সম্পাদকীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সম্পাদকীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৪

সম্পাদকীয়



সম্পাদকীয়

তোমাদের অনেকদিন লেখা হয়নি। ও হ্যাঁ হ্যাঁ বিজয়ার প্রীতি শুভেচ্ছা... যার যেটুকু দরকার নিও। পুজোর পরের সময়টুকু এরকমই, বেশি কথা বার্তা বললে থমকে যায়। দুপুরের গরম দিয়ে রাগ উগরে দেয় ঠারে ঠারে।
অনেকেই বলেন বেচেঁ থাকা ভালো , এই যে লিখে যাওয়া টুকু। আমার খালি মনে হয় কে যেনো আমাকে অভিশাপ দিয়েছে - তাই লেখাটুকুতেই শুধু আনন্দ। দিন দিন আমার ছোটো ছোটো খুশী শিকেয় উঠেছে। এই সেদিন অনেক ঘুমোনোর পর ঝর ঝরে লাগছিল বেশ, নতুন জীবন শুরু হচ্ছে মনে হল - সেই আনন্দও আমি ফেলে রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম তোমাদেরই কারো কবিতা মনে করতে করতে।

ঘুমের মধ্যে আমার মনে হয়েছিল শুধুই গান শোনার জন্যে আমার আরেকটা জীবন থাকা উচিত। কিংবা এই ধরো ছবি। খুব বেশি যে বুঝি তা কিন্তু নয় - তবুও বলব ভ্যান গখই শুধু ভাল্লাগে। অনেকে জাদু বাস্তবের কথা বলবেন, দর্শন নিয়ে কথা।ওর ছবিতে অতীন্দ্রিয় কিছু পান না অনেকেই। বলে দিতে পারি , ওই যে নিদাঘ দুপুর, কোথাও রেল গাড়ি দাঁড়িয়ে , শুধুই মাছ ধরা নৌকোগুলোর তট। এরম কি কেউ বলেছেন সহজ কথার ছলে। সহজতার আগে যে বাধা, তা মানুষ কে কৃত্রিম করে তোলে। আমি কৃত্রিমতায় ভয় পাই, দুঃস্বপ্ন দেখে প্রতিবার এভাবেই ঘুম ভাঙে।

পূজোর ল্যাদ, আড্ডা, ঘুম কাটিয়ে এই সংখ্যা নিয়ে এলাম আপনাদের ম্যেহেফিলে। শুকনো ভালোবাসার চেয়ে বড় আমাদের এই কবিতা যাপন সাক্ষী থাক সমস্ত নির্লিপ্ত পাঠের। দীপাবলীর আলোর থেকে দূরে হিম জোড়ো হবে অনেকটা।উষ্ণতা বেচে আমরা শীত কিনতে যাবো - আর জাস্ট কামড়াতেই তোমাদের মুখে ক্রীম হয়ে গলে যাবে এই সংখ্যা। অক্টোবর প্রৌঢ় হবে মুচমুচে ভালোবাসায়।
                                                              
ক্ষেপচুরিয়াসের পক্ষে—
রাজর্ষি মজুমদার

সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

ক্ষেপচুরিয়ানস্ - শারদীয়া ১৪২১ সংখ্যা



সম্পাদকীয়


ঠ্যালা অতি বিষম বস্তু । এর পাল্লায় পড়লে বেড়াল নির্দ্বিধায় গাছে চড়ে। দিব্যি ছিলাম গায়ে হাওয়া লাগিয়ে, চোঁয়া ঢেঁকুর নিয়ে । দুর্গাঘাট থেকে পাণ্ডবপুর - কিছুই সেভাবে না এড়িয়ে যেমন থাকা আরকি !  হঠাৎ শুনলুম ঢাকের আওয়াজ । বাড়ির পাশেই কুমোরপাড়ায় কারা যেন ঠাকুর নিয়ে যাচ্ছে । বৃষ্টিও কমে গিয়ে আকাশও কেমন একটা মন কেমন করা রোদ ছড়িয়ে দিল । খবরের কাগজের হকার, বিনুমামা বাড়িতে দিয়ে গেল আনন্দমেলা । ব্যস্‌, মনে হল পুজো এসে গেছে । চারদিকের হাজার ডামাডোল, কুৎসা, লবিবাজি, মহার্ঘভাতার ক্যাঁচক্যাঁচানি; এক নিমেষে পাল্টে গেল এক অসামান্য সুন্দরী, গর্জনতেল মাখা, আয়তাক্ষীর আবাহনে। এই সেই সময়, যখন বাঙালি সব ভুলে ভালোবাসায় মেতে ওঠে। আর পুজো মানেই পুজোসংখ্যা। নড়ে উঠলো পোকা, আর তার ঠ্যালায় পাক্কা একবছর বাদে আবার চেষ্টা করলাম সব্বাইকে নিয়ে একটা সংখ্যা করার। অতি অল্প সময় পেয়েছি, তবুও প্রায় সকলেই ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। ব্যস্ততার মধ্যেও লেখা দিয়েছেন।  তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাবো না, সবাই আমার প্রিয়জন । শুধু বলি, ভালোবাসার বিকল্প নেই ।

পুজো খুব ভালো কাটুক । ভালোবাসার মানুষকে আঘাত না করে সময় দিন । মেরুদণ্ড সোজা রেখে ভালো থাকুন সকলে ।  

ক্ষেপচুরিয়াসের পক্ষে
মিলন চট্টোপাধ্যায়




বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

সম্পাদকীয় - ৩য় বর্ষ ১২তম সংখ্যা






সম্পাদকীয়



“লিখছি, অথচ বাড়ির ঠিকানাটা জানা নেই
তুমি ক্রমশ দূরের দিকে ফুটে ওঠো
এমনই কি হওয়ার কথা ছিল?
রুপু...রুপু...দ্যুলোকের মতো দূরে
তুমি কি নীলাভ পা ছুঁয়ে আছ কারো?
তোমার বাড়ির ঠিকানা জানি না রুপু, তবে কি ‘অনন্ত’ লিখে দেবো?”

                                                                      - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রিয় কবিরা সব ফেসবুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে – শাশ্বত আকাশের দিকে কিংবা অ্যারিজোনায়, নাকি না জেনে দুদিনের শীতঘুম দিচ্ছে।

আর আমায় ঘুম হয়ে ভালোবেসে যাচ্ছে মা- ভালোবাসা সন্দেহ জমাচ্ছে দিনদিন।

ক্যালেন্ডার বলছে তারিখগুলোর শীত থেকে গ্রীষ্মের দিকে হাঁটার সময়টাই প্রেম এদিকে আমরাও হয়ত প্রতিটা ফুলের মানে আমরা অন্যভাবে বুঝে নিয়েছি।

সময় নিয়ে সমস্যা হলেও তাকে ভুলে গিয়ে আমাদের লিখতে হচ্ছে – ব্যাস্ততায় – ঘুম থামিয়ে একটানা বড় কোনো লেখা নামিয়ে দিচ্ছি দিব্যি। লেখার চাপ কমছে – সময়টা বয়ে যাচ্ছে প্রেম হয়ে।

লেখারা আসলে প্রতিটা হাঁটায় আমার সঙ্গে থাকে আর এরই মধ্যে দুমদাম চলে আসছে ভাষা দিবস, বইমেলা, হলদে শাড়ি ... আমি প্রতিবারের মতই চয়েস করে উঠতে পারছিনা।

লেখারা আমায় অস্থিরমনস্ক ভেবে চলে যাচ্ছে। এভাবেই কি প্রেম যায়? অস্থিরতা আমাদের স্বভাব বদলে ফেলে।

কাটাকুটির খাতায় একটা পরিষ্কার সংখ্যা রেখে গেলাম আপনাদের জন্যে। গদ্য, গপ্পো আর অজস্র কবিতায় ভরে। পুরনো নতুন সব্বাই লিখেছেন। আমার মতন মনখারাপে আচ্ছন্ন না থেকে মনে প্রাণে সংখ্যাটি পড়ুন ...আর আমি চোখ বুজে দেখতে থাকি সেই দেশ – মা ঘূম পাড়াতে ডাকছে যেখানে, কবিতার পাশে অপূর্ব এক ক্লান্তির ঘুম দিচ্ছি আমি... ভালোবাসা সমস্ত লেখায় মিলেমিশে গেছে।


ফেব্রুয়ারীর ভালোবাসা এবং ভালভাষা।




ক্ষেপচুরিয়াসের পক্ষে
রাজর্ষি মজুমদার

বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৪

সম্পাদকীয় - ৩য় বর্ষ ৯ম সংখ্যা

সম্পাদকীয়





বছরের প্রথম মাস। একই সাথে লেপের নীচে লুকানো আর কাঁচতোলা গাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার মরসুম। ঠান্ডা হাওয়া আর কেক-মাখানো বড়দিন ফেলে আসা; ক্যামেরায় এখনো লেগে আছে পিকনিকের ছবিগুলো। কিছু ভুলে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা,কিছু মনে রাখার ইচ্ছে আর অনেক নতুন প্রতিজ্ঞা নিয়ে প্রতিবারই ফিরে আসে সময়টা। একদিন মনে হতো,কেন বছরের শুরু জানুয়ারিতেই হবে? কেন এপ্রিল,জুলাই বা সেপ্টেম্বর নয়? আজ আর এসব নিয়ে তোলপাড় হয় না মন। এই শীতের মধ্যে নতুন বছরের অজুহাতে বন্ধুর বুক থেকে যদি একটু উষ্ণতা চুরি করাই যায়,ক্ষতি কি!


আমরা ক্ষ্যাপার দল। দস্তানা আঁটা হাতেও কলম নিয়ে বসি,নিদেনপক্ষে কি-বোর্ড তো আছেই! প্রতিটা লেখা লিখেই মনে হয় একটা নতুন দিন শুরু করলাম,হয়তো বা নতুন বছরও! কে জানে এটাই আমার জন্মদিন কিনা! আমরা দেখতে ভালোবাসি,বেড়াতে ভালোবাসি,কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা বোধহয় ঢেলে দিয়েছি লেখার মধ্যেই। মাঝেমধ্যে দুঃখ হয় প্রেমিকার জন্য।


আর কথা বাড়িয়ে কাজ নেই। ব্রেনের ইনপুট কম্যান্ড চোখদুটো ঠিকঠাক নিতে পারে কিনা তার পরীক্ষা হয়েই যাক না এবার! পুষ্টি তো সবাই-ই চায়!

শুভ নববর্ষ। ভালো থাকবেন।




ক্ষেপচুরিয়াসের পক্ষে
-তন্ময় ভট্টাচার্য

উত্তর সম্পাদকীয় - চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য

চলে গেল এক ক্ষেপচুরিয়াস বছর
চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য



একটা ক্ষেপচুরিয়াস বছর বুঝি শেষ হল।

বাপ রে বাপ, সেই শুরু থেকেই কেমন যেন ক্ষ্যাপা ষাড়ের মত মানুষকে ছুটিয়ে নিয়ে চলেছিল ২০১৩ বছরটা! অসুস্থ হয়ে বাড়িতে বসে আছি, হঠাৎ হাজির সন্দিহানবাবু। আসল নাম সন্দীপন, কিন্তু সব কিছুতেই তাঁর নিজস্ব ভাবটা বজায় রাখতে হলে সন্দিহান-টাই ঠিক। এসেই বললেন, “বলেছিলাম না, এতা খুব খারাপ বছর যাবে!”

বললাম, বলেছিলেন বুঝি? কেনো বলেছিলেন, তা যে মনে নেই!

জবাব পেলাম, “মশাই দেখছেন না, শেষ সংখ্যাদুটি ১৩, মানেই আনলাকি। এক বছরে দুটু মাসের ১৩ তারিখ আবার শুক্রবার পড়েছে, মানে ব্ল্যাক ফ্রাইডে”।

বুঝুন অবস্থা! এই বছরেই যে ব্লু মুন নাইটও হয়েছে, সেতা বেমালুম ভুলে মেরে দিয়েছেন। আমার তো এই বছরটা বেশ লাগল। সমস্ত মানুষকে একদম তুড়িয় ক্ষেপচুরিয়াস মেজাজে এনে দিয়ে গেছে। সেই যে আন্না হাজারের অনশনের পর থেকে দিল্লির যুবকেরা ক্ষেপে ছিল, নির্ভয়া কেসে না যেন জ্বলে ঊঠল। বছরের শুরুটাই হল এক্কেবারে ক্ষেপচুরিয়াস। তড়িঘড়ি নতুন আইন বানানো হল, নেতা-মন্ত্রীরা চড়-থাপ্পড়ও খেলেন।

আর তার রেশ এসে পড়ল কলকাতার পথেঘাটে। বারাসাত, গাইঘাটা তো ছিলই; এসে গেল কামদুনি, খড়জুনা, গেদে…। ব্যস, আপার ক্ষেপার পালা। রাজ্যের মানুষ ক্ষেপে পথে পথে কত কিছুই না করল। মিছিল-টিছিল হল আর শেষ হাসিটা হাসল ক্ষমতার জোর। কামদুনির অপরাজিতার পরিবার চাপের কাছে তাকাকেই বাপ ডাকতে বাধ্য হল। গ্রামবাসী তো তা মেনে নেবে না, তাঁরা প্রতিবাদীওই রইলেন। নিহত মেয়েটির পরিবার গ্রাম ছেরে কোথায় যে কপ্পুরের ময় ভ্যানিশ হল, কে জানে!

এ সবের মধ্যেই দার্জিলিং-এর পাহাড়ে খানিক ক্ষেপচুরিয়াস কারবার হহে গেল। জিটিএ নামের খুড়োর কল থেকে পদত্যাগ করে ফেললেন বিমল গুরুং। তাঁর দল তো সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের শাসকদের জানিয়ে দিল ‘সমর্থন তুলে নিলাম’। দরকারের তাঁতে কিছুই যায় আসে না। রাতারাতি বস্তাবন্দী সব মামলা মাটি খুঁড়ে কঙ্কাল উদ্ধারের মত বার করে এনে শুরু হল গুরুংপন্থীদের জেলে পাঠানো। ধন্য গণতন্ত্র, ধন্য তাঁর ক্ষেপচুরিয়াস চেহারা। কয়েক মাসেই বিদ্রোহ ঠাণ্ডা, শীত আসছে যে। শীতের পর ভোট এলে বোঝা যাবে “কোন দিকে কার পাল্লা ভারি”।

ভেবেছিলাম, একটু বুঝি রেস্ট পাব। হায় হায়! আলুর দাম গেল চন্দ্রাভিযানে। সরকার সৎ দাম বাঁধে, দাম ততই বাড়ে। বন্ধ হল অন্য রাজ্যে আলু রফতানি, শুরু হল মামলা। এই সুযোগে “বেগুন গেল বাকিংহামে/ ঢ্যারস চলে ত্রিনিদাদ/ মুসুর গেল কোপেনহেগেন/ পটল গেল পেট্রোগ্রাড।” – না না, এটা আমার না, উত্তরপাড়ার পল্টু চ্যাটার্জিরা ট্রেনের কামরা মাতিয়ে এই গান গাইতে গাইতে হাওড়া যেতেন সেই দিনগুলিতে। ওদিকে দিল্লির ঘোষণায় বোঝা গেল, দাম বাড়ছে সব জিনিষের আরে সর্বত্র। কলকাতায় একটু বেশী। তাঁর জেরে মুদ্রাস্ফীতির হার ‘ডাবল ডিজিটে’ গিয়ে অর্থমন্ত্রী আর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নরের নাকে মাছি হয়ে বসে রইল।

শোনা গেল, ঠাণ্ডা পড়লেই দাম কমবে। অতএব নো চিন্তা, ডু ফুর্তি’। সরকারের ঘোষণায় সন্দিগ্ধ সন্দিহানবাবু বললেন, “আরে বাবা, শীত পড়লে যে সব ফসল অঢেল চলে আসবে, নতুন আলুও আসবে – এটা কে না জানে?” মাস দুয়েক ঘাসপাতা আর সাবু-বার্লি খেয়ে কাটিয়ে দিতে পারলেই সস্তা সবজি – এই তত্ত্বও বাজারে এল। ততদিনে শীতের সবজি হাজির।

কিন্তু তাতেও কি সব সমস্যা মিটল? চারপাশেই তো ক্ষেপচুরিয়াস হাল। দিল্লির ভোটে বোঝা গেল মানুষ কতটা ক্ষেপেছিল সব দল আর তাঁর নেতাদের উপর। আম আদমি পার্টি জিতে গেল, কিন্তু দু-নম্বরে। তিন নম্বর এবার এক নম্বরকে রুখতে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে আম আদমি পার্টিকেই সেই রাজ্যের ক্ষমতায় নিয়ে এল। রাজস্থানের লোকারেও ক্ষমতার বদল ঘটালো। দেশের মাথা হওয়ার রোগে কাবু নামোজির লোকেরা বলে বসল, নামোর ম্যাজিকে না কি এসব হল। হল বুঝি? বুঝি না তো। সন্দিহানবাবুর সঙ্গে থেকে থেকে দেখছি আমারও চরিত্রের দোষ হয়ে যাচ্ছে। আগে এতগুলি রাজ্যে ভোটের প্রচারে নামো গেলেন আর হেরে এলেন কেন? উত্তরপ্রদেশেও তো হারতে হয়েছে। দক্ষিণ ভারতে পা রাখার জায়গাই নেই, পূবে আসাম ছাড়া এক গণ্ডা আসনে জেতার ক্ষমতা নেই, বিহারে ক্ষমতায় থেকেও হারর মুখে – নামো ম্যাজিক ফ্লপ না করে।

চোখ অন্যদিকে ঘোরাতেই দেখি বাংলাদেশে ভয়ঙ্কর হাল ভোট করাবেই, সরকার ক্ষেপচুরিয়াস। ক্ষেপচুরিয়াস বিরোঢী নেত্রী গোলাপী বিবি ওরফে বেগল জিয়া। ভোট রুখতেই হবে, তাই সারা সপ্তাহ ধরে কেবল হরতাল আর আবরোধ দাও, ট্রাক-বাস পোড়াও, মানুষ মারো-কাটো। জামাতীদের হাল খারাপ করে ছেড়েছে আদালত। অসত্য ভাষণ, মিত্যা তথ্য ইত্যাদিনানা কারণে তাঁদের দলের রেজিস্ট্রেশনই বাতিল। তাঁরা এখন ভোল বদলে সব বিএনপি। বাংলাদেশের লোক আড়ালে তাঁদের বলে ‘তলোয়ার পার্টি’। শেষ পর্যন্ত কি হয় জানতে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ কেটে যাবে।

যাক, যাক। তারপর নতুন কথা বলে যাবে। আগামী বছরটা কতটা ক্ষেপচুরিয়ান হবে, সেটা জানতে সন্দিহানবাবুকে পয়লা জানুয়ারি ডাকব ভাবছি। আপনারা কি বলেন?

সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ৩য় বর্ষ ৮ম সংখ্যা



সম্পাদকীয়



এই সময়টা পিকনিককে মনে করিয়ে দেয়। যেন কমলালেবু ,পিকনিক,বইমেলা আর কবিতাদের নিয়েএই শীতে খুব কাছের কোন বন্ধুর কাছে চলে গেছি। সে যেন বহুদিন ধরেই আমন্ত্রন জানিয়ে রেখেছিল এরকম শীতের মুহূর্ত গা ঘেঁসে একসাথে কাটানোর জন্যে ... আমার এক প্রিয় কবির কবিতা মনে পড়ে, একটা দুটো নয় পুরো একটা বই। সেই কোনকালে তিনি তার কবিতাগুলো দিয়ে শীতকালের কাছাকাছি আমায় নিয়ে চলে এসেছেন।


যাকগে, যেখানে শুরু করা যেত স্রেফ নামাস্তে দিয়ে সেখানে শীতকাল আর কবিতার সম্পর্কেই নাহয় শুরুটা হোলো। শুরু হলে এবার তাকে একটা গতিপথ দিতে হয় আমাদের, এদিকে যখন আমরা এ সংখ্যা পড়ছি হয়ত পৃথিবী তার গতিপথের অন্তিম প্রান্তে সূর্যের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলছে ... আমাদের কিন্তু খেয়াল থাকেনা পৃথিবী বা আমরা ছাড়া কে কখন কোন গতিপথে চলছি। বাংলা লিটল ম্যাগাজিন কিন্তু একটু একটু করে গতিপথ বদলাচ্ছে ব্লগ বা ওয়েব দুনিয়ার দিকে, অদূর ভবিষ্যতে হয়ত আমার শীতকালীন ব্লগ মেলাও পেতে পারি।


শীতকাল যখন এসেই পড়েছে প্রয়োজনীয় উষ্ণতা অন্তত সংগ্রহ করে নিতে হবেই আগামী তিনমাসের জন্যে – সামনেই শীতের পসরা সাজিয়ে কলকাতা আমাদের কাছে উপুড় করে দেবে আরও অনেক আনন্দের উপকরণ। আমরা কোনটা বেছে নোব সেটা এই মুহূর্তেই ভেবে রাখুন , কারণ এবারের পাগলামি ভরা ক্ষেপচুরিয়ানস হাতে পেলে আপনার সঙ্কল্প আর অটুট থাকবেনা এটুকু দাবি করাই যায়। কমলালেবু, পিকনিক নিয়ে শীত কাটাতে চাইলেও আপনার মস্তিষ্কে আমরা ঠুসে ঠাসে কবিতা ভরেই দোবো... এ পাগলামি যে থামার নয় কোনোকালেই।


টুটাফাটা আঁচড়গুলোর মোকাবিলায় শীতকালীন কোল্ডক্রিম হিসেবে রাখলাম এই সংখ্যাটি। অসংখ্য কবিতা, গদ্য, বেশ কিছু গল্প, প্রবন্ধ,রম্যরচনায় সাজিয়ে... ঠোঁটে মুখে আর মনেও খানিকটা মেখে তবেই শীত উপভোগ করতে বেরোবেন।


ক্ষেপচুরিয়াসের পক্ষে
রাজর্ষি মজুমদার

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ৩য় বর্ষ ৭ম সংখ্যা

সম্পাদকীয়


নতুন করে প্রেমের বিধি জানবার সময় এসেছে।


সম্পাদক খানিকটা দেরি করে ফেলেছেন পাঠকবন্ধুদের জন্য তাঁর এই লিখিত বক্তব্য দফতরে জমা দিতে। পক্ষকাল সময় পার করে দৈনিক পত্রিকার ভাষায় ডেটলাইন মিস করে ফেলেছেন।

সেই অধম সম্পাদকটি এবারের সংখ্যায় আমি জুঁই। কয়েকটা দিন আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম। গন্তব্য জানা ছিল না। কোথায় বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছিলাম। তাতে কি? ফেসবুকে আমাদের কবিবন্ধুদের দিনের পর দিন আমি বিমর্ষ হতে দেখেছি। ওঁদের স্টেটাস আপডেট দেখে মনে হয়েছে কোনও ঠেকে যেন জমে যাচ্ছে আখড়া। বুঝতে পারছি কবির মন অন্তরঙ্গতায়। শীতের শুরু এখানে সেখানে জলসাঘর। আমার এক ডানাওয়ালা শিশু কবিকে দেখছি বাস্তবটাকে ক্রমাগত ফুটিয়ে তুলে লিখে যাচ্ছে। তাই মন ভালো। বহুদিন বাদে আমি কবির লেখা শুনছি। আমার কাগজে, মানে আমার অফিসে একটু রাতের বেলায় কবি অভিজিৎ রায়ের সঙ্গে শীতকালীন কবিতা আড্ডা বসে। কবি কিশোর এবং অভিজিৎ এরা জানে যাপনের কবিতা কেমন করে শীতকালীন সিরিজে খাতা বদ্ধ হয়। মানুষের মধ্যে কবি জাতটাকে আমি আলাদা করেই চিনেছি। কবি বলাটা কেমন উচিত হল তা এখনই আমার জানা নেই।

পথেঘাটে মানুষকে দেখি, অনেক মানুষকে দেখলে মনে হয় তাঁর উপলব্ধিগুলোকে ছুঁয়ে ফেলি। এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করি আপনি কি কবিতা লেখেন? আমাদের কবিতার পাগলা গারদের জন্য আপনার অমূল্য লেখাটি যদি আমাকে দেন।

অন্তত তেমনটাই নয় যে তাঁকে কবিতা লিখতেই হবে! কবি শুধুমাত্র কবিতাই লেখেন না। অন্তত এমনটা নয় যে তাঁকে কবিতা লিখতেই হবে। তবু কবিদের জাত ধরা পড়ে গেলে আমি বলি, পাগলে পাগল চিনে ফেলে।

মানুষ অবুঝ। তরঙ্গ না মিলিলে আমরা সহজিয়া প্রেম করতে পারি না। এভাবেই ভাবি আর সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি। যে দিনে, কবিতার যাপন হবে সহজিয়া চুম্বনের মতন। শুদ্ধতার শ্বেতবর্ণ প্রেম সঙ্গে করে, কবিদের দল মধ্যরাতে পার হবে অশ্লীল শহর, মনের ভেতর অশান্ত গ্রাম, মোরাম রাস্তা, বুকের ওপর জোয়ারের ফুলে ওঠা এবং ভাটার টানে পুড়ে ছাই নদী। এসবই পার হবে কবিদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। শুদ্ধপ্রেমের রঙ বদল হবে স্বপ্নে। শুরু হবে এশহরের সরল দাম্পত্য জীবন। বিভোর হয়ে দেখছিলাম। ভালো লাগছিল খুব। কলমে সেই দৃশ্য আঁকতে চেষ্টা করে যাবে সারাজীবন। তবুও শিল্পীর হৃদয় গাথা কোনওকালে সম্পূণ হবে না।

কলকাতায় এখনও শীত পড়েনি। ডিসেম্বরে আমাদের পা। কুয়াশা জীবন শুরু হল। আমাদের শহরতলির শীত আমাকে পুরোনো ঘরবাড়ি, গাছ, পাগল বুড়িমা, একলা পচাপানির ডোবা আর পুরোনো প্রেম মনে করায়। কুচি কুচি কামরাঙা বনে সবুজ তারার মত কাটা মেঘ ভাসে। সেই অম্ল স্বাদের কলম ধরেছি হাতে। এতো বহুকালের পুরোনো কলম।

স্বেচ্ছামৃত্যুর পরও বাকি ছিল কিছু তাই এ্ই পুরোনো কলম হাতে নিয়েছি। জয়দীপ, সৌম্য, ঋপণ, আর্ষ, শ্রীজিৎ, রাজদীপ, জুবিন, কঙ্ক, অরিত্র, প্রদ্যোৎ, সৈকত, সুমিত, সোমনাথ, শকুন্তলা, চান্দ্রেয়ী, এষা, সংঘমিত্রা, অভিজিৎ, শ্রেয়সী, রঙ্গীত, দিঘী আরও কত শুন্য দশক কবির মুখ মনে পড়ছে। শীতে্র উৎসবগুলোতে ফি বছরের বাউল আড্ডায় বার বার পরিণত হবে নতুন শুন্য দশক। বাদ পড়েছে অনেক নাম। তাতে কিছু এসে যায় না।

আমরা অনেকেই ক্ষুধার্ত হতে চেয়েছিলাম, কেড়ে খেতে চেয়েছিলাম খাবার, তারুণ্যের রক্ত আমাদের ছুটিয়েছিল। পরখ করে দেখেছিলাম আদৌ বেস্টসেলর, কবি না শব্দশিল্পী। নাকি শুধুই, গোপনে গোপনে চলে লেনদেন বিকিকিনি যত মরণাস্ত্র। কবিতা গানের যাপনের অন্যতম মোহিনের গান মনে পড়ল। কবির হাতের মরনাস্ত্র দেখেছিলাম। ব্যস্ত জীবনে ডানাওয়ালা উড়ন্ত শিশুকে দেখলে বিশ্বাসঘাতককে আর মনে পড়ে না। কলহের সংস্কৃতি আমাদের গরম রক্তকে শান্ত করে নি। মারনাস্ত্র তুলে দিয়েছে আমাদের হাতে। তা দিয়ে কত রক্তক্ষরণের দিন পার করেছি। দীর্ঘ যাপনের পর কবি হৃদয়ে মৃত্যু চেতনা প্রবেশ করেছে যখন তখন আমরাই কি টের পাইনি যে, কবির হৃদয়ে আঘাত হেনে ইচ্ছামৃত্যু ডেকে এনেছি। অথচ শান্ত আন্দোলনে আমরাই পা মিলিয়েছিলাম। অন্ধের মতন ছুটেও দেখেছি অনেকেই। কবির চোখ পুরে গেলেও দৃষ্টি নিক্ষেপ করে থাকে।

নতুন করে প্রেমের বিধি জানবার সময় এসেছে।

দশক দশক দশক পেরিয়ে যাবে। সকলেই নিস্তব্ধ রাতের ভেতর পরিণত হব। কিন্তু মানুষকে না বুঝে খোলসে জড়িয়ে থেকে এই সুরা মগ হিসেবে পান করলেও কোনও কালেও বুঝব না নতুন প্রেমের বিধি। আখড়ায় আমরা খুচরো হিসেব করে যাব। টুংটাং পয়সার শব্দে ছন্দ ভঙ্গ হবে।

আমার দীর্ঘদিনের কবিতাসঙ্গী জুবিন লিখেছিল,

আমরা কেউ কারোর পিশাচকে বুঝতে
সেই ফাঁকে আমাদের পিক্‌ খেয়ে গেছে অজানা পিশাচ
আমি তোমাকে শাদা নারী ভেবেছি
তুমি আমাকে মিছড়ির ঘোড়া।
যদিও পড়ে জুবিন কবিতাটা অনেক বড় করে এবং নাম দেয় দেবলীনার উজ্জ্বল চাকা। লেখাটা মেন পড়ছে। আমরা কেউ কারোর পিশাচকে বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারছি কবিযাপনের গুরুত্ব।

কবি যাযাবর হলে আয়ু বাড়ে শুধু কবিতার।

ক্ষেপচুরিয়াসের দফতরে জমা পড়া বাছাই লেখা এবং নিয়মিত লেখা গুলো ছাড়াও বেশকিছু কবিকে অনুরোধ করেছিলাম এই সংখ্যাটিতে লেখার জন্য। তাঁদের অমূল্য লেখাটি পেয়ে খুব ভালো লেগেছ। সকলে ভালো থাকুন। শীতের জলসায় মেতে উঠুন প্রেমে।



কার্যনির্বাহী সপাদনায়
জুঁই সরকার

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ৩য় বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা

সম্পাদকীয় ১




এবছরের শীত হল শুরু । হিমস্পর্শের এই আবহে ‘ক্ষেপচুরিয়ান’–এর নতুন সংখ্যা । মরশুমি ফুলের মতো এখন চারদিকে অসংখ্য ছোট পত্রিকা ফোটার সময় । হাতে লেখা যুগ থেকে পত্রিকার আধুনিক মুদ্রণ যুগে ক্রম উত্তরণ হয়েছে । বর্তমানে তা পৌঁছেছে আধুনিকতম ইন্টারনেট বা ওয়েব যুগে । ওয়েব ম্যাগাজিন এখন অন্যতম বিনোদন মাধ্যম । হাতের মুঠোয় মোবাইলে যখন তখন দেখে নেওয়া যায় এই পত্রিকাগুলি ।

‘ক্ষেপচুরিয়ান’ এখন প্রায় সম্পূর্ণ পত্রিকা । টক, ঝাল, মিষ্টি নানা স্বাদে পরিপূর্ণ । রসিক পাঠক-পাঠিকাদের মনের খোরাক যোগানের দিকে সবসময়ই সচেষ্ট । বাজারি পত্রিকার থেকে এই পত্রিকার বিশেষত্ব আলাদা । বাণিজ্যিক কাগজের মতো জমাখরচের মাথাব্যথা নেই । তাই পত্রিকার সমস্ত শরীর জুড়ে আছে ভালোবাসার ছোঁয়া । একদঙ্গল হৃদয়ের স্বপ্নিল ভালোবাসা মিশে আছে এই প্রচেষ্টাতে । ‘ক্ষেপচুরিয়ান’–এর এই সংখ্যা হয়ে উঠুক শীতের উষ্ণতা । সোনা রোদের ঝলক ছড়িয়ে পড়ুক অন্তর্জাল দুনিয়ায় । সবাই ভালো থাকুন সবখানে সবসময় ।

একগুচ্ছ কাব্যিক উষ্ণতাসহ ‘ক্ষেপচুরিয়ান’–এর পক্ষে

কবিরুল ইসলাম কঙ্ক

সম্পাদকীয় ২ - মধুরিমা দত্ত

সম্পাদকীয় ২





গত সংখ্যায় কথা হচ্ছিল সার্কাস সাম্রাজ্যে দাপাদাপি নিয়ে। আসুন, রেশ না হারিয়ে বরং এই মাঝ নভেম্বরে সার্কাস ভ্রমণ সেরে আসি। সার্কাস বলতে মনে পড়ল ট্রাপিজ, সার্কাস বলতে মনে পড়ল বাঘ। আমাদের ভারসাম্যহীন শহরে ট্রাপিজ দেখতে আমরা শিখেছি সেই স্কুলবেলা থেকে। শিখেছি কীভাবে অনেক উপর থেকে নীচে দেখতে হয়, কীভাবে কারো ফেলে আসা জায়গায় পৌঁছে যেতে হয় দ্রুত। রঙ বদল দেখতে গিয়ে দেখেছি খাঁচার পাস দিয়ে গড়িয়ে গেছে টিফিনবক্স, বয়ে গেছে রেইনি ডে শেষ পিরিয়ড পর্যন্ত। আমাদের ট্রাপিজের ক্লাস তবু শেষ হয়নি। ক্লাসের পর নিয়ম করে দেখাতে হত অনবদ্য সব জাগলারি। শব্দের সাথে বেঁচে থাকার, কফিনের সাথে পায়রার, পালকের সাথে গিলোটিনের। বাড়ি ফিরে দেখতাম, কীভাবে মাংসের খণ্ড মুখে নিয়ে এগিয়ে আসছে সময়। ভয়ে হাত পা সেঁধিয়ে যেত। কাঁপতে কাঁপতে বুঝতে পারতাম নাকের উপর লাল রঙের মস্করা বসে আছে। চোখের নীচে কুণ্ডলী পাকিয়ে হাঁপাচ্ছে গত জন্মের ইয়ার্কি। মাথার থেকে খসে পড়ছে জাগলারির ক্রাউন। এইভাবে প্রতিরাতে আমাদের জোকার জন্ম ঘটে। রোজ সকালে দেখতাম লক্ষ লক্ষ ক্লাউন পেরিয়ে যাচ্ছে জেব্রা ক্রসিং।


এই সার্কাস সাম্রাজ্যে বলাবাহুল্য কিছু দর্শকও আছে। যারা জাগলারির ক্লাসে লুকিয়ে লিখতাম কবিতা, যারা খাঁচার পাশ দিয়ে পেরোতে পেরোতে কুড়িয়ে নিতাম ছোটবেলা, আর নদীর পাশে গিয়ে, জঙ্গলের কাছে গিয়ে চাইতাম ‘ভালো হোক’। আমরা এই দর্শক জন্ম নিয়ে লিখে যেতে চাইছি সময়, লিখে যেতে চাই আয়না। নভেম্বরের শেষ ব্লগেও তাই টুকে রাখছি পাগলামি। এগিয়ে যাচ্ছি ভোরবেলার দিকে।


ক্ষেপচুরিয়াসের পক্ষে
মধুরিমা দত্ত

শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ৩য় বর্ষ ৫ম সংখ্যা

সম্পাদকীয়




নভেম্বর। শীতকাল এবং সুপর্ণা বিষয়ক আমাদের ব্যাক্তিগত প্রলাপগুলো হঠাৎ করে মনে পড়ে যায় এই সময়। ইয়ার্কিটা অনেকদিন আগেই ঘটে গেছে। এখন শরীরে কবিতার শিকড় বাকড় নিয়ে আমরা এই অনন্ত সার্কাস সাম্রাজ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছি। হ্যাঁ, দাপিয়েই। কবিতা যদি পাগলামিই হয় তবে সেয়ানা হতে না পারার রুমাল ভেজানো দুঃখটুকু আমরা বহুদিন আগেই উড়িয়ে দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানপ্রিয় সময় পাগলদের জন্য কখনোই রেড কার্পেট পেতে কুর্নিশ করার প্রতিযোগিতা করেনি। আমাদের জন্য ফুটপাথ আছে, জেব্রা ক্রশিং আছে। চিরকালের ময়লা কাপড়ের ভিতর সনাতনী সৌন্দর্য, অথবা বিক্রি হয়ে যাওয়া ভিটেমাটির পাশে ঠেলা চালাতে আসা দেহাতি যুবক--- এসব রইল আমাদের জন্য। কবিতাকে যারা চানাচুর ভাবেন অথবা নিছক শখ – আমাদের রাস্তা, থুড়ি, ফুটপাথে তারা কখনোই হাঁটবেন না। তাতে বরং আমাদেরই পথ খানিক ভিড়মুক্ত হবে। বাজারী ও বিকৃত সকল মানসিকতার দাঁড়িপাল্লায় আমাদের পাগলামি বা সাহিত্য কোনটাকেই চাপাতে পারছি না, বলাবাহুল্য পারতে চাইছিও না।

আমাদের প্রতিটা প্রচেষ্টাই তাই এক একটা সাইরেনের মতো। নভেম্বরের প্রথম ব্লগজিন – যাদের কে সাথে পেলাম এবং যাদের কে পেলাম না সকলকেই ধন্যবাদ। আলোর উৎসব এসে গেছে। এবার উৎসবের আলোগুলো চেতনায় টেনে নেওয়ার পালা। সমবেত শীতঘুম ভেঙে যাক। পাগলামি গুলো বেঁচে থাক।

- ক্ষেপচুরিয়াসের পক্ষে মধুরিমা দত্ত

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩

উত্তর সম্পাদকীয় - ৩য় বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা

উত্তর সম্পাদকীয়
অরিন্দম চন্দ্র



শুভ বিজয়া দশমীর নমস্কার।এই ওয়েবজিনের স্ক্রীনটাকে আপনাদের পা ভেবে পেন্নাম ঠুকলাম,আশির্বাদটাও সেভাবেই পাঠান।আসলে চ্যানেলে চ্যানেলে সারাদিন সারারাত ধরে মা দুগগার প্রচার,বিলিব্যবস্থাটা তেমনই কেমন যেন যুৎসই বলে মনে হল।

আজ্ঞে হ্যাঁ, বাংলার টিভি চ্যানেলগুলোর আদিখ্যেতা দেখেই বলছি।চারদিন কাগজ বন্ধ,না থাকলেও উলটপুরান হত,মনে হয় না।মরুক গে,বাংলার তাবড় তাবড় চ্যানেলগুলো যখন গোপালপুরের দিকে যাচ্ছে তখন সমুদ্রঝড় “ফাইলিন” প্রায় ফুরিয়ে যায় যায় আর কি।অথচ এরা না কি বড় বড় কর্পোরেট মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত।মানে দুনিয়া জোড়া খবরের সাম্রাজ্যে এদের অবাধ বিচরণ।প্রায় সব কটা চ্যানেলেই দেশ দুনিয়ার খবরের অনুষ্ঠান থাকে,নিয়মিত।আর যে চ্যানেলের কেষ্টবিষ্টুরা লন্ডন,সুইৎজারল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের দুগগাপুজো কভার করতে ব্যস্ত তাঁদের তথাকথিত নেটওয়ার্ক ওড়িশা বা অন্ধ্রে ঠিক সময়ে না পৌঁছলে গালাগালটা কি সাধে আসে।

পাশাপাশি,ন্যাশনাল চ্যানেলগুলোর কথা বাদ দিন,স্থানীয় ওড়িয়া বা তেলুগু চ্যানেল,নিদেনপক্ষে লোকাল কেবলওয়ালাদেরকে দেখলাম----“হ্যাটস অফ” খুব কম দামী বিশেষণ হতে বাধ্য।স্থানীয় কেবলের নাম না জানা ছেলে মেয়েরা যে বিপদ মাথায় নিয়ে পড়ে রইল মাটি কামড়ে,সাথে সাথে জাতীয় চ্যানেলের অঞ্চল ভোরা,অরুনিমা,কানওয়াল বা সম্বিত,মিডিয়ার সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাটা আবার সামনে এল।বিপনন-বিজ্ঞাপন সর্বস্বতার পাশেও কমিটমেন্ট আর পেশাদারীত্বের মুনশিয়ানা—প্রত্যক্ষ করেছেন সকলেই।

এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই যে বাংলার চ্যানেলের উপরোক্ত গূণগুলো নেই।পঞ্চায়েত এ দেখেছি,লোকসভায়,বিধানসভায়,রোজকার আলোচনার নামে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি---সব কি অনায়াস দক্ষতার সাথে সামলে নেয় এই ভূমিপুত্র সাংবাদিককূল বা তাদের নিয়োগকর্তা চ্যানেলগণ,এ সবই প্রত্যক্ষ।এহ বাহ্য,ইস্কুলের ভোটে পুলিশকে গুলি করে খুনের লাইভ টেলিকাস্ট কে ভুলবে?

তবে গোলটা বাধছে কোথায়??সাবালকত্বের অভাব,তা তো নয়।আজকের কর্পোরেট শাসিত মিডিয়াকুল ভীষণ ভীষণ ডিসিপ্লিন্ড।এখানে প্রতি পদক্ষেপে দায় বা দায়িত্ব এক চুলও এ-দিক ও-দিক হয় না।ওপর থেকে নীচে বা নীচে থেকে উপরে—সর্বত্র নিক্তি মেপে চলা।

আসলে এখানেই সেই গ্র্যান্ড ডিজাইনটা সামনে চলে আসে।দুগগাপুজো আমাদের সামাজিক উৎসব আর গোটা রাজ্য জুড়ে এই সময়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার হাতবদল হয়।সত্যি বলতে কি আজ এই পূজার বাজার দুনিয়া জুড়ে।তাই কাউকে নিজের কাজ ফেলে ২৭৩ টা পূজার উদবোধন সারতে হয়,তার পেছনে ছোটে বুম হাতে চ্যানেলের দল,লাখ লাখ টাকার পুরস্কার,স্পনসরস---বিপনন,বিপনন,বিপনন।সব দায় আর দায়িত্ব ভাগ করা আছে।আমার ছেলেপুলেরা কেউ পুরী,কেউ গোপালপুর কেউবা কলিংগপতনম ছুটবে,তুমি ভিসার ব্যবস্থা কর জুরিখের। আমি নয় লাখ লোকের গৃহহীন অবস্থাটা দেখাব,তুমি ঢাক পিটিয়ে ধুনুচি নাচো।গোটা পূর্ব উপকূলের একটা বিশাল এলাকা যখন ধ্বংসস্তুপ তখন সব কটা বাঙ্গালীর এন্টারটেনমেন্টের দায়িত্ব তোমার।আহা বেচারাদের সোমবচ্ছর কত কিছু নিয়ে ভাবতে হয়-দাদা থেকে দিদি,পাহাড় থেকে সাগর---চেটেপুটে খাক এই চারটে দিন,মেতে থাক উৎসবে।কেউ যদি শুধু ল্যাদই খেতে চায় তার জন্যও আয়োজনের কমতি না থাকে,সেটার খেয়ালও রেখ।

কেউ একজন বলেছিলেন আমরা সেই কথাই ভাবি যা আমাদের খবরের কাগজ ভাবতে বাধ্য করে।কাল ভেদে এখন কুশীলব বদলেছে,ভাবনাটা অবিকৃতই আছে।



মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ৩য় বর্ষ ৩য় সংখ্যা

সম্পাদকীয়


পুজো এসে গেল । যদিও চারদিকে কাশের মেলা নয়, স্তূপীকৃত কাদা রাশি রাশি। দুর্গা এবার দোলায় আসছেন, সঙ্গে চার ছেলে-পুলে। পথে আসতে বৃষ্টি তে বর্ষাতি জোগাতে হলে, আপনি নতুন জামা-কাপড় কেটে ছাতা বা রেইনকোট বানাতেই পারেন, তাতে নো আপত্তি। তবে হ্যাঁ, আপনার ওই টেবিলে রাখা পুজো সংখ্যার পাশে এই ই-ম্যাগ টি রাখতেই হবে।আমাদের এবারের স্লোগান “ক্ষেপতে গেলে পড়তে হবে” ...

দুর্গা ... দুর্গতি নাশিনী । তিনি এবারে কি কি দুর্গতি দূর করবেন জানা নেই। তবে যেভাবে হালে ধর্ষণ, খুন, ছিনতাই-ইত্যাদি ইত্যাদি (আরও বিস্তারিত তো আপনারা রোজ খবরের কাগজেই পান, আর নাই বা জ্বালালাম) বেড়েছে তাতে দশ হাত বা অস্ত্র কুলোবে কি?? যাই হোক দেবীর কাজ দেবী করুন বা না করুন, আমরা ক্ষ্যাপার দল আপনার জন্যে, এক বাক্স কবিতা ও সাহিত্যের ক্ষ্যাপামি হাজির করলাম, প্রতিবারের মত।

থিম পুজোর মত আমাদের ও থিম অবশ্যই আছে, সেটা হোল - আমাদের এবারের স্লোগান “ক্ষেপতে গেলে পড়তে হবে” ...

কিভাবে ক্ষেপবেন? কেন ক্ষেপবেন? পুজো সংখ্যায় আবার ক্ষ্যাপামি কিসের ??

এই ক্ষ্যাপামি আপনাদের এই বৃষ্টি মাখা শরতে প্রাণে একরাশ কাশের সুগন্ধ দেবার জন্য। যখন কাঁদা প্যাচপ্যাচে হয়ে ঘরে ফিরে ‘ মুখোমুখি বসিবার’ ইন্টারনেট তখন... ক্ষেপুর ক্ষ্যাপামি আপনাদেরই জন্যে।

এবারে বিশেষ ‘পুজো সংখ্যা’ । আমরা কৃতজ্ঞ সকল লেখকের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায়। শুধু লেখক নন যারা আমাদের এই যজ্ঞে ফুল, বেল পাতা যোগাচ্ছেন নিরন্তন তাদের ও ...

আর কথা না বাড়িয়ে চলুন চোখ রাখি, লেখার পাতায়...

পুজো ভালো কাটান, আর ভালো তো থাকতেই হবে, কারণ এখন যে সঙ্গে সর্বদা  ‘দুগ্গা দুগ্গা’ ...



ক্ষেপচুরিয়ানস্ সম্পাদকমন্ডলীর পক্ষে
ঊষসী ভট্টাচার্য

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ৩য় বর্ষ ২য় সংখ্যা

সম্পাদকীয়

"আমি তাইত পাগল হইলাম না মনের মতো পাগল পাইলাম না,
সবাই বলে ‘আমি পাগল’ আসল পাগল কয়জনা।
যদি একটা পাগল পাইতাম আমি তার সাথে পাগল হইতাম,
আমি ভালো মানুষের ভালবাসা তাই জীবনে চাইলাম না।

আছে অনেক সেয়ান পাগল মতলবের মদ খায়
এই জগতে আসল পাগল চেনা বড় দায়
তাই বলি সভায় বিনয় করি – আমায় দাওনা একটা পাগল ধরি
আমি পাগল হইতাম, পথে রইতাম ঘরে নাহয় রইলাম না ।"

ক্ষেপচুরিয়াস - এই নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছি আমি , আপনি, আপনারা । দুনিয়া আসলে এক পাগলখানা আর আমরা তার অংশ ; তবে এতেও কিছু পার্থক্য আছে - কেউ পাগল প্রেমে , কেউ কবিতায় , কেউ ধোঁকা দিতে আবার কেউ বা সেয়ানা পাগল ! মোদ্দা কথা সম্প্রদায় আসলে দুটো - 'নির্বোধ আর বুদ্ধিমান', শঙ্খ ঘোষ একথা কবেই তার কবিতায় বলে দিয়েছেন ।

এই আষাঢ় মাসে নিয়মমাফিক এই ব্লগ্‌জিন , তবে মাসটা যেহেতু বরষার তাই ভেজা ভেজা কিছু লেখা এই সংখ্যায় আছে ! অনেক পরিশ্রম করেই চেষ্টা করেছি এই সংখ্যাটি যাতে গুনমান বজায় রাখতে পারে , চেষ্টা করেছি ব্যক্তিগত সম্পর্ককে দূরে রেখে লেখা নির্বাচনের । অনেক লেখাই এসেছে , তার মধ্যে থেকে বেছে নিয়েছি এবারের লেখকতালিকা । ভুল , ত্রুটি হলে তার দায় একান্তভাবেই আমার , আর কারো নয় । এবারের সংখ্যায় থাকছে গুচ্ছ কবিতা ,এছাড়া আছে কিছু অনবদ্য গল্প , ব্যাক্তিগত গদ্য, নবীন- প্রবীণ মিলিয়ে কিছু কবিতা ও অন্যান্য নিয়মিত বিভাগ ; আশা করি সবার ভালো লাগবে । ভেজা ভেজা দিনে , ইলিশমাছ সহযোগে পড়ে ফেলুন এই সংখ্যা, যদিও ইলিশের যা দাম !

পরিশেষে বলি : কবিতার জন্য , সাহিত্যের জন্য এই কাঙালপনা ~ ছড়িয়ে পড়ুক দিক্বিদিকে । সামনেই মা আসছেন তার ছানাপোনা নিয়ে , সব্বাই মেতে উঠুন প্রাণের উৎসবে । কিন্তু মনে রাখুন সেই মানুষটিকে যে একফোঁটা ভালোবাসার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে পথে-প্রান্তরে, মনে রাখুন সেই শিশুটিকে - যার গায়ে হয়তো এবারও জামা উঠবে না , মনে রাখুন সেই বন্ধুকে যে একদিন আপনার খুশি চেয়ে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছিল । ভালো থাকুন , ভালো রাখুন ।।



মিলন চট্টোপাধ্যায় ও পৃথা রায়চৌধুরী

উত্তর সম্পাদকীয় - অরিন্দম চন্দ্র

সংস্কার
অরিন্দম চন্দ্র



“সংস্কার” শব্দটির একটি আলাদা দ্যোতনা রয়েছে আমাদের মনে।শব্দটির অভিঘাত আমাদের নিয়ে যায় কয়েক শতক আগে যখন রামমোহন রায় বা বিদ্যাসাগর বা হেয়ার সাহেব বা ডিরোজিও সাহেবের নেতৃত্বে আমাদের দেশের শিক্ষা বা সমাজ নীতির আমূল পরিবর্তন হয়েছিল।আজ ২১ শতকে এসে আমরা নতুন করে যে “সংস্কার” শব্দটি দেখি তার অভিঘাতে শুধু শিক্ষা নয়,এ দেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে আরো একটি পরিবর্তন এসেছে।কিন্তু প্রশ্ন কার জন্য এই “সংস্কার” ??

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের অর্থমন্ত্রী হয়ে দেশের “হাল” ধরতে প্রায় বিশ বছর আগে ব্যাপক অর্থনৈতিক “সংস্কার” কর্মসূচী ঘোষণা করেন তার পর থেকে একের পর রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প বিক্রী হতে থাকে,দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ জলের দরে দেশী-বিদেশী রাজপ্রভুদের করায়ত্ব হয়,দেশের পরিষেবা ক্ষেত্র উন্মুক্ত হয় অবাধে।ঠিক সেই সময়ে ধুয়ো তোলা হয় বিদেশী পুঁজির অনুপ্রবেশে দেশের অর্থনীতি চাংগা হবে,বেকারী কমবে,মানুষের আয় বাড়বে।এবং সাথে আসে TINA FACTOR ---THERE IS NO ALTERNATIVE...আন্তর্জাতিক মূদ্রা কোষ,বিশ্বব্যাঙ্ক আর বিশ্ববানিজ্য সংস্থার চাপে দেশের মানুষকে গেলানো হয় “সংস্কারের” নয়া দাওয়াই।অবাক হবার কিছুই থাকে না যখন প্রধান বিরোধী দল ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার সাথে সাথে একই জুতোয় পা গলায়---রাজা আসে যায়,লাল জামা গায়,নীল জামা গায়,রং পাল্টায়,দিন পাল্টায় না...

আজ দেশের সামনে আরেক নতুন সঙ্কট উপস্থিত।রাজপুরুষদের ধোঁকার টাটিটি এবার পুরো উন্মুক্ত।২০০৮ সালের পর থেকে দুনিয়া জোড়া আর্থিক সঙ্কটে এই দেশ কিছুটা হলেও INSULATED ছিল তার মূল কারণ এ দেশে এখনো কিছু রক্ষাকবচ সাংবিধানিক পথে দেশের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে।যেমন ব্যাঙ্ক বা বীমা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রয়ত্ব উদ্যোগের প্রাধান্য বা বিদেশী পুঁজির অনুপ্রবেশ স্বত্তেও এ’দুটি ক্ষেত্রে এখনও তেমন কিছু বিপদ ঘটাতে পারে নি,কারণ ঐ সাংবিধানিক রক্ষাকবচ।২০০৮ এ আমেরিকা সহ প্রায় সব ধনী দেশগুলি তাদের দেশে যে আর্থিক সুবিধার প্যাকেজ দান করে তার জন্য এদেশের বাজারও সুফল পায়।আজ যেই মাত্র ডলার চাঙ্গা হয়েছে দেশের বাজার থেকে ডলার উধাও।প্রজাপতি পুঁজি ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে মধুর সন্ধানে যাবে এটাই এই পুঁজির নিয়ম।ফলতঃ,ডলার এর দাম এক টাকা বাড়লে দেশের ৮৮০০ কোটি গলে যায়,তেলের দাম বাড়ে,রাজকোষ খালি হয়ে যায় আর কি!!!রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর মাঝে প্রায় মুখ দেখাদেখি বন্ধ,আমদানী করা হল নব্যযুবক এক গভর্নরকে,তিনি এসেই কিছু নিদান দিলেন,শেয়ার বাজার উঠলো,ডলারের দাম কমল,রাজপুরুষগণ ধন্য ধন্য শুরু করলেন এবারকার মত বচ গ্যায়া শালা।

কিন্তু সমস্যার গোড়ায় গলদটাই রইল অধরা।বিশ বছরের সংস্কার এই দেশকে আজ এমন এক যায়গায় খাড়া করে দিয়েছে যেখানে সামান্য সমস্যা হলেই দেশের মাল-জানের হেফাজতের দায়িত্বের লোকেরা আবারো “সংস্কার” করতে উদ্যত হন।অস্যার্থে,আবার কিছু রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পের জলের দরে বিক্রী,আরো কিছু মানুষের পেটে লাথি,আরো কিছু নেতার পকেট ভারী।ভাবনার কথা,এই টালমাটাল সময়ের মধ্যেই সরকার পাশ করে নিয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন,পেনশন আইন যার মধ্যে অন্যতম।আজ দেশের যে কয়জন হাতে গোনা সাধারণ মানুষ এই সামাজিক সুরক্ষা কবচের আওতায় পড়েন আগামীতে তাদের রক্ত জল করা টাকা খাটবে শেয়ার বাজারে।সাথে রয়েছে আগামী অধিবেশনেই বীমা ক্ষেত্রে আরো বিদেশী পুঁজির রাস্তা খোলার অঙ্গীকার,সোজা বাংলায় একুল ওকূল দুই কুলই যাবে।

লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে দেশের মিডিয়ার কল্যানে “রাগা” বনাম “নমো”-র তাল ঠোকাঠুকি বাড়ছে।একজন বংশমর্যাদায় রাজপুরুষ,আরেক জন দক্ষিণপন্থার এই মুহুর্তে সব চেয়ে বড় মুখ।কিন্তু কোথাও এঁরা একবারের জন্য কবুল করছেন না ক্ষমতায় এলে এই “সংস্কার” কর্মসূচীকে বন্ধ করব।কারণ প্রধানমন্ত্রীর বাড়ী যেতে গেলে ওয়াশিংটন হয়ে যাওয়াটাই আজ দস্তুর।আশা জাগে,এইবার অন্ততঃ নেতা নয় নীতির ভিত্তিতে নতুন সরকার আসুক, “সংস্কার” শব্দটি তার প্রাপ্য যথার্থ দ্যোতনা পাক।

বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ২য় বর্ষ ১৩ম সংখ্যা

সম্পাদকীয়


বিশেষ গদ্য সংখ্যা

বিশ্বের এই বৃহত্তম গণতন্ত্রের দশা মোট ছেষট্টি বছরে যা হয়েছে, তা আশা করি স্বাধীনতার সময় কেউ স্বপ্নেও ভাবেননি। আজ, এই মূহুর্তে দাঁড়িয়ে একটি অসহযোগ আন্দোলন অথবা একটি ভারত ছাড়ো আন্দোলন হয়তো তখনকার থেকে ছেষট্টি গুণ কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সাথে এদেশের অর্থনীতি ঔপনিবেশিকতার গ্রাসে ছেষট্টি গুণ বেশী বন্দী। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম ছেষট্টি গুণ বেড়ে গিয়েছে। বিশ্বমুদ্রা ইউ. এস. ডলার ভারতীয় টাকার ছেষট্টি গুণ হয়ে যাবে অচিরেই। মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে গল্পমালা তো আঙুলেই রইল জপবন্দী হয়ে ! এ এমন এক অদ্ভূত দেশ, যেখানে দড়মার বেড়া আর খড় থেকে শুরু করে প্লাস্টিক পেন্ট পর্যন্ত সবই বাড়িঘর বানানোর কাজে লাগে। যত লোক ছাতের তলায় শোয়, তার প্রায় সমান বা আরো বেশী লোক আকাশের তলায় ! লিখতে লিখতেই হঠাৎ মনে পড়ে গেল, একবার কালিপূজোর মেলায় বাবার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে পায়ের কাছে চোখে পড়ল, একটি ইঁটের উনুনে চাপানো কড়াই। বাবা আঙুল তুলে দেখাচ্ছেন, ‘দেখো বাবু, কি অভাগা দেশ ! একদিকে ফাস্ট ফুড কর্ণার, লোকে মহার্ঘ্য সব খাবার কিনে খাচ্ছে। আর তারই পাশে মহিলা আলুসেদ্ধ বিক্রি করে অন্নসংস্থান করতে বসেছেন।’ আমি আজও বুঝে উঠতে পারিনি, সেদিন মহিলা কি সেদ্ধ করছিলেন। আলু সেদ্ধ কি কেউ রাস্তায় পয়সা দিয়ে কেনে নাকি ? জানি, এই প্রশ্ন আদৌ নীরিহ নয় ! অর্থনীতি কান টেনে বলবে, ওই মহিলার মূলধন দিয়ে চাউমিন কর্নার বানানো যায়না, আলুসেদ্ধ-ই যায় ! কিন্তু, ছেষট্টি বছর পরেও এই যে তথাকথিত বৈষম্য চাক্ষুষ করছে এক কিশোর, তার শৈশবটিই তো এসব দৃশ্য দ্বারা সিজন্‌ড হয়ে গেল ! বড় হয়ে এই সহ্যক্ষমতা আমি পাচার করে দিচ্ছি আমার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে, এভাবেই চেন রিয়্যাকশনে সর্বংসহা হচ্ছে দেশ !

ক্ষেপচুরিয়াস গ্রুপ সারা বিশ্বের কবিতাপ্রিয় বাঙালীর খেলাঘর। তবু, ছেষট্টি আগে স্বাধীন হওয়া এই ভূখণ্ডে বসে যখন ক্ষেপচুরিয়ান্‌ ভারতের স্বাধীনতাদিবস সংখ্যার সম্পাদকীয় লিখছি, তখন শিহরন বইছেই মনে মনে। এহ বাহ্য, দুহাজার তেরো সনের ক্ষেপু ব্লগ অন্যান্য কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সাধের ক্ষেপচুরিয়াস আজ মুদ্রিতরূপে সেজে উঠেছে। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি ক্ষেপুর কাছে এ এক বিরাট খবর ! অনেক পরিশ্রম, অনেক মানঅভিমানে চয়িত এই গ্রুপের সর্বাঙ্গ যদিও, অনেকাংশে ধন্যবাদ রাখে, সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে – প্রতিটি ক্ষেপু কাছেই। এই স্বাধীনতা দিবসেই ক্ষেপচুরিয়াস প্রিন্টম্যাগ প্রকাশ হচ্ছে, আশা করা যাচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।

স্বাধীনতাদিবসে বিশেষ গদ্য সংখ্যা রাখা হল। বাছাই করে নয়, পুরোপুরি আমন্ত্রণের ভিত্তিতে ছোট গল্প, প্রবন্ধ এবং মুক্তগদ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এই সংখ্যার জন্য। প্রতিটি লেখার নির্যাস, বলাই বাহুল্য, পনেরোই আগস্ট ! একই সাথে, এই সংখ্যা থেকে শুরু হল একটি নতুন বিভাগ, “হৃত বিস্মৃত হৃদবিধৃত”। বরনীয় বাংলা কবিদের কবিতায় স্মরণ করব আমরা, প্রতি সংখ্যায়, এই বিভাগে।

অলমতি বিস্তারেন, লেখারা নিজেদের কথা নিজেরাই বলবে। একটি প্রায়-অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে শেষ করি।

মফঃস্বল তো মফঃস্বলই থেকে যায় ! আজ নৈহাটী শহরে “এস্থেটিক” নামে একটি নতুন নাট্যদল আত্মপ্রকাশ করল। প্রথম উপস্থাপনা তাদের নিজস্ব একটি একাঙ্ক – ‘সাজানো নয়’। ‘সাজানো ঘটনা’ শব্দবন্ধটি ইদানিং বাংলার খবরবুভূক্ষু জনতা খুব খেয়েছে। খুব মোটা দাগের একটি পথনাটক, থার্ড থিয়েটারের দর্শক-অভিনেতা সংযোগের আদর্শ কারিকুরিসহ প্রসেনিয়ামে মঞ্চস্থ হল এবং অবধারিত হাততালি পেল প্রচুর। সমস্যা সেখানে নয় ! কথা হচ্ছে, এত ব্যাপকভাবে গণসংস্কৃতির স্রোত ধাবিত হতে বাধ্য হয় ধর্ষনের বিরোধীতা করতে, নারীনির্যাতন রুখতে। অশীতিপর কবিসাহিত্যিককে রাস্তায় নামতে হয় নারীর অসম্মানের প্রতিবাদ করতে ! এবং সেজন্যে তার নিন্দা করেও রীতিমত দৈনীকের সম্পাদকীয়, উত্তর-সম্পাদকীয় লেখা হয় ! এসব কথা যখন স্থির হয়ে ভাবতে বসি, প্রতিবাদ নয়, ঘৃণা নয়, একদলা লজ্জ্বা উঠে এসে বাকরুদ্ধ করে ! তখন মনে হয় – এ সমাজের আর কি অবশিষ্ট আছে, যে এখানে বসে এখনো সাহিত্যচর্চা ফলপ্রসূ হবে ?

ক্ষেপচুরিয়াসের পক্ষে অত্রি ভট্টাচার্য্য

শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ২য় বর্ষ, ৯ম সংখ্যা

সম্পাদকীয়


সাদা পাতায় খুঁটিনাটি গুছিয়ে দুচার মুহূর্ত ঝাপটানো শুনতে পাচ্ছি। কল্পনায় একটু একটু পবিত্র হয়ে উঠছে সমস্ত শব্দ। জীবন আর ভালো। অনবরত জড়িয়ে যাচ্ছে আমাদের ভালো থাকাটা কবিতার উপত্যকায়, যাতে "জীবনের প্রতি মুহূর্তে rejection জড়িয়ে আছে" ।

তাই ভাস্কর চক্রবর্তী বলেছেন -


"কবিতায়, সমাজ, দেশ পালটানো যায় কিনা এসব কথার মধ্যে অজথা না জড়িয়ে ভবিষ্যৎ আর আরো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুপ্ত সাংকেতিক ইশারা কিছু রেখে যাওয়া, একজন কবির কাছে মনে হয় অনেক ভালো ।"


বাকিটুকু নাহয় থাক পাঠকের কল্পনার জগতে, একেবারে তার মনের মনিকোঠায় –

আমরা অনবরত হেঁটে যাচ্ছি আগুনে , একের পর এক চিতা সাজিয়ে নিচ্ছি বাস্তবের ইমারতে...

চলচ্চিত্র জগতের ‘হীরের আংটি’ সম্প্রতি হারিয়ে গিয়েছে। ‘ঋতু’ অবসান হয়না যদিও, তবু প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষকে হারিয়ে বাংলা এখন বর্ষণ মুখর ... অসময়ে বর্ষা কেবল প্রকৃতিতে নয়, আমাদের প্রত্যেকের মনেই ...

আমরা শোক স্তব্ধ, তবু হেঁটে যাওয়াই নিয়ম। ‘অসুখ’ বুকে করে হেঁটে যাব , মেতে থাকব রোজের ‘দহন’ ‘উৎসব’ এ !

১লা জুন, ২০১৩



ক্ষেপচুরিয়ানস্-এর পক্ষে
সম্পাদকমন্ডলী

সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৩

শিল্পকলা - গৌরব রায়


শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ১ম সংখ্যা ২য় বর্ষ




সম্পাদকীয়


বইমেলা। এখন চারিদিকে রৈ রৈ হৈ হৈ মেলা মেলা বই বই... এসবের মধ্যেও ক্ষেপচুরিয়ানরা চলেছে তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে! নির্দিষ্ট লক্ষ্যে; কবিতার লক্ষ্যে। অজস্র নতুন নতুন কবিতা ভাবনা, কবিতার নির্মাণ আবার তা নিয়ে বিশদে আলোচনার নিরন্তর প্রবাহ প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে “ক্ষেপচুরিয়াস”এর শিরায় শিরায় (শাখাগ্রুপগুলিতেও)। আর এভাবেই যেন কবিতা পাচ্ছে পূর্ণতা। কবিতা পাচ্ছে নবকলেবর। প্রকাশিত হচ্ছে কবিতার বই। কবিতা-বিষয়ক বই। প্রকাশ পাচ্ছে গ্রুপের প্রিন্টেড ম্যাগাজিনও। সব মিলিয়ে মেলাপ্রাঙ্গণের লিট্‌ল ম্যাগের পাভিলিয়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকাশনার স্টলে স্টলে সর্বত্রই ক্ষেপচুরিয়ানদের সহজ, সাবলীল ও অবাধ বিচরণ লক্ষ্যণীয়। গ্রুপের সদস্যেরা আজ আর শুধু আন্তর্জালেই আটকে নেই বরং তাঁরা ভীষণভাবে ছড়িয়ে পড়ছে মিলনমেলা, আকাদেমি চত্বর কিংবা বইপাড়ার অন্ধি-সন্ধিগুলোতে। ছড়িয়ে পড়েছে ওপার বাংলাতেও। বাংলাদেশের কবিবন্ধুদের মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, আজ একথায় জোরের সাথেই বলা যায় যে, পৃথিবীর যেখানেই বাংলাভাষী আছেন সেখানেই আছে এই “ক্ষেপচুরিয়াস” । সুতরাং, ভারত-বাংলার কাঁটাতারই নয় বিশ্বের কোনো কাঁটাতারের বেড়াই মানে না ক্ষেপচুরিয়ানরা। আর তাই আমাদের প্রাথমিক প্রচেষ্টা এই ব্লগজিন এগিয়ে চলেছে তার স্বচ্ছ্বন্দ গতিতেই।


আশা রাখি, আপনাদের সকলের পূর্ণ সহযোগিতায় আগামীদিনে এই “ক্ষেপচুরিয়াস” শুধু কবিতা নয়, শুধু সাহিত্য নয়, বাংলাভাষার জন্য আরো বিরাট কর্মযজ্ঞের কাণ্ডারী হবে! আসুন বন্ধুরা, আমরা সকলে মিলে সাহিত্যনির্মাণের মাধুর্যে প্রতিবাদী বাংলাভাষার স্নিগ্ধসৌষ্ঠব বজায় রাখি।


“ক্ষেপচুরিয়াস”এর পক্ষে বাণীব্রত কুণ্ডু।

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২

সম্পাদকীয় - ১২তম সংখ্যা ১ম বর্ষ

সম্পাদকীয়


বুকে ফুলে ওঠা সদ্যোজাত ঘা নিয়ে শেষ হতে চলল আমাদের ডিসেম্বর। ফুটপাথ, বাস, ট্রাম আরও একবার ঘোষণা করল স্তনের উত্তরাধিকার মাতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অতএব আগামী শিশুর ঠোঁটে লেগে রইল ধর্ষক নখ আর নিকৃষ্ট দাঁতের হায়েনা-কামড়। এই নিয়ে মোমযাত্রা থেকে কেক উৎসবে আমরা আমজনতা জলের মতো পাত্র বদল করছি আবার। আজও এ যাত্রা শুভ হোক তোমার হে রসিক পাবলিক।

দেখো অজস্র ছুপারুস্তম কনুই এখনও কেমন ঘৃণা কুড়চ্ছে তাত্ত্বিক নির্লজ্জে।কিছু সন্তান মুখ ভ্রুর নীচে বিরক্তি ভরে আজও পাদানি ছেড়েছে। এই বোধ থেকেই ফুলকির মতো জড়ো হয়েছে স্বেচ্ছাচারী ধর্ষণ প্রতিভা। এই অধিকারই ১৬ ই ডিসেম্বর ঘটিয়ে ফেলল সবচেয়ে ঘেন্নার দিন, আমারই হব্বিস্যি থালায়। আমিও শুনে নিলাম ২৩ মেয়ের জরায়ু ফাটার আর্তনাদ!!

কেউ শোনেনি আহা এমন নৈশ্বয়িক ইস্পাত বধের রাত!! গোটা জাতির চোখ আজও কি নিরোধে ঢাকা!!

তবু শুনে রাখুন হে রসিক পাবলিক, তখনও ১৬ বার কিন্তু অপারেশন হয়নে, তখনও জরায়ুর প্রাপ্যে পৌঁছায়নি এ সভ্যতার এক হাত রড।


ঠিক এই মাত্র ঘটে গেল গলা গলা - সামাজিক মৃত্যু যখন আপনারা এ সম্পাদকীয় পড়ছেন।

যখন অসংখ্য চ্যাট বক্সের সবুজ আলোয় কেঁপে কেঁপে উঠছে হত্যার মত ২৩ বছরের মুখ।যখন নিউস চ্যানেল গুলো সেকেন্ডের মধ্যে টিআরপি ছড়িয়ে নিল বিনিময় প্রথায় তখন ভয়ঙ্কর মিথ্যের সাথে মরে লড়ে গেল অকালের তেইশ।বলে গেল, যে পথ দিয়ে পুরুষের প্রথম মুখ পেড়িয়েছ চৌকাঠ, সে পথে আজও একহাত রডের সবচেয়ে দানবীয় আঘাত চুঁইয়ে গলে পড়ছে আমাদের অক্ষমতা।যে হাত দিয়ে তুমি পেন্সিল ধরেছ, আজ সেই হাত গুলোর প্রত্যেকে ধরেছে বিষাক্ত রড।

অমর বাউল কণ্ঠ-
‘কত লক্ষ যোনি ভ্রমণ করে
এই মানব জনম পেয়েছি রে’
স্বরলিপিরা মৃত্যু উপত্যকা থেকে জেনে নিচ্ছে এসব। আমাদের মোমবাতি প্রার্থনা আর কতদিন চলবে এও জেনে নিল নিথর দেহটা!

কবে নিভে যাবে তা নতুন ছবির বিজ্ঞাপনে? প্রশ্ন শুনিয়ে নিল নার্সিং হোমের বাকি কাঁচগুলো। শীত আর একটু বেশি পড়লেই তো আন্দোলনের হাত কমতে কমতে আগুন সেঁকে নেবে। ভুলে যাবে এক্সপায়ারড টিয়ার গ্যাস, লাঠি চার্জ। কমিশনারের জুতোর নীচে যুবকের মুখ আরও একবার বিকৃত হবে আবার কোনো ডিসেম্বরে।


ততদিনে নতুন বছরের শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দেব আমার ওয়াল। ভিজিয়ে নেব কবিতায় তোমার স্ট্যাটাস। আকাশের বারোটায় কুঁদে উঠবে গোটা জাত তখন হিন্দোল সম্বর্ধনায়। আমিও জানাব আমার পয়লা জানুয়ারির শুভেচ্ছা। ততদিন ইতিহাস হয়ে যাবে বিশ্ব উইকিপিডিয়ার সম্পত্তি। ততদিন শুভেচ্ছা বিনিময় হোক নতুন বছরের। এই দুইদিন মৃত্যু চিনে নেওয়া আত্মার পক্ষে যথেষ্ট হবে আমাকে চিনতে। তোমাদেরও ভোলার পক্ষে যথেষ্ট নয় কি, রসিক পাবলিক?


প্রতিবারের মতোই অলংকরণ প্রচ্ছদের দায়িত্বে মেঘ অদিতি আর কৌশিক-বিশ্বাসের তুলি বিষয়কে রূপ দিয়েছে আর সুমিত-দার অক্লান্ত কবিতা প্রেমিক মন ও পরিশ্রম দিয়েছে এই ব্লগে আমাদের কলমের অলংকার ।



ক্ষেপচুরিয়াসের পক্ষে প্রলয় মুখার্জী