এই সংখ্যার কবি
ব্রততী চক্রবর্তী
কথকতা - ১
বুভুক্ষু কালাহান্ডির চোখে ফটফটে সাদা ভাত আর
রুদ্ধ নিঃশ্বাসে গরম ফ্যানের ঘ্রাণ !
তোর জন্য আগুন জ্বেলেছি ...
ভুল করতে করতে ভুলগুলো গান হয়ে যায়
আর আমার চানঘরে গুনগুন করে
পেন স্টান্ডে লাল-নীল-সবুজের শৌখিনতা
তবে বোবা কলমের আঁচড়ে রং থাকে না
প্রেত যোনির দীর্ঘ নিঃশ্বাস শুকিয়ে থাকে শুধু !
কথকতা - ২
হোঁচট খেয়ে পা যায় পিছলিয়ে --
আমি সটান পৌছে যাই এক বোধি জগতে ।
আমার চারপাশে গিজগিজ করে বাক্য শব্দ
ভিন্ন বর্ণ রকমফের আকারে
লম্বা বাক্য, খাটো বাক্য
শ্বেত বাক্য, নিকষ বাক্য
শ্লীল বাক্য, সেয়ানা বাক্য
রাজা বাক্য, প্রেত বাক্য ।।
আমি মিশে যেতে চাই গভীর অভিনিবেশে ;
ব্যর্থতা চিবুকে রাখে দিকনির্দেশ,
যে বাহারে ফুসফুসে অক্সিজেনের যোগান নেই
তার ফুরিয়ে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত ।
আমি আবার গোছ-গাছ করে নেই .
কথকতা - ৩
পাথুরে পথের রুক্ষতা শ্যামলী আলো
চোখ ভেসে যায়; শেষ রাতের ক্লান্ত চাঁদ
ভোরের আড়ালে তখন নিকষ সবুজ
আঁকা-বাঁকা পথ সরলরেখা গতি
বায়বীয় যত জটিল সূক্ত, অকারণ তত
কঠিন স্তোত্র; জাতকের কাহিনীর অনিয়ম
স্মৃতি-তর্পণ ! কোনো এক বিস্মৃত বিবর্তনবাদ
সচল কায়াময় -- মস্তিস্কের ধূসরতায় উত্তর
সেইসময় নিরুত্তর, সুপটু কোনো চিত্রকরের
নিপুণ কর চাপে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে যায়
দিগন্ত-বলয়; পার্থিব যাবতীয় স্থুলতা লহমায়
অনিকেত এবং সহজ ভারহীন শূন্যতা !
হৃদয় অবগাহনে নিরিবিচ্ছিন্ন নির্বিকল্প প্রশান্তি।
কথকতা - ৪
কোনো আবরণ রাখিনা তাই আড়ালটুকু শুধু
ঋণ - পরিশোধে বিব্রত মূলধন
এই নাকি উন্মুক্ত বাতায়ন ! পদব্রজে পার হয়
যুগাতি বর্ষ - এর জন্য !
সমস্ত আলোচনা মুলতুবি রাখি কোনো এক
নিস্পৃহ স্থিতিশীলতায়
এই মনের অনেক দন্দ্ব, মধ্যযামের ঘন্টাধ্বনি
আগুন জ্বালায়, ছটপট করি
বিরতির পর থাকতে পারে কিছু চমক
এমন ভাবি - হয়তো নির্বুদ্ধিতা
ঘোর ব্যাপারটা সম্পূর্ণ সাময়িক, বুঝেও
যা বুঝতে চাইনা --
কিছু অকারণ প্রশ্নবোধক আঁচড়ায় কামড়ায়
দুমরায় মোচরায়
হৃদয় থেকে চেঁছে ফেলি সমস্তকিছু যা
ঘটাতে পারে ছন্দপতন !
কথকতা - ৫
ওই খানে - ওই বেঞ্চির ওপর,
শিরদাঁড়া সোজা আর মুখের এক
তৃতীয়াংশ সূর্যের সমান্তরাল |
বেয়াদপ !কানে ঢুকছে না কথাগুলো !
ল্যাম্প পোস্টের গায়ে কাদার ছিটে,
ছাল ছাড়ানো মুরগির মত উল্টো ঝুলছে
শতাব্দীর সব বুদ্ধিজীবী শব্দেরা!
ফাঁকা ডাস্টবিন ময়লা ছড়ানো খাওয়ার
টেবিলের আশেপাশে, আবার সেইসব
ছ্যাবলামি রোজ সকালের দাঁত ব্রাশ
আর দুপুরের ভাতঘুমের মত হাই তোলে
ধমকানির শব্দটা শোনা যাচ্ছে না
হাতের তালু কানা -- এইসব বধির চোখ
আর এই বেতের শব্দে চমকাবে না,
শুভ বুদ্ধির গুরুদশায় সব নিয়ম নাস্তি !
কথকতা - ৬
আমার মতন করে আমাকে খুঁজে নিতে চাই
কিছু নিয়মিত সমীকরণ আর অকারণ আঙ্গিকে
আমার রোজকার ঘেন্না ! জিভের তলা সুড়সুড় করে
রং করা নখে চাপা পড়ে বিপ্লবের ইচ্ছা, সুযোগ বুঝে
আবার নেতিয়ে পড়ি ; তবু কোনদিন এভাবেই চেনা
চাঁদের অর্থ বদলে থাকে, অভ্যস্ত শীতলতায় কালি কলমে
ঘাড় গুঁজি - বুভুক্ষু কিছু ইচ্ছেকে লালন করি !
কথকতা - ৭
প্রতিটা অক্ষর ঋণ - দেউলিয়া ভাবনার জমা-খরচের
খাতায় বিস্তর ভুল আর কাটাকুটি |
প্রতি মুহুর্তে এক অস্তিত্ব সংকট !
বিপন্ন সৃজন আড়াল চায় -
এখন শুধু ঢেউএর সহজ টানের অপেক্ষা;
জোয়ারের ছোঁয়া এড়িয়ে জলে আলতো স্পর্শ,
ভেসে যেতে আজ বড় ভয় !
তবু ওই নিয়ম ভাঙ্গার ডাক বারবার
আমাকে অবশ করে - টেনে হিঁচড়ে
আনে নিরাপদ আরামের বাইরে !
আমার শব্দকে নিশি ভর করে
ঝাঁপ দেই পাগলামিতে !
ব্রততী চক্রবর্তী
কথকতা - ১
বুভুক্ষু কালাহান্ডির চোখে ফটফটে সাদা ভাত আর
রুদ্ধ নিঃশ্বাসে গরম ফ্যানের ঘ্রাণ !
তোর জন্য আগুন জ্বেলেছি ...
ভুল করতে করতে ভুলগুলো গান হয়ে যায়
আর আমার চানঘরে গুনগুন করে
পেন স্টান্ডে লাল-নীল-সবুজের শৌখিনতা
তবে বোবা কলমের আঁচড়ে রং থাকে না
প্রেত যোনির দীর্ঘ নিঃশ্বাস শুকিয়ে থাকে শুধু !
কথকতা - ২
হোঁচট খেয়ে পা যায় পিছলিয়ে --
আমি সটান পৌছে যাই এক বোধি জগতে ।
আমার চারপাশে গিজগিজ করে বাক্য শব্দ
ভিন্ন বর্ণ রকমফের আকারে
লম্বা বাক্য, খাটো বাক্য
শ্বেত বাক্য, নিকষ বাক্য
শ্লীল বাক্য, সেয়ানা বাক্য
রাজা বাক্য, প্রেত বাক্য ।।
আমি মিশে যেতে চাই গভীর অভিনিবেশে ;
ব্যর্থতা চিবুকে রাখে দিকনির্দেশ,
যে বাহারে ফুসফুসে অক্সিজেনের যোগান নেই
তার ফুরিয়ে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত ।
আমি আবার গোছ-গাছ করে নেই .
কথকতা - ৩
পাথুরে পথের রুক্ষতা শ্যামলী আলো
চোখ ভেসে যায়; শেষ রাতের ক্লান্ত চাঁদ
ভোরের আড়ালে তখন নিকষ সবুজ
আঁকা-বাঁকা পথ সরলরেখা গতি
বায়বীয় যত জটিল সূক্ত, অকারণ তত
কঠিন স্তোত্র; জাতকের কাহিনীর অনিয়ম
স্মৃতি-তর্পণ ! কোনো এক বিস্মৃত বিবর্তনবাদ
সচল কায়াময় -- মস্তিস্কের ধূসরতায় উত্তর
সেইসময় নিরুত্তর, সুপটু কোনো চিত্রকরের
নিপুণ কর চাপে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে যায়
দিগন্ত-বলয়; পার্থিব যাবতীয় স্থুলতা লহমায়
অনিকেত এবং সহজ ভারহীন শূন্যতা !
হৃদয় অবগাহনে নিরিবিচ্ছিন্ন নির্বিকল্প প্রশান্তি।
কথকতা - ৪
কোনো আবরণ রাখিনা তাই আড়ালটুকু শুধু
ঋণ - পরিশোধে বিব্রত মূলধন
এই নাকি উন্মুক্ত বাতায়ন ! পদব্রজে পার হয়
যুগাতি বর্ষ - এর জন্য !
সমস্ত আলোচনা মুলতুবি রাখি কোনো এক
নিস্পৃহ স্থিতিশীলতায়
এই মনের অনেক দন্দ্ব, মধ্যযামের ঘন্টাধ্বনি
আগুন জ্বালায়, ছটপট করি
বিরতির পর থাকতে পারে কিছু চমক
এমন ভাবি - হয়তো নির্বুদ্ধিতা
ঘোর ব্যাপারটা সম্পূর্ণ সাময়িক, বুঝেও
যা বুঝতে চাইনা --
কিছু অকারণ প্রশ্নবোধক আঁচড়ায় কামড়ায়
দুমরায় মোচরায়
হৃদয় থেকে চেঁছে ফেলি সমস্তকিছু যা
ঘটাতে পারে ছন্দপতন !
কথকতা - ৫
ওই খানে - ওই বেঞ্চির ওপর,
শিরদাঁড়া সোজা আর মুখের এক
তৃতীয়াংশ সূর্যের সমান্তরাল |
বেয়াদপ !কানে ঢুকছে না কথাগুলো !
ল্যাম্প পোস্টের গায়ে কাদার ছিটে,
ছাল ছাড়ানো মুরগির মত উল্টো ঝুলছে
শতাব্দীর সব বুদ্ধিজীবী শব্দেরা!
ফাঁকা ডাস্টবিন ময়লা ছড়ানো খাওয়ার
টেবিলের আশেপাশে, আবার সেইসব
ছ্যাবলামি রোজ সকালের দাঁত ব্রাশ
আর দুপুরের ভাতঘুমের মত হাই তোলে
ধমকানির শব্দটা শোনা যাচ্ছে না
হাতের তালু কানা -- এইসব বধির চোখ
আর এই বেতের শব্দে চমকাবে না,
শুভ বুদ্ধির গুরুদশায় সব নিয়ম নাস্তি !
কথকতা - ৬
আমার মতন করে আমাকে খুঁজে নিতে চাই
কিছু নিয়মিত সমীকরণ আর অকারণ আঙ্গিকে
আমার রোজকার ঘেন্না ! জিভের তলা সুড়সুড় করে
রং করা নখে চাপা পড়ে বিপ্লবের ইচ্ছা, সুযোগ বুঝে
আবার নেতিয়ে পড়ি ; তবু কোনদিন এভাবেই চেনা
চাঁদের অর্থ বদলে থাকে, অভ্যস্ত শীতলতায় কালি কলমে
ঘাড় গুঁজি - বুভুক্ষু কিছু ইচ্ছেকে লালন করি !
কথকতা - ৭
প্রতিটা অক্ষর ঋণ - দেউলিয়া ভাবনার জমা-খরচের
খাতায় বিস্তর ভুল আর কাটাকুটি |
প্রতি মুহুর্তে এক অস্তিত্ব সংকট !
বিপন্ন সৃজন আড়াল চায় -
এখন শুধু ঢেউএর সহজ টানের অপেক্ষা;
জোয়ারের ছোঁয়া এড়িয়ে জলে আলতো স্পর্শ,
ভেসে যেতে আজ বড় ভয় !
তবু ওই নিয়ম ভাঙ্গার ডাক বারবার
আমাকে অবশ করে - টেনে হিঁচড়ে
আনে নিরাপদ আরামের বাইরে !
আমার শব্দকে নিশি ভর করে
ঝাঁপ দেই পাগলামিতে !
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন