ইঁদুরের ছুরি দাঁত চুরি করে কাটে এঞ্জোলিনা জোলির
আরেকটি ভিয়েতনামি দত্তক

হা হা হো হো হেসে ওঠে গলার হার
কৃত্তিম নখের রঙ বোতাম ছিঁড়ে নিচ্ছে শার্টের
চোখের খাতিরে চুলের বেনি ও খেয়ে নেয় কয়েক পেগ

শীত এলে সব গাড়ির রঙ হলুদ,
কেবল থ্রি পিস সূটে চমকায় একটি ব্লন্ড মাথার গোলাপ,
ঘাঁটি সরিয়ে সরিয়ে চলো দক্ষিনে ----

১৮।
এই লালচে সকাল ভেঙ্গে,বাকিটা তুলোর টুপি,
বাকিটা হাত-মোজা ঢাকা পাতা পাতা বুক,

কুসুম গরম একান্ত ডিমের মতো খোসা ভেঙে, ঠোঁট চেটে নিয়েছিল সকাল
এক মাথা শ্রেষ্ঠ চুল হাওয়ায়, কুয়াশায় ভেজা গ্রাম,
ঠেলাগাড়িতে কার্ডিগ্যানের যাতায়াত শীত থেকে শরতের
ব্রিজ অবধি,
বো-টাই বাঁধা সরল গাছের নীচে ঘাস-কাটার মেশিন,
আমিও আগামীর ঘাস হব? পুশ চেয়ারে টেনে নেয়া অন্ধ?
আমার চোখে ভানহীন মাশকারার কীর্তন বেজে ওঠা মুগ্ধতা,

বলো কিন্তু, প্রকান্ড জুতোর ভেতর যাবার আগে, ঠিক ঠাক নুন হয়েছে কি না?
তুমি তো আগভাত, গরীবের মাপা চা'ল একমুঠো।

১৯।
তাতারীয় ধরনের চুম্বন খুঁচিয়ে দিলো ঠোঁটের তিল,
তুমি বললে, ওভাবে নয়, এভাবে--
আমিতো ঠিক জানি, গ্রামান্তের মাঠে মাঠে সব চড়ুই
আজ ভিজে যাবে চোখের জলে,

সংসদে ফাটে দাম্ভিক হাসি, ব্যাকডো্র দিয়ে ঢুকে পড়ে
ব্যাকডেটেড পাখি, এক কবির স্মরন সভায় শুধু চিকন ফুলের মালা,
হাতবাক্সে সেধোবার আগেই শর্ট স্কার্ট দুলিয়ে হেঁটে চলে যায় তিল
কোথাও শানিয়ে ওঠা জলে,

এগিয়ে আসে লেফটেন্যান্ট
এগিয়ে আসে রেডক্রশ

পার্টিজান অফিসের এক লিষ্টিতে কিছু পাকা জাদুকরের নাম
আমি খুঁজতে বেরিয়েছি গনকবর

২০।
ঘুন্টিঘরের সামনে এলো মেলো কিছু মেঘের ভঙিমায় মনে হলো, আমি একা,মেঘেরও কিছু নেই, একটি ভাঙা-মায়া-বুকও, বৃষ্টি এলে তাই কুকুরটা বেঁধে রাখি গলায় বকলস দিয়ে,
বেড়ালাক্ষী বলে আমার চশমা গোল আর তুমি অম্লানবদনে মিথ্যে গড়িয়ে দিয়ে বললে,
এ-শরীর আমার,এর বিহ্বভলতা

কিছুদিন ঠোক্কর, তারপর অন্য গোলার্ধের শান্ত হয়ে আসা বরফ কুচি সরিয়ে দেখে নেয়া গেল, নেকস্ট টপ মডেল ক্যাটওয়াক, বৃষ্টি উধাও হবার পর,
কাচ ভেঙ্গে গেলে অক্সিক্লিন দিয়ে মুছে রাখি ফ্যামিলি এলবাম